কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত কুড়িগ্রামের জনপদ
জেলা প্রতিনিধি আপডেট: ২০২১-০২-০১ ১৩:৪২:৩০
কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত কুড়িগ্রামের জনপদ। হিম শীতের কারণে থমকে গেছে বোরো আবাদ। কর্মজীবীরা পরেছে চরম বিপাকে। জেলা প্রশাসন ও বেসরকারিভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতূল।
ফলে দিনমজুর, নিম্ন আয়ের ও চরাঞ্চলের মানুষ রয়েছে চরম বিপাকে। এদিকে সোমবার সর্বনিম্ন ৬দশমিক ২ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কুড়িগ্রামে। কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের ফারাজী পাড়ার কৃষক আবুল হোসেন ও মোজাহার আলী জানান, তীব্র্র শীতের কারণে কাজে কর্মে বের হওয়া যাচ্ছে না।
একই গ্রামের ফাতেমা বেগম, লাইলি ও আনোয়ারা জানান, ঠন্ডায় রাতে ঘুম হয় না। শিশুরা সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছে।
এদিকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা পরেছে চারদিক। রাতভর ছিপছিপ বৃষ্টির মত ঝরছে শিশির। প্রচন্ড ঠান্ডাকে উপেক্ষা করে যারা কাজে বের হয়েছেন, তাদের অবস্থা জবুথবু। প্রয়োজন ছাড়া খুব একটা বের হচ্ছে না মানুষ। ফলে কর্মহীন অবস্থায় রয়েছে শ্রমজীবী মানুষ। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে ভুগছেন তারা।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল হাই সরকার জানান, সরকারিভাবে শীতার্তদের জন্য ৫৭ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়াও বেসরকারিভাবে বিতরণ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি।
এদিকে আলু ও বোরো চাষ নিয়ে কৃষকদের দুশ্চিন্তা থাকলেও জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুরুল হক জানান, তীব্র শীত ও কুয়াশার কারণে আলু ক্ষেতের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও আগাম স্প্রের কারণে ক্ষতির সম্ভাবনা কমে গেছে। এছাড়াও শীতের কারণে সাময়িকভাবে বীজধান রোপণে কিছুটা বিলম্ব হলেও তাতে কোন সমস্যা হবে না।
শীত কেটে গেলে টার্গেট পূরণ হবে। চলতি বছর জেলায় ১ লক্ষ ১২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার প্রায় ৬০ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড বীজধান লাগানো হচ্ছে বলে তিনি জানান।
কুড়িগ্রামের রাজারহাট আবহাওয়া ও কৃষি পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, হঠাৎ করেই কুড়িগ্রামে শৈত্য প্রবাহ শুরু হয়েছে। আজ সকাল ৬টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৬দশমিক ২ডিগ্রী সেলসিয়াস কুড়িগ্রামে রেকর্ড করা হয়।এই অবস্থা আরও ৩/৪দিন থাকতে পারে বলে তিনি জানান।






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













