হতাশাই আমার অনুপ্রেরণা

|| প্রকাশ: ২০১৫-১০-০১ ১৮:২৪:০৭ || আপডেট: ২০১৫-১০-০১ ১৮:৩১:৩৫

Sadat Hossain

সপ্তাহখানেক আগে এক ইংরেজী নিউজ পোর্টাল থেকে একজন সাংবাদিক এলেন, উদ্দেশ্য ইন্টারভিউ। ঘণ্টাখানেক নানান বিষয়ে আলোচনা। অবশেষে সেই অমোঘ প্রশ্ন, ‘who inspires you most? আপনার জীবনের অনুপ্রেরণা কে?’
আমি খানিক চুপ করে রইলাম, আমি এমন কোন হরিদাস পাল হয়ে যাই নাই যে এখনই আমার জীবনের অনুপ্রেরণা খুঁজতে হবে। তবে বছরখানেক আগে একটা টেলিভিশন চ্যানেলের ইন্টারভিউতেও এই একই প্রশ্ন শুনতে হয়েছিল। আমি অনেকক্ষণ ভেবেও কোন অনুপ্রেরণার নাম খুঁজে পাই নাই। শেষে লজ্জিত কণ্ঠে বলেছিলাম, ‘আমার কোন অনুপ্রেরণা নেই’।
উপস্থাপক বিস্মিত গলায় বলেছিলেন, ‘কেউ না?’
আমি আরও খানিক ভেবে, আরও লজ্জিত গলায় বলেছিলাম, ‘না, কেউ না’।
তারপর থেকেই প্রশ্নটা আমার মাথায় ছারপোকার মত কাটতে লাগল। আসলেইতো, Who inspiring me? মা, বাবা, ভাই, বোন বা অন্য কেউ? কখনও কখনও জোর জবরদস্তি করে মা বাবাকেই অনুপ্রেরণা বা উৎসাহ ভেবে মনকে প্রবোধ দিলাম, কিন্তু খানিকবাদেই আবিস্কার করলাম, উনারা আসলে আমার অনুপ্রেরণা নন। আমার এই একটু আধটু লেখালেখি, ফিল্ম মেকিং এর স্বপ্ন কিংবা আলোকচিত্রের ক্ষিদেয় উনাদের কোন ভূমিকা নেই, ছিল না। বরং সেই শৈশব থেকে আজ অবধিও উনারা চান না আমি এসব করে সময় নষ্ট করি। তাহলে?
অনেক ভেবে সেদিন সেই সাংবাদিকের সামনে আমি হঠাৎ বললাম, ইয়েস, আই গট মাই ইন্সপায়রেশন!
তিনি বললেন, ‘কে? আপনার মা? বাবা?’
আমি বললাম, ‘না’।
তিনি উৎসুক গলায় বললেন, ‘তাহলে?’
আমি খানিক চুপ করে রইলাম, তারপর চোয়াল শক্ত করে দৃঢ় কণ্ঠে বললাম, ‘ডিপ্রেশন’।
ওনার ঔৎসুক্য সম্ভবত আঘাতপ্রাপ্ত হল। তিনি বিস্মিত গলায় বললেন, ‘ডিপ্রেশন? ডিপ্রেশন আপনার ইন্সপায়ারেশন? হতাশা কখনও অনুপ্রেরণা হয়?’
আমি বললাম, ‘হা, হয়। ডিপ্রেশন মূলত মানুষকে অনুপ্রাণিতই করে। তবে সেটা দু’ভাবে ঘটে। এক, সবকিছু ছেড়েছুড়ে দেয়ার জন্য অনুপ্রেরণা দেয়। ‘আমাকে দিয়ে কিছু হবে না’র জগতে নিমজ্জিত করে। সেখানে বিষাদ, ধ্বংস, ড্রাগস, মৃত্যু, বিভ্রম।

আর দুই, সবকিছু করবার অনুপ্রেরণা দেয়। একের পর এক ব্যর্থ, বঞ্চিত মানুষটা প্রবল ডিপ্রেশন নিয়ে গভীর রাতে হঠাৎ ঝড়ের মত লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ায়, তারপর দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকায়, সময় চলে যাচ্ছে, দ্রুত, খুব দ্রুত! আমাকে পারতেই হবে, পারতেই হবে। সে তার ব্যর্থ হয়ে যাওয়া লক্ষ্য আবার ঠিক করে, আবার ব্যর্থ হয়, আবার ডিপ্রেশন নিয়ে মাঝরাতে ঘুমাতে গেলে, ঘুমের ওষুধ খেতে গেলে, এই প্রবল ডিপ্রেশন তাকে ঘুমাতে দেয় না, খেতে দেয় না, স্বস্তি দেয় না, শান্তি দেয় না। সে ভাবে, না, এভাবে হেরে যাওয়ার কোন মানে নেই, মানে নেই। আমাকে ছুটতে হবে, ছুটতেই হবে, জিততেই হবে… আই ক্যান উইন, ইফ আই ওয়ান্ট… এই ডিপ্রেশন, এই না ঘুমাতে দেয়া, এই অস্বস্তি, অশান্তি, অস্থিরতা তাকে দেয় নতুন দিন, নতুন শক্তি, নতুন স্বপ্ন, সম্ভাবনা ও জীবন…

ডিপ্রেশন অনেকটা সেই অর্ধেক জলভর্তি গ্লাসের মতন। কেউ এটাকে অর্ধেক ভর্তি দেখে, কেউ অর্ধেক খালি। সো ডোন্ট এফ্রেইড অফ ডিপ্রেশন। ইট সিওরলি ক্যান বি ইওর ইন্সপায়ারেশন.. ইফ ইউ ওয়ান্ট…

অ্যান্ড আই নো, মাই ডিপ্রেশন ইজ মাই ইন্সপায়ারেশন…

চলচ্চিত্রকর, ফটোগ্রাফার ও লেখক সাদাত হোসাইনের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে নেয়া