ইউরোপে রফতানিতে ট্রেডমার্ক হতে পারে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল
সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০২০-১২-১২ ১৮:৩৩:৪৬
কমবেশী সকল মানুষই মাংস খেতে পছন্দ করেন।বিশেষভাবে বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে মাংস একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ছুটি বা উৎসবের দিনগুলোতে একবেলা মাংসের কোনো পদ না হলে যেন হয়ই না।
বাংলাদেশ বা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে খাসির মাংস জনপ্রিয় একটি নাম। আর খাসির মাংসের কথা এলে সবার প্রথমে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের নাম উঠে আসবে। কৃষিনির্ভর অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল হতে পারে অন্যতম সম্ভাবনাময় একটি নাম। বিশেষ করে ইউরোপ, আমেরিকা, কানাডাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাজারে এ ছাগলটি হতে পারে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম উৎস।
মাংস উৎপাদনের জন্য বিশ্বব্যাপী ভারতের যমুনাপাড়ি ছাগল, আফ্রিকার মাসাই ছাগল এবং চীনা জাতের ছাগল বেশ পরিচিত। আকারে তুলনামূলকভাবে এসব ছাগল বড় হওয়ায় এদের থেকে মাংস পাওয়া যায় বেশি। এমনকি দুধ উৎপাদন ক্ষমতাও বেশি থাকে। এরপরেও ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগল বর্তমানে পৃথিবীতে ছাগলের সেরা জাত হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রথমত এ ছাগলের মাংস অত্যন্ত সুস্বাদু। এছাড়াও চামড়ার গুণগত মান বিবেচনায় এ প্রজাতির ছাগল সেরা। বিশ্ববাজারে ইতোমধ্যে এ প্রজাতির ছাগলের চামড়া ‘কুষ্টিয়া গ্রেড’ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
ইউরোপের সাধারণ মানুষের খাদ্যতালিকায় মাংস একটি গুরত্বপূর্ণ উপাদান। তাদের বাজারে প্রাপ্ত মাংসের বড় অংশ আসে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও তুরস্ক থেকে। ইউরোপে মোট চাহিদার শতকরা আশি শতাংশ ছাগল ও ভেড়ার মাংসের যোগানদাতা হচ্ছে নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নর্ভুক্ত দেশগুলোতে সব মিলিয়ে ৭০০ মিলিয়নের মতো ভেড়া ও ছাগল রয়েছে যাদের শতকরা পঁচাশি ভাগ বিভিন্ন খামারে প্রতিপালন করা হয়।
এক জরিপ অনুযায়ী, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের বাজারে প্রত্যেক বছর গড়ে ছাগলের মাংসের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে শতকরা দেড় শতাংশ। ক্রমবর্ধমান এ চাহিদার সামাল দিতে বাংলাদেশের ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগল হতে পারে অমিত সম্ভাবনার। অন্যান্য প্রজাতির ছাগলের মতো এ জাতের ছাগলের মাংসে তেমন কোনো কড়া গন্ধ নেই। চর্বির পরিমাণ কম থাকায় ‘লিন’ বানাতেও তেমন একটা অসুবিধা হয় না। স্বাদের দিক থেকেও এগিয়ে ব্ল্যাক বেঙ্গল প্রজাতির ছাগল। আর চামড়ার গুণগত মানের জন্য এদেশের চামড়াশিল্পেও বাড়তি মাত্রা যোগ করতে পারে এটি।
প্রত্যেক দেশের নিজস্ব কিছু ট্রেডমার্ক রয়েছে, একটি দেশের নামের সঙ্গে সঙ্গে কিছু পণ্যের নাম উচ্চারিত হয়। ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলকেও বাংলাদেশ বিশ্ববাজারে নিজস্ব ট্রেডমার্ক হিসেবে তুলে ধরতে পারে। এজন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এখন থেকেই কাজ শুরু করা জরুরি। তাহলে বিশ্বব্যাপী আলাদাভাবে এ প্রজাতির ছাগলের পরিচিতি তৈরি হবে। একই সঙ্গে বাণিজ্যিকভাবে ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাজারে এ ছাগলের মাংস ও চামড়া রপ্তানির জন্য যথার্থ উদ্যোগ নেওয়ার ব্যাপারে সরকার ও খামারিদের কার্যকরি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। সোনালি আঁশ, হোয়াইট গোল্ডখ্যাত চিংড়ি এবং তৈরি পোশাকের মতো ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলও হয়ে উঠতে পারে এ দেশের ব্ল্যাক গোল্ড।
সানবিডি/এনজে/৬:৩১/১২.১২.২০২০






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














