রাজস্ব হারানোর ভয় ও বাণিজ্য বাড়ানোর চাপে সরকার

সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০২১-০২-২০ ১৭:০৯:৩৬


একদিকে রাজস্ব হারানোর ভয় অন্যদিকে বাণিজ্য বাড়ানোর চাপ। দুই কারণে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে উভয় সংকটে সরকার। এরই প্রভাবে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির বহু সাফল্য মার খাচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের উঠানে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি লাভের চিন্তা করেই যৌক্তিক পর্যায়ে নামানো উচিত শুল্ককর। মুক্তবাণিজ্য চুক্তিতে যেতে আপত্তি নেই সরকারেরও, তবে আয় কমানোর পক্ষে নন বাণিজ্যমন্ত্রী।

স্বাধীনতার ৫ দশক পর বিরাট এক অর্জনের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েই ২০২৪ সালে স্বল্পোন্নত দেশের তকমা ঘুচিয়ে লাল-সবুজের পতাকা পেতে যাচ্ছে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা।

কিন্তু মুদ্রার উল্টো পিঠে চিন্তার সমুদ্র। এই স্বীকৃতিতে ইউরোপ ছাড়া বাকি বিশ্বে বাংলাদেশ হারাবে পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা।

তৈরি পোশাক রফতানিকারক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন পাভেল বলেন, আমরা প্রতিযোগিতামূলক বাজার থেকে পিছিয়ে যাচ্ছি। কাস্টম ক্লিলায়ারেন্সে ক্ষেত্রে যদি ভালো কিছু পদক্ষেপ নেয়া হলে আমরা ব্যবসায়ীরা এগিয়ে যেতে পারব।

প্রাথমিক ধাক্কা সামলাতে বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে তৎপর সরকার। কিন্তু আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোতে যখন গড়ে সাড়ে ৪ শতাংশ শুল্ককর, সেখানে বাংলাদেশে তা ২৬ শতাংশের বেশি। এত বেশি কর দিয়ে কেন বাণিজ্য করতে আসবে অন্যরা, প্রশ্ন তুলে রফতানি সহায়ক বাণিজ্য নীতির সঙ্গে রক্ষণশীল কর কাঠামোর পরিবর্তন চাইলেন অর্থনীতিবিদরা।

অর্থনীতিবিদ ডা. মাসরুর রিয়াজ বলেন, এখনো যে ট্রারিফ স্ট্রাকচার রয়েছে। এটা রক্ষণশীল। ভারতের তুলনায় ডাবল, চীনের তুলনায় চার গুণ। রফতানিতে যে প্রতিযোগিতা সেটা শুরুতে হারিয়ে ফেলেছি।

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে পণ্য রফতানির মতো আমদানিতেও দিতে হবে শুল্কমুক্ত সুবিধা। ফলে কমে যাবে রাজস্ব। ঠিক এখানেই আপত্তি বাণিজ্যমন্ত্রীর। তিনি চান আয় না কমিয়ে দীর্ঘমেয়াদি লাভ।

বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মনুশী বলেন, এফটিএ করলে আমাদের আমদানিতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে। আমরা চাইব, আমাদের রাজস্ব আয়ে যেন ধাক্কা না লাগে। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে যেন আমাদের প্রোডাক্ট রফতানি করতে পারি।

সরকারি তথ্যমতে, এরই মধ্যে এফটিএ তে আগ্রহ দেখিয়েছে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা। আলোচনা চলছে আরো ৮ থেকে ১০টি দেশের সঙ্গে, যার মধ্যে রয়েছে ভারতও।