মাধ্যাকর্ষণের বিপরীতে গাছের শক্তি

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২১-০৩-১৩ ১৮:১১:১৪ || আপডেট: ২০২১-০৩-১৩ ১৮:১১:১৪

পানি ছাড়া উদ্ভিদ ও প্রাণিজগতের অস্তিত্বই সম্ভব নয়৷ প্রাণী সক্রিয়ভাবে পানি গ্রহণ করতে পারলেও গাছপালা কীভাবে পানি উপরদিকে চালিত করে? বিজ্ঞানীরা সেই রহস্য সমাধান করে বিষয়টি বুঝিয়ে বলছেন৷

পানি জীবন দান করে, জীবন রক্ষা করে৷ বিশেষ করে উদ্ভিদের অনেক পানির প্রয়োজন হয়৷ সে কারণে হামবুর্গের বোট্যানিকাল গার্ডেনে পানির বিশাল চাহিদা রয়েছে৷ সেখানে কর্মরত জীববিজ্ঞানীরা পানির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অত্যন্ত ওয়াকিবহাল৷ যেমন কার্স্টেন শিরারেন্ড৷ তিনি বলেন, ‘‘পানি এমন এক সর্বব্যাপী পদার্থ, যা প্রাণী ও উদ্ভিদের মূল উপাদান৷ পানি ছাড়া আমরা কেউ বেশিদিন বাঁচতে পারি না৷ মায়ের গর্ভে পানির মধ্যেই আমাদের জীবন শুরু হয়৷ জীববিদ্যার ক্ষেত্রে পানিই সর্বব্যাপী দ্রাবক ও এজেন্ট৷ শরীর ও কোষ – সর্বত্রই পানি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে৷’’

শুনতে সাধারণ মনে হলেও পানির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতা হলো সেটি সর্বব্যাপী সলভেন্ট বা দ্রাবক৷ শুধু ময়লা নয়, পানি উদ্ভিদের অস্তিত্বের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিও দ্রবিভূত করে৷ যেমন অনেক গাছ বেশ কয়েক মিটার উপরে শাখাপ্রশাখা ও পাতায় মূল্যবান পানি পাঠাতে পারে৷ তার জন্য কোনো পাম্পের প্রয়োজন হয় না৷ পানির দুটি বৈশিষ্ট্য কাজে লাগিয়ে সেটা সম্ভব হয়৷

প্রথমত পানির একটা আঠালো গুণ রয়েছে৷ মসৃণ পৃষ্ঠে পানি আটকে থাকে৷ টেস্ট টিউবের দেয়াল বেয়ে সেটি কিছুটা উপরে উঠে যায়৷ মাঝের অংশের তুলনায় ধারের পানির স্তর কিছুটা উঁচু হয়৷ পানির দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য হলো কোহেশন, অর্থাৎ পানির অণুগুলির মধ্যে সংযোগ৷ সে কারণে দুই সেন্টের ছোট কয়েন বা পয়সার উপর প্রায় ৩০টি পানির বিন্দু অনায়াসে ধরে যায়৷ মাধ্যাকর্ষণ শক্তি জয় করে পানি তখন ধার উপচে কিছুটা বেরিয়ে থাকে৷

অ্যাডেশন ও কোহেশন শক্তির সম্মিলিত প্রভাবের কারণে পানি মাধ্যাকর্ষণ শক্তি উপেক্ষা করে উপর দিকে চালিত হতে পারে৷ তথাকথিত এই ক্যাপালারি বা কৈশিক শক্তি গাছপালার মধ্যে পানি উপরে তুলতে সাহায্য করে৷ শিকড় ও গাছের কাণ্ডের পাতলা নালীর কারণে সেটা সম্ভব হয়৷ হামবুর্গ বোট্যানিকাল গার্ডেনের কার্স্টেন শিরারেন্ড বলেন, ‘‘ক্যাপিলারি, অর্থাৎ দুই মিলিমিটারেরও কম ব্যাসের নলের মধ্যে পানি নির্দিষ্ট উচ্চতা পর্যন্ত উঠতে পারে৷ নল যত সরু হবে, পানি তত উপরে উঠতে পারবে৷ কাঠের মধ্যে যে নালী বেয়ে পানি চলাচল করে, তার গড় ব্যাস ৫০ মাইক্রোমিটার৷ অর্থাৎ শূন্য দশমিক শূন্য শূন্য পাঁচ মিলিমিটার৷ নালী এতই পাতলা, যে পানি নলের মধ্যে অনায়াসে পাঁচ থেকে দশ মিটার উচ্চতায় উঠে যেতে পারে৷ সেই পানি অবশ্য ১০০ মিটার দীর্ঘ বিশালাকার গাছের শিখর অবশ্য পৌঁছাতে পারে না৷ তার জন্য প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয়৷ গাছের উপরের দিকে পাতায় বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ার ফলে এক প্রবাহ, সাকশান টেনশন সৃষ্টি হয়৷ এটা অনেকটা স্ট্র ব্যবহার করে মুখ দিয়ে তরল টানার মতো প্রক্রিয়া৷ উপরের দিকে ট্রান্সপিরেশন বা অপসারণের কারণে ঊর্দ্ধমুখী প্রবাহ সৃষ্টি হয়, যার সাহায্যে পানি অভাবনীয় উচ্চতায় পৌঁছে যায়৷’’

পানির বাষ্পীভবন প্রক্রিয়ার ফলে ঠান্ডা পরিবেশ সৃষ্টি হয়৷ সে কারণে জঙ্গলের আশেপাশের পরিবেশ অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা হয়৷ সূত্র: ডয়চে ভেলে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •