রাজবাড়ীতে ব্যাঙের ছাতার মতো ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার

জেলা প্রতিনিধি আপডেট: ২০২০-১২-০৬ ১৫:৩১:৩৮


রাজবাড়ী জেলা শহরে ক্লিনিক, হেলথ ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান রয়েছে মোট ৯৭টি। এর মধ্যে মাত্র হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বৈধ কাগজপত্র রয়েছে, বাকিগুলোর কাগজপত্র হয় মেয়াদোত্তীর্ণ অথবা প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠেছে অবৈধভাবে।

 

বৈধ কাগজপত্রহীন ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা এসব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে রোগীদের সেবাপ্রাপ্তির চেয়ে হয়রানি পোহাতে হয় বেশি। আর হবেই না বা কেন, যেখানে খোদ রাজধানীর নামি-দামি হাসপাতাল-ক্লিনিকের বৈধ লাইসেন্স ও অন্যান্য কাগজপত্র নেই; সেখানে মফস্বলে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা যে আরও বেশি খারাপ হবে তা বলাই বাহুল্য।

উদ্বেগের বিষয়, লাইসেন্স ও ভ্যালিড কাগজপত্র নেই, অন্যদিকে তারা যে ভালো সেবা দিচ্ছে তা-ও নয়।

অনেক ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিকে নেই ন্যূনতম ডাক্তার, নার্স ও টেকনিশিয়ান। চিকিৎসা না দিয়ে যেনতেনভাবে মানুষের গলা কেটে ব্যবসা করাই যেন তাদের মুখ্য উদ্দেশ্য।

এজন্য ভুয়া ডাক্তার, এমনকি মৃত ডাক্তারের নাম ব্যবহার করে দেয়া হচ্ছে নানা রিপোর্ট। দিনের পর দিন এমন চলতে থাকলেও সম্প্রতি ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতাল ও জেকেজির ভুয়া করোনা রিপোর্ট দেয়া এবং তাদের বৈধ কাগজের ঘাটতি ও মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সের বিষয়টি আলোচনায় আসার পর রাজবাড়ী জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সচেতন হয়েছে।

এরই মধ্যে কয়েকটি অভিযান পরিচালনা করে দুটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সিলগালা করে ৭ জনকে দণ্ড দেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি কাগজপত্র হালনাগাদের কাজও শুরু হয়েছে। আমরা মনে করি, স্বাস্থ্যের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর খাতের সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানকে অনিয়ম-দুর্নীতির জন্য বিন্দুমাত্র ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। কেবল রাজবাড়ী জেলা শহরেই নয় এর আওতাধীন উপজেলা শহরগুলোতে গড়ে ওঠা বেশিরভাগ হাসপাতাল, ক্লিনিক, হেলথ ল্যাব ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারেরই একই অবস্থা- হয় অনুমোদনহীন বা মেয়াদোত্তীর্ণ কাগজে চলছে।

অথচ সব জেলা শহরের মতো রাজবাড়ীতেও স্বাস্থ্য পরিচালক পদ রয়েছে এবং সেখানে কর্মরত যথেষ্ট লোকবলও আছে; কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় এসব রক্ষকের অনেকেই ভক্ষকের ভূমিকা নিয়ে দেখেও না দেখার ভান করে থাকে। এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে মাসোহারা নিয়ে অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো চলার সুযোগ করে দেয়।

এভাবে আমরা নিজেরাই আমাদের স্বাস্থ্য খাতকে রুগ্ণ করে তুলেছি, যার কুফল করোনাকালে প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম-দুর্নীতি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের শীর্ষ থেকে মাঠ পর্যায় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

এ অবস্থায় বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা ও কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই। সরকারি নিয়ন্ত্রকদের কঠোর মনোভাব ও নিয়মনীতির সুষ্ঠু বাস্তবায়ন বেসরকারি খাতের দুর্নীতি রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

রাজবাড়ী জেলা শহরের আস্থা মা ও শিশু হাসপাতাল বছরের পর বছরে লাইসেন্স বিহীন ভাবে দিয়ে আসছে স্বাস্থ্য সেবা। আর সেই স্বাস্থ্যসেবে স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বেশিরভাগ সময়।

রাজবাড়ীর মুর্গি ফারাম এলাকায় অবস্থিত আমেনা চক্ষু হাসপাতাল। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স রয়েছে, কিন্তু সিভিল সার্জন অফিসে গিয়ে হাসপাতালের তালিকায় নেই প্রতিষ্ঠানটির নাম। শুধুমাত্র পৌরসভা ট্রেড লাইসেন্সের উপর ভিত্তি করেই চলছে প্রতিষ্ঠানটি। অপরদিকে রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলা শহড়ে এক যুগ আগে প্রতিষ্ঠিত  জননী ক্লিনিকের এতো বছর পার হলেও ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া দেখাতে পারেনি অন্যকোনো অনুমদনের কাগজপত্র।

এছাড়াও  সেখানে  নেই নিজস্ব কোনো ডাক্তার  নার্স বা স্বাস্থ্য কর্মী।

এ বিষয়ে  রাজবাড়ী সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ ইব্রাহিম টিটন ও জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন, রাজবাড়ীর সকল ক্লিনিক ও হাসপাতালের একটি তালিকা করেছি। এরমধ্যে যাদের লাইসেন্স নেই ও যারা লাইসেন্স নবায়ন করছে না তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সানবিডি/নাজমুল/০৩:২০/০৬.১২.২০২০