কুড়িগ্রামে ৩ বছরেও নির্মাণ হয়নি সেতুটি, দুর্ভোগে ২ লক্ষাধিক মানুষ

জেলা প্রতিনিধি আপডেট: ২০২১-০২-০৯ ১৫:১৯:১০


দীর্ঘ ৩ বছরেও শেষ হয়নি এলজিইডির শুলকুর বাজার নির্মাণাধীন সেতুটি। চরম দুর্ভোগে পড়েছে পাঁচটি ইউনিয়ের প্রায় ২ লক্ষাধিক মানুষ। আসন্ন বন্যা মৌসুমেও সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ায় উদ্বেগে রয়েছেন দুর্ভোগে থাকা মানুষজন।

স্থানীয়দের অভিযোগ নামমাত্র কিছু কাজ দেখিয়ে এলজিইডির কিছু সুযোগ-সন্ধানী কর্মকর্তার সাথে যোগসাজশ করে এখন পর্যন্ত প্রায় ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন এলজিইডির মদদপুষ্ট নিয়োজিত ঠিকাদার গোলাম রব্বানী।

কৃষি ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে চরাঞ্চলের এসব মানুষ বিশেষ ভুমিকা পালন করলেও তাদের ভাগ্য মিলছেনা নাগরিক সেবা। এ দুর্ভোগ উত্তরনে কতদিন সময় লাগবে তা জানেন না এলজিইডি কর্তৃপক্ষ। এলাকাসীর দুর্ভোগ নিরসনে সেতুটির কাজ সম্পন্ন করার বিষয়ে স্থানীয় কুড়িগ্রাম-২ আসনের এমপি আলহাজ্ব পনির উদ্দিন আহমেদ একাধিকবার এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীকে বললেও টনক নড়েনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কাজটি টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পেয়েছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বসুন্ধরা এন্ড আবু বকর জেবি। ৯০ মিটার দৈর্ঘ্যরে কাজটির নির্মাণ ব্যয় ছিল ৫ কোটি ৫২ লক্ষ ৯০ হাজার।  সেতুটির নির্মান কাজ ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর শুরু হয়ে ২০২০ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শেষ হওয়ার কথা ছিল। মেয়াদ শেষ হলেও সেতুর অধিকাংশ কাজ এখনো অসম্পন্ন। অথচ ঠিকাদার গোলাম রবব্বানী এলজিইডির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সাথে আতাঁত করে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকা উত্তোলন করেছেন। কাজ না করে কিভাবে বিপুল অংকের টাকার বিল উত্তোলন করলো ওই ঠিকাদার এ প্রশ্ন এখন সর্বমহলের।

অপরদিকে এলাকাবাসীর দাবি, পরিবহন এবং মানুষের যাতায়াতের জন্য পার্শ্ব রাস্তাটি হেরিং করলেও ওই ঠিকাদার হেরিং রাস্তাটির প্রায় ৫ হাজার ইট তুলে বিক্রি করেছেন। ফলে গত বন্যায় রাস্তাটি ভেঙে যেয়ে প্রতিদিন হাজারও মানুষের চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। সেই সাথে সেতুটি না থাকায় উত্তরবঙ্গের বৃহৎ যাত্রাপুর গরুর হাট, সদর উপজেলার পাঁচগাছী, যাত্রাপুর, ঘোগাদহ, উলিপুর উপজেলার বেগমগঞ্জ, সাহেবের আলগা সহ সীমান্তবর্তী অসংখ্য হাট-বাজারে পরিবহন যাতায়াত সম্পূর্ণরুপে বন্ধ থাকায় রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

এলজিইডির এক কর্মকর্তা বলেন, ওই কাজের ঠিকাদার মূলত বসুন্ধরা আলতাফ হোসেন নামে পরিচিত। গোলাম রব্বানী কাজটি সাব হিসেবে করছেন। এর দায় মূলত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী আলতাফ হোসেনের।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মাসুদুর রহমান জানান, কাজটি বন্ধ ছিল। আমি নতুন এসেই বন্ধ কাজটি চালু করেছি। আশা করছি আগামী ২ মাসের মধ্যে সেতুর কাজ শেষ হবে।এ ব্যাপারে সাব-ঠিকাদার মোঃ গোলাম রব্বানী বলেন-চাহিদা অনুযায়ী বিল না দেয়ায় কাজটি যথাসময়ে শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে কথা হলে কুড়িগ্রাম-২ আসনের এমপি আলহাজ্ব পনির উদ্দিন আহমেদ বলেন-সদ্য যোগদানকৃত নতুন প্রকৌশলীকে কাজটি শেষ করতে বলেছি। তিনি কাজটি দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আশা করছি তিনি কাজটি দ্রুত শেষ করার সার্বিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।