রাজবাড়ীতে অধিক লাভের আশায় তামাক চাষ বেড়েই চলছে
জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২১-০৪-২৩ ১৪:৫৩:৪৫
রাজবাড়ীতে দিনকে দিন বিষবৃক্ষ তামাকের আবাদ বেড়েই চলেছে। তামাকে জমি ও স্বাস্থ্যের ক্ষতি জেনেও ঝামেলা কম, আর ধান গমের চেয়ে লাভ বেশি এবং বিক্রিতে কোনো ঝামেলা পোহাতে হয় না বলে কৃষকরা অধিক লাভের আশায় তামাকের চাষ ছাড়তে চান না। তবে জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, তামাক চাষ আগের চেয়ে কমেছে।
ধান, গম ও পেঁয়াজ ক্ষেতের পাশেই বিষ বৃক্ষ তামাকের চাষ হচ্ছে রাজবাড়ী জেলার বিভিন্ন মাঠে। কৃষকরা বলছে, দেশি ও বিদেশী তামাক কোম্পানী তামাক চাষের জন্য আগে থেকেই দাদনের মত বীজ, সার ও কামলার টাকা অগ্রীম দিয়ে যায়। তাই আমরা প্রতি বছরই তামাকের চাষ করি। তামাক উৎপাদনের পরপরই ওই কোম্পানীর গাড়ী এসে আমাদের ঘর থেকেই নগদ টাকা দিয়ে তামাক নিয়ে যায়। এক বিঘা জমিতে উৎপাদিত তামাক খরচ বাদে এক থেকে দেড় লাখ টাকা লাভ হয়। কোন ঝামালো হয় না।
তবে কোন কোন কৃষক স্বাস্থ্যের ঝুকির কথা চিন্তা করে এই বিষ বৃক্ষের চাষাবাদ বাদ দিয়েছেন। রাজবাড়ী জেলা সদরের মিজানপুর, রামকান্তপুর, বসন্তপুর, পাংশা, কালুখালি ও বালিয়াকান্দি উপজেলার ২৪ ইউনিয়নেরই ও পাংশা পৌর এলাকাও বিভিন্ন ফসলি মাঠে ব্যাপকহারে এই বিষবৃক্ষ তামাকের আবাদ হচ্ছে।
এসব অঞ্চলে কোণভাবেই দীর্ঘদিন এর আবাদে জনস্বাস্থ্য ও জমির ক্ষতিকর প্রচারণা চালিয়েও তামাকের আবাদ কমানো যাচ্ছে না। অথচ প্রকাশ্যে তামাকের ব্যবহারে জরিমানা করার বিধান থাকলেও প্রশাসনিকভাবে এর প্রয়োগ নেই বলে তামাকের চাষ ও ব্যাবহার কমছে না বলে এর ভুক্তভোগী অভিজ্ঞমহল মতামত ব্যক্ত করেন।
রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডাঃ ইব্রাহিম টিটন জানান, তামাক চাষী, শ্রমিক ও তামাক সেবনের ফলে প্রত্যেকের শ্বাসকষ্ট, করোনার ঝুঁকি ও ক্যান্সারের সম্ভাবনা থাকে। জেলার বিভিন্ন হাসাপাতালের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২০ সালে বছরে প্রায় বিষ হাজার রোগী তামাক সেবন ও ব্যবহারের ফলে রোগী হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করেছে। অনেক চিকিৎসক ওইসব রোগীর চিকিৎসাও করেন না।
রাজবাড়ী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এস এম শহিদ আকবর বলেন, দশ বছর ধরে প্রতি বছরই তামাকের আবাদ কমছে। আর মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের তামাক চাষে ক্ষতির কথা বোঝাচ্ছি আর তাতে কাজও হচ্ছে।
তামাকে লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ বেশি তা কৃষকদের বুঝাতে কৃষি বিভাগ ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। অভিজ্ঞ মহল চাষ সরকার ও কৃষি বিভাগ করাকড়ি আইন করে তামাকের চাষ বন্ধ না করলে এই বিষ বৃক্ষের আবাদ কমবে না।