১৪৩-এ ৫১ ঋণখেলাপি আজ আদালতে

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২১-০২-২৩ ১৩:৩৭:৫৭ || আপডেট: ২০২১-০২-২৩ ১৩:৩৭:৫৭

আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস থেকে ঋণখেলাপি ২৮০ জনকে তলব করেছিল হাইকোর্ট। ২১ জানুয়ারি আদালতের দেয়া এক আদশে ২৩ ফেব্রুয়ারি ছিল ১৪৩ জনের হাজির হওয়ার নির্ধারিত দিন। আজ আদালত তাদের উপস্থিত থাকার নির্দেশ ছিল।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস থেকে ৫ লাখ টাকার বেশি ঋণ নিয়ে ৫১ জন খেলাপি হাইকোর্টে হাজির হয়েছেন। দুপুরের মধ্যে ১৪৩ জনকে হাজির হওয়ার নির্দেশ থাকলেও অন্যরা আইনজীবীর মাধ্যমে সময় চেয়েছেন।

আদালতে ৩৫ জনের পক্ষে আইনজীবী মুশতাক আহমেদ শুনানি করছেন।

শুনানিতে আদালত বলে, ‘পিকে হালদার এবং এসকে সুর কী আকাম কুকাম করছে সেটা তো চলবেই। আমরা দেখছি এ কোম্পানিকে বাঁচিয়ে রেখে টাকা উদ্ধার করা যায় কি না। আমানতকারীরা আজ রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন। আমরা চেষ্টা করছি ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে টাকা উদ্ধারের। একটি কোম্পানি অবসায়ন করতে হলেও তার একটা প্রসিডিং আছে। আমরা সেটাও দেখছি। একটা পথ বের করার চেষ্টা করছি।’

এ সময় অনেক ঋণ খেলাপি টাকা পরিশোধে সময় প্রার্থনা করছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সাবেক নির্বাহী পরিচালক শাহ আলমের প্রসঙ্গ টেনে এক পর্যায় আদালত বলেন, ‘শাহ আলম একটা চোর, ডাকাত।’

আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস থেকে ঋণখেলাপি ২৮০ জনকে তলব করেছিল হাইকোর্ট। ২১ জানুয়ারি দেয়া এক আদশে ২৩ ফেব্রুয়ারি ছিল হাজির হওয়ার নির্ধারিত দিন। এদের মধ্যে আজ আদালতে আসার নির্দেশ ছিল ১৪৩ জনের।

অবসায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা পিপলস লিজিংয়ের সাময়িক অবসায়ক (প্রবেশনাল লিক্যুডেটর) মো. আসাদুজ্জামান খানের দেয়া এ-সংক্রান্ত তালিকা দেখে বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চ চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আদেশ দিয়েছিল।

আদালতে অবসায়ক মো. আসাদুজ্জামান খানের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মেজবাহুর রহমান। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন কাজী এরশাদুল আলম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আব্দুল ওয়াহাব।

আইনজীবী মেজবাহুর রহমান বলেছিলেন, ‘পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড কোম্পানি অবসায়ন প্রসিডিংয়ের মধ্যে আছে। আদালত এ কোম্পানি থেকে ঋণগ্রহীতাদের তালিকা চেয়েছিলেন। আমরা সে তালিকা দিয়েছিলাম।

‘সেই তালিকা থেকে সর্বনিম্ন পাঁচ লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ঋণখেলাপি এমন ২৮০ জনকে শোকজ করেছেন। ২৩ ফেব্রুয়ারি তাদের আদালতে হাজির হতে বলেছেন।’

তিনি আরও বলেছিলেন, তাদের সশরীরে হাজির হয়ে ঋণ খেলাপের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছে আদালত।

১৯৯৭ সালের ২৪ নভেম্বর আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পিপলস লিজিংকে অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর থেকে প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকের কাছ থেকে মেয়াদি আমানত ও বিভিন্ন ব্যাংক-আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা ধার করে ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।

২০১৮ সালের ডিসেম্বরে প্রতিষ্ঠানটির আমানত ছিল ২ হাজার ৩৬ কোটি টাকা। আর ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিই ৭৪৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ খেলাপি ঋণের হার ৬৬ শতাংশ।

২০১৫ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে লোকসানে প্রতিষ্ঠানটি। খেলাপি প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা আদায় করতে না পারায় আমানতকারীদের টাকাও ফেরত দিতে পারছে না।

২০১৯ সালের ১৪ জুলাই পিপলস লিজিং অবসায়নের জন্য আদালতে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই দিনই শুনানি শেষে প্রতিষ্ঠানটিকে অবসায়নের পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয় আদালত।

এ ছাড়া অবসায়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক পদমর্যাদার একজনকে অবসায়ক নিয়োগ দিতে বলা হয়।

পরে সাময়িক অবসায়ক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান খানকে নিয়োগ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এরপর আদালত পিপলস লিজিংয়ের ঋণগ্রহীতাদের একটা তালিকা চায়।

এ অনুযায়ী গত বছর ২৩ নভেম্বর প্রায় ৪৯৭ জন ঋণগ্রহীতার একটি তালিকা দাখিল করা হয়। সে তালিকা দেখে আদালত ২৩ ফেব্রুয়ারি ২৮০ জনকে তলব করেছে।

আদালতে দাখিল করা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে এই ২৮০ জন ঋণখেলাপি লিজ ফাইন্যান্স (পাঁচ বছর মেয়াদি ঋণ), লিজ ফাইন্যান্স (পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদি), টার্ম লোন (পাঁচ বছর মেয়াদি), টার্ম লোন (পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদি), হোম লোন (পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদি), মার্জিন লোনসহ মোট ছয় ক্যাটেগরিতে ঋণ নিয়েছেন।

তার মধ্যে লিজ ফাইন্যান্সের (পাঁচ বছর মেয়াদি) এ খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৪ কোটি ১৫ লাখ ৮ হাজার ৪৭১ টাকা, লিজ ফাইন্যান্সের (পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদি) এ খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৭ কোটি ৮১ লাখ ৯৬ হাজার ২৮৮ টাকা।

টার্ম লোনের (পাঁচ বছর মেয়াদি) খেলাপি ৮৭৭ কোটি ৩৭ লাখ ৬৬ হাজার ৩৭১ টাকা, টার্ম লোনের (পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদি) খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১৩ কোটি ৩০ লাখ ৫ হাজার ৭৭৬ টাকা।

হোম লোনের (পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদি) খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২৭ কোটি ৯৬ লাখ ২৮ হাজার ১৪৩ টাকা। আর মার্জিন লোনে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৪৪ কোটি ৮৭ লাখ ৫৮ হাজার ১৩ টাকা।

মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ১ হাজার ৬৫৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •