ফার্মা খাতে বেড়েছে আগ্রহ

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২০-১১-২১ ১৪:৪৫:৫১ || আপডেট: ২০২০-১১-২১ ১৪:৪৬:৪৩

বীমা খাতের পরে মিউচ্যুয়াল ফান্ডের দর বৃদ্ধি হয়। সর্বশেষ গেলো সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস বৃহস্পতিবার সব গুলো সেক্টরকে পিছনে ফেলে লেনেদেনে খাত ভিত্তিক শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে ফার্মা খাত। এতে করে বিনিয়োগে আগ্রহ বেড়েছে ফার্মা খাতে। সর্বশেষ ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) মোট লেনদেন হয়েছে ৫৮৫ কোটি ৩১ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১৩১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা বা ২২.৩২ শতাংশ লেনদেন করেছে ফার্মা সেক্টোরের কোম্পানি গুলো।

ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গেলো সপ্তাহের শেষ কাযদিবসে ফার্মা খাতে ৩২টি কোম্পানির মধ্যে দর বৃদ্ধি পেয়েছে ১৬টি বা ৫০ শতাংশ কোম্পানির । দর কমেছে ২৫ শতাংশ বা ৮টি কোম্পানির । দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৮টি কোম্পানি বা ২৫ শতাংশের।

মোট লেনেদেনে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মিউচ্যুয়াল ফান্ড খাত। এ দিন খাতটিতে লেনদেন হয়েছে মোট লেনেদেনের ১৬.৬৩ শতাংশ বা ৯৮ কোটি টাকা। তবে এই খাতে সব গুলো ইউনিটের দর কমেছে।

লেনদেনে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে বীমা খাত। এ দিন বীমা  খাতে লেনদেন হয়েছে মোট লেনদেনের ১৩.৮৬ শতাংশ বা ৮১ কোটি টাকা। দিনটিতে কমেছে বেশির ভাগ কোম্পানির দর। দিন শেষে দর কমেছে ৩১ টি কোম্পানি বা ৬৪.৫৮ শতাংশের। দর বৃদ্ধি পেয়েছে ২৭.০৮ শতাংশ বা ১৩টি কোম্পানির। দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৮.৩৩ শতাংশ বা ৪টি কোম্পানির।

প্রকৌশল খাতে লেনদেন হয়েছে ৯.৫৩ শতাংশ বা ৫৬ কোটি টাকা। খাতটিতে ১৭টি কোম্পানির দর বেড়েছে। দর কমেছে১১টি কোম্পানির। দর অপরিবর্তিত রয়েছে ১২টি কোম্পানির।

পুঁজিবাজারের সব খবর পেতে জয়েন করুন 

Sunbd Newsক্যাপিটাল নিউজক্যাপিটাল ভিউজস্টক নিউজ

ব্যাংক খাতে লেনদেন হয়েছে মোট লেনদেনের ৯.১১ শতাংশ বা ৫৩ কোটি টাকা। খাতটিতে দর বেড়েছে ১৩টি কোম্পানির ।দর কমেছে ১৮টি কোম্পানির । দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৮টি কোম্পানির ।

বিবিধ খাতে লেনদেন হয়েছে মোট লেনদেনের ৪.৮৮ শতাংশ বা ২৮ কোটি টাকা। এ দিন বেশির ভাগ কোম্পানির দর বেড়েছে বিবিধ খাতে। দর বেড়েছে ৬টি কোম্পানির। দর কমেছে ৫টি কোম্পানির । দর অপরিবর্তিত রয়েছে ১টি কোম্পানির।

ফুয়েল এন্ড পাওয়ার খাতে লেনদেন হয়েছে মোট লেনদেনের ৪.৪০ শতাংশ বা ২৬ কোটি টাকা।  খাতটিতে দর বেড়েছে ৮টি কোম্পানির। দর কমেছে ১০টি কোম্পানির। দর অপরিবর্তিত রয়েছে ২টি কোম্পানির।

বস্ত্র খাতে লেনদেন হয়েছে মোট লেনদেনের ৩.৭৯ শতাংশ বা ২২ কোটি টাকা। খাতটিতে দর কমেছে ২২টি কোম্পানির। দর বেড়েছে ১৫টি কোম্পানির। দর অপরিবর্তিত রয়েছে ২০টির ।

টেলিকমিনিকেশন খঅতে লেনদেন হয়েছে মোট লেনদেনের ৩.০৫ শতাংশ বা ১৮ কোটি টাকা। এ খাতে দর বেড়েছে ১টি কোম্পানির ।দর কমেছে ১টি কোম্পানির।

খাদ্য এবং আনুষাঙ্গিক খাতে লেনদেন হয়েছে মোট লেনদেনের ২.৬৬ শতাংশ বা ১৫ কোটি টাকা। খাতটিতে দর বেড়েছে ১১টি কোম্পানির । দর অপরিবর্তিত রয়েছে৪টি কোম্পানির। দর কমেছে ২টি কোম্পানির।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে লেনদেন হয়েছে মোট লেনদেনের ২.৪২ শতাংশ বা ১৪ কোটি টাকা। খাতটিতে কোন কোম্পানির দর বৃদ্ধি পায়নি। দর কমেছে ১৬টি কোম্পানির। দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৬ টি কোম্পানির।

আইটি খাতে লেনদেন হয়েছে মোট লেনদেনের ২.৩০ শতাংশ, সিরামিক খাতে লেনদেন হয়েছে মোট লেনদেনের ১.৩৯ শতাংশ, আবাসন খাতে লেনদেন হয়েছে মোট লেনদেনের ০.৯৯ শতাংশ, সিমেন্ট খাতে লেনদেন হয়েছে মোট লেনদেনের ০.৭৮ শতাংশ, পেপার এন্ড প্রিন্টিং খাতে লেনদেন হয়েছে মোট লেনদেনের ০.৬৪ শতাংশ, চামড়া খাতে লেনদেন হয়েছে মোট লেনদেনের ০.৫৩ শতাংশ, ভ্রমণ খাতে লেনদেন হয়েছে মোট লেনদেনের ০.৪৭ শতাংশ, পাট খাতে লেনদেন হয়েছে মোট লেনদেনের ০.২৪ শতাংশ।

বিদায়ী সপ্তাহটিতে পুঁজিবাজারের প্রধান সূচক কমেছে। একই সঙ্গে লেনদেনে অংশ নেয়া বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দর এবং টাকার পরিমাণে লেনদেনও কমেছে।

জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে উভয় পুঁজিবাজার মিলে বিনিয়োগকারীরা ১১ হাজার ৪৩৭ কোটি ৫০ লাখ ৩৮ হাজার টাকা মূলধন হারিয়েছে। এর মধ্যে ডিএসইতে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস লেনদেন শুরু আগে বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৪৭৫ কোটি ৩৮ লাখ ৯০ হাজার টাকায়। আর সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস লেনদেন শেষে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ২৯৯ কোটি ৮২ লাখ ৬২ হাজার টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর বিনিয়োগকারীরা ৫ হাজার ১৭৫ কোটি ৫৬ লাখ ২৮ হাজার টাকা মূলধন হারিয়েছে বিনিয়োগকারীরা।

আর সিএসইতে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস লেনদেন শুরু আগে বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৩০ হাজার ৪৩১ কোটি ৬৮ লাখ ৬০ হাজার টাকায়। আর সপ্তাহের শেষ কার্যদিবস লেনদেন শেষে বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৪ হাজার ১৬৯ কোটি ৭৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইর বিনিয়োগকারীরা ৬ হাজার ২৬১ কোটি ৯৪ লাখ ১০ হাজার টাকা মূলধন হারিয়েছে।

বিদায়ী সপ্তাহে ৫ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ৩ হাজার ৯০৯ কোটি ১০ লাখ ৩৮ হাজার ৯০৬ টাকার লেনদেন হয়েছে। যা আগের সপ্তাহ থেকে ৬৪৭ কোটি ৩৩ লাখ ৮০ হাজার ৫৪১ টাকা বা ১৪.২১ শতাংশ কম হয়েছে। আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ৪ হাজার ৫৫৬ কোটি ৪৪ লাখ ১৯ হাজার ৪৪৭ টাকার।

ডিএসইতে বিদায়ী সপ্তাহে গড় লেনদেন হয়েছে ৭৮১ কোটি ৮২ লাখ ৭ হাজার ৭৮১ টাকার। আগের সপ্তাহে গড় লেনদেন হয়েছিল ৯১১ কোটি ২৮ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৯ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইতে গড় লেনদেন ১২৮ কোটি ৪৬ লাখ ৭৬ হাজার ১০৮ টাকা কম হয়েছে।

সপ্তাহের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৫.০৭ পয়েন্ট বা ০.৫১ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৮৭৯.৯৬ পয়েন্টে। অপর সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ১০.২৬ পয়েন্ট বা ০.৬০ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৭০১.৩৪ পয়েন্টে। আর শরিয়াহ সূচক ১১.৪৪ পয়েন্ট বা ১.০২ শতাংশ বেড়ে ১১২৮.৮৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

বিদায়ী সপ্তাহে ডিএসইতে মোট ৩৬১টি প্রতিষ্ঠান শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ৯৯টির বা ২৭.৪২ শতাংশের, কমেছে ১৯৯টির বা ৫৫.১২ শতাংশের এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৬৩টির বা ১৭.৪৫ শতাংশের শেয়ার ও ইউনিট দর।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বিদায়ী সপ্তাহে টাকার পরিমাণে লেনদেন হয়েছে ১১২ কোটি ০৩ লাখ ৮৫ হাজার ৪৮৭ টাকার। আর আগের সপ্তাহে লেনদেন হয়েছিল ১৫০ কোটি ৭৪ লাখ ৭৭ হাজার ৭৪৯ টাকার। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে সিএসইতে লেনদেন ৩৮ কোটি ৭০ লাখ ৯২ হাজার ২৬২ টাকা বা ২৫.৬৭ শতাংশ কমেছে।

সপ্তাহটিতে সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৯৯.৫০ পয়েন্ট বা ০.৭০ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৯৬৮.৩৭ পয়েন্টে। সিএসইর অপর সূচকগুলোর মধ্যে সিএসসিএক্স ৫৯.৬০ ও সিএসআই ১.৮৩ পয়েন্ট বা ০.২০ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৮ হাজার ৪১০.৯৮ ও ৯১০.৪৬ পয়েন্টে। তবে সিএসই-৩০ সূচক ২.৬৭ পয়েন্ট বা ০.০২ শতাংশ ও সিএসই-৫০ সূচক ০.৬৭ পয়েন্ট বা ০.০৭ পয়েন্ট বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ১১৪৭৩.৩০ ও ১০১৯.১৭ পয়েন্টে।

সপ্তাহজুড়ে সিএসইতে ৩১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেনে অংশ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৭২টির বা ২৩ শতাংশের দর বেড়েছে, ১৭৬টির বা ৫৬.২৩ শতাংশের কমেছে এবং ৬৫টির বা ২০.৭৬ শতাংশের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ