মিয়ানমারে এবার সাংবাদিকদের বিক্ষোভ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ২০২১-০২-১৯ ১১:৪৩:১৪


মিয়ানমারের সাংবাদিকরা গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশসহ সামরিক জান্তার বিভিন্ন হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে চাকরি ছাড়ছেন। সেনা প্রশাসনের অন্যায্য হস্তক্ষেপ ও বিধিনিষেধ আরোপে ক্ষুব্ধ হয়ে মিয়ানমার টাইমসের একডজনের বেশি সাংবাদিক তাদের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন।

তারা বলছেন, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সেন্সরশিপ আরোপ শুরু করেছে। এদিকে জান্তার হস্তক্ষেপের কারণে মিয়ানমার প্রেস কাউন্সিলের ১১ সদস্যের সবাই পদত্যাগ করেছেন। ইরাবতি।

১৩ ফেব্রুয়ারি সামরিক জান্তা-চালিত তথ্য মন্ত্রণালয়কে কিছু বিধিনিষেধ আরোপিত দিকনির্দেশনা দেয়। এতে বলা হয়, গণমাধ্যম যাতে ‘নৈতিকভাবে’ খবর প্রকাশ করে এবং ‘মানুষকে সহিংসতায় উসকে দেওয়ার বিষয় পরিহার করে’।

এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, ‘সেনাবাহিনী কর্তৃক বৈধভাবে গঠিত’ স্টেট অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কাউন্সিল (এসএসি) তথা সামরিক প্রশাসনকে ‘ভুলভাবে’ পত্রিকা, সাপ্তাহিক ও অনলাইন গণমাধ্যমগুলো ‘রিজাইম’ বলে উল্লেখ করছে।

ফলে ‘সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, জরুরি অবস্থার বিধানের আওতায় গঠিত এসএসিকে যাতে ‘রিজাইম বা জান্তা’ বলে উল্লেখ করা না হয়।

একই সঙ্গে ‘প্রতিবেদন করার সময় জনগণকে উসকে দেওয়ার মতো কিছু লেখা যাবে না এবং গণমাধ্যমের নৈতিকতা অনুসরণ করতে হবে।’ জান্তার এসব নির্দেশনা দ্রুত অনলাইনে ভাইরাল হয়ে যায়।

মিয়ানমার টাইমসের শীর্ষ স্থানীয় নিউজরুম এডিটরসহ একডজনের বেশি সাংবাদিক তাদের চাকরি ছেড়েছেন। কারণ, তাদের মনে হচ্ছে ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তাদের ওপর সেন্সরশিপ চাপিয়ে দিচ্ছেন। সাংবাদিকরা চাকরি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মঙ্গলবার কর্তৃপক্ষ জান্তার আয়োজিত একটি প্রেস কনফারেন্সে একজন সাংবাদিককে উপস্থিত হতে বাধ্য করার পর।

পত্রিকাটির সব সাংবাদিক প্রেস কনফারেন্স বয়কটের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরও তাকে উপস্থিত হতে বাধ্য করা হয়। মিয়ানমারের বেশিরভাগ গণমাধ্যমই জান্তা প্রশাসনের প্রেস কনফারেন্স বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।