করোনার টিকা প্রয়োগ আগামী সপ্তাহেই শুরু, বিশ্বজুড়ে স্বস্তি
নিজস্ব প্রতিবেদক আপডেট: ২০২০-১২-০৩ ১২:২৬:৫১
করোনা ভাইরাসের টিকা অনুমোদন পাওয়ায় বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মহামারি অবসানের আশা সঞ্চার করছে বিশ্বব্যাপী।
এদিকে ফাইজার ও বায়োএনটেক উদ্ভাবিত করোনা ভাইরাসের টিকার অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাজ্য। পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যই প্রথম এই ভ্যাকসিনের অনুমোদন দিল। দেশটিতে করোনা সংক্রমণের সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ব্যক্তিদের দেহে আগামী সপ্তাহ থেকে এই ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বলেন, যেখানে একটা ভ্যাকসিন আসতে সাত-আট বছর সময় লেগে যায়, সেখানে ফাইজারের করোনা ভ্যাকসিন খুবই দ্রুত সময়ের মধ্যে অনুমোদন পাওয়ার সফলতা দেখিয়েছে। এটা আমাদের জন্য একটি সুখবর। বিশ্ববাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। প্রযুক্তির বিজয় হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ বলেন, ‘করোনার ভ্যাকসিনের বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। ভ্যাকসিন আসতে থাকুক। তবে আমরা যত দিন না পাব, তত দিন সবার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’
গত মাসের মাঝামাঝি ফাইজার ও বায়োএনটেক জানায়, তাদের ভ্যাকসিনটি কোভিড-১৯ থেকে ৯০ শতাংশ সুরক্ষা দিতে সক্ষম। সেই সঙ্গে এটি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত। কয়েক দিন পর গত ১৮ নভেম্বর ফাইজার-বায়োএনটেক উদ্ভাবিত করোনা ভাইরাস ভ্যাকসিনটির চূড়ান্ত পরীক্ষার প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এবার তারা উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের কার্যকরিতা ৯৫ শতাংশ বলে দাবি করে। যুক্তরাজ্যের ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা পণ্যের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এমএইচআরএ বলছে, ফাইজার-বায়োএনটেকের ভ্যাকসিনটি নিরাপদ।
উল্লেখ্য, সাধারণত ভ্যাকসিন উদ্ভাবনের পর পরীক্ষা করতেই লেগে যায় বছরের পর বছর। সেখানে মাত্র ১০ মাসেই এই সাফল্য পেয়েছে ফাইজারের ভ্যাকসিনটি। এটিই এখন পর্যন্ত তত্ত্ব থেকে সবচেয়ে দ্রুততম সময়ে বাস্তব রূপ ভ্যাকসিন। ফাইজার ও বায়োএনটেক উদ্ভাবিত ভ্যাকসিনের ৪ কোটি ডোজের আগাম অর্ডার দিয়ে রেখেছিল যুক্তরাজ্য, যা তারা ২ কোটি মানুষকে দুই ডোজ করে দিতে পারবে। চলতি মাসেই তারা ১ কোটি ডোজ পাবে বলে আশা করছে।
এক পরীক্ষার ফলাফলে দেখা গেছে, ৬৫ বছরের চেয়ে বেশি বয়সিদের ক্ষেত্রে ফাইজারের ভ্যাকসিনটি ৯৪ শতাংশ কার্যকর। এই পরীক্ষায় সম্পৃক্ত করা হয়েছিল পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের ৪১ হাজার মানুষকে। তাদের অর্ধেকের মধ্যে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয় আর বাকি অর্ধেককে দেওয়া হয় ‘ছায়া ভ্যাকসিন’ (রোগীরা এটিকে ভ্যাকসিন বিবেচনা করলেও আসলে সেটি ক্ষতিকর নয় এমন পদার্থ)। ফাইজার ছাড়াও ইতিমধ্যে আরেক মার্কিন কোম্পানি মর্ডানা জানিয়েছে, তাদের উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন চূড়ান্ত পরীক্ষায় প্রায় ৯৫ শতাংশ কার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া রাশিয়ার উদ্ভাবিত স্পুটনিক নামের ভ্যাকসিনটিও ৯০ শতাংশের বেশি কার্যকর বলে দাবি করা হচ্ছে।
এদিকে অনুমোদন পাওয়ায় ফাইজারের এই টিকা এখন যুক্তরাজ্যে ব্যাপকভাবে ব্যবহারে আর কোনো বাধা থাকল না।
করোনার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও সবাইকে এখনো সতর্ক থাকতে হবে এবং করোনা ভাইরাসের বিস্তৃতি রুখতে সামাজিক দূরত্ব, মাস্ক পরা এবং উপসর্গ দেখা দিলে শনাক্তকরণ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার মতো নির্দেশনা মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
সানবিডি/নাজমুল/১২:২৬/০৩.১২.২০২০






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














