ডিএনসিসির অভিযানের নবম দিনে ৬৫টি স্থাপনায় এডিসের লার্ভা

নিজস্ব প্রতিবেদক আপডেট: ২০২০-১১-১১ ১৮:৪০:১৪


এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) চলমান দশ দিনব্যাপী বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান (চিরুনি অভিযান) পরিচালিত হয়েছে।

অভিযানের নবম দিনে মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) ১৩ হাজার ৩২২টি বাড়ি, স্থাপনা ইত্যাদি পরিদর্শন করে ৬৫টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া, ৮ হাজার ৩১৩টি বাড়ি ও স্থাপনায় ময়লা-আবর্জনা ও জমে থাকা পানি পাওয়ায় সেখানে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা হয় এবং জমে থাকা পানিতে মশার কীটনাশক প্রয়োগ করে জমে থাকা পানি ফেলে দেয়া হয়।

এডিসের লার্ভা পাওয়ায় এবং অন্যান্য অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আজ ৬টি মামলায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। ডিএনসিসির সবগুলো ওয়ার্ডে (৫৪টি) একযোগে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এই চিরুনি অভিযান পরিচালিত হয়।

এদিন উত্তরায় (অঞ্চল-১) মোট ১ হাজার ১৮৮টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ১১টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এ ছাড়া ১ হাজার ৩৬টি বাড়ি, স্থাপনায় জমে থাকা পানি পাওয়া যায়।

মিরপুর-২ এলাকায় (অঞ্চল-২) মোট ২ হাজার ৭৯২টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ৪টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায় এবং ৩১০টি বাড়ি, স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

এডিসের লার্ভা পাওয়ায় আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এসএম শফিউল আজম এর নেতৃত্বে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২টি মামলায় ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

মহাখালী এলাকায় (অঞ্চল-৩) মোট ১ হাজার ৪২৮টি বাড়ি, স্থাপনা ইত্যাদি পরিদর্শন করে ১৮টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায় এবং ৯৭২টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এডিস মশার লার্ভা পাওয়ায় এ সময় আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল বাকী পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ২টি মামলায় মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

মিরপুর-১০ এলাকায় (অঞ্চল-৪) মোট ১ হাজার ৮২২টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে একটিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া ১ হাজার ১৭৮টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

কারওয়ান বাজারে (অঞ্চল-৫) মোট ২ হাজার ১৫১টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ১১টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া ১ হাজার ৮২৮টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

হরিরামপুরে (অঞ্চল-৬) মোট ১ হাজার ৩৮৩টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ৪টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া ১ হাজার ১৫৯টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এডিসের লার্ভা পাওয়ায় প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল হামিদ মিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ২টি মামলায় ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।

দক্ষিণখান এলাকায় (অঞ্চল-৭) মোট ৬৪২টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ৭টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এ ছাড়া ৫৩৮টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

উত্তরখান এলাকায় (অঞ্চল-৮) এর অধীনে মোট ৬৯৩টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ২টিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়। তবে ৪০৭টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

ভাটারায় (অঞ্চল-৯) মোট ৫০৬টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ৬টিতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া ৩৩২টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়।

সাতারকুল এলাকায় (অঞ্চল-১০) মোট ৭১৭টি বাড়ি ও স্থাপনা পরিদর্শন করে ১টিতে এডিসের লার্ভা পাওয়া যায়। এছাড়া ৫৫৩টি বাড়ি ও স্থাপনায় এডিস মশার প্রজনন উপযোগী পরিবেশ পাওয়া যায়। এসব জায়গায় কীটনাশক প্রয়োগ করে জমে থাকা পানি ফেলে দেয়া হয়।

সানবিডি/নাজমুল/০৬:৩৯/১১.১১.২০২০