বাঘের হাতে দুই সঙ্গী নিহত হওয়ার বর্ণনা দিলেন মুছা
সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০২১-০১-২৪ ১৮:০৮:১৩
সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগরে গত বুধবার (২০ জানুয়ারি) সুন্দরবনের গহীনে বাঘের আক্রমণে মিজানুর রহমান ও রতন নামে দুই জন নিহত হন। তবে বাঘের আক্রমণ থেকে প্রাণে বেঁচে যান আবু মুছা। আসলে কী ঘটেছিল সেদিন জঙ্গলে? ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফেরা আবু মুছা বর্ণনা দেন লোমহর্ষক সেই ঘটনার।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নের পশ্চিম কৈখালী গ্রামের আব্দুস সাত্তারের ছেলে আবু মুছা (৪১) বলেন, ‘আমি, একই এলাকার কফিলউদ্দিনের ছেলে রতন (৪২) এবং আমার ভগ্নিপতি একই গ্রামের মনোমিস্ত্রির ছেলে মিজানুর রহমান (৪০) মোটা অঙ্কের টাকার প্রলোভনে গহীন জঙ্গলের ভিতর দিয়ে ভারতে গরু আনতে যাই। নদী পথে জঙ্গলের ভিতর দিয়ে যাওয়ার সময় রাত হয়ে যায়। এ সময় আমরা জঙ্গলের পাশে সাতঝিলের খাল নামক স্থানে নৌকা রেখে রাত কাটাই। ভোরে নৌকার ওপর একটি বাঘ লাফিয়ে পড়ে। তিন জনের মধ্যে বাঘ টার্গেট করে মিজানকে। এ সময় মিজানকে বাঁচাতে রতন বাঘের ওপর হামলা করে। বাঘ তখন মিজানকে ফেলে রতনের ওপর হামলা করে এবং রতনকে মেরে ফেলে। এরপর বাঘটি মিজানকে নিয়ে জঙ্গলের ভিতরে চলে যায়।’
তিনি বলেন‘বাঘ আক্রমণ করলে আমি নদীতে লাফিয়ে পড়ে নৌকার পাশে নাক বের করে রেখে প্রাণে বেঁচে যায়। এরপর নৌকার নিচে থেকেই কৌশলে নৌকার বাঁধন খুলে ভাটির টানে দূরে চলে যাই। একসময় আবার উজানে নৌকা বাইতে থাকি। এভাবে দিক ও পথ হারিয়ে ফেলি। এ সময় নৌকার ওপর থাকা একটি মোবাইল ফোন আচমকা বেজে উঠলে সেই মোবাইল ফোন থেকে বাড়িতে খবর দিই।’— বলেন আবু মুসা। এরপর থেকে মোবাইল নেকওয়ার্ক না থাকায় কথা বলতে পারেনি বলেও জানান তিনি।
আবু মুছা বলেন, ভারতীয় সীমান্তের মাছধরা জেলেরা তাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে সে দেশের একটি বাড়িতে আশ্রয় দেন। এরপর তাদের সহযোগিতায় তিনি সীমান্তের বকচর নামক স্থান দিয়ে দেশে ফিরে আসেন।
আজ রবিবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে মুছার পরিবারের লোকজন সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করেন। বাড়িতে ফিরে আসার পর আবু মুছা কিছুটা অস্বাভাবিক আচরণ করতে থাকেন। স্থানীয় চিকিৎসায় তিনি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে ঘটনার বিবরণ দেন।
সানবিডি/এনজে






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













