বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর বাতিল করে প্রণোদনার দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক || প্রকাশ: ২০২১-০৬-০৪ ২০:৩৭:৪৪ || আপডেট: ২০২১-০৬-০৪ ২০:৩৭:৪৪

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ করারোপকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের পরিপন্থী বলে অভিহিত করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি। একই সঙ্গে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে প্রণোদনা দেয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (৪ জুন) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব কথা বলেছে সংগঠনটি।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১০ সালের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী ট্রাস্টের অধীনে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত। ১৮৮২ সালের ট্রাস্ট আইন অনুযায়ী, ট্রাস্টের অধীনে পরিচালিত হওয়ায় অলাভজনক প্রতিষ্ঠান করযোগ্য নয়। ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়ের ওপর ১৫ শতাংশ হারে আয়কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। যা ব্যাপক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রসারের অন্যতম অংশীদার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব মহল, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে।’

‘১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের আওতায় লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালিত মেডিকেল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সঙ্গে ট্রাস্ট আইনে অলাভজনক হিসেবে পরিচালিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর একই আওতায় সমভাবে আয়কর আরোপের প্রস্তাবনা আইনের পরিপন্থী। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের দুরবস্থার চিত্র তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বর্তমান করোনা দুর্যোগকালে অর্থ সংকটে পতিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই করছে। শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, ক্যাম্পাস ভাড়া প্রদান করা অনেক ক্ষেত্রেই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একমাত্র অর্থপ্রাপ্তির উৎস হিসেবে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফিসও নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া এইচএসসি পরীক্ষা সময় মতো না হওয়ায় শিক্ষার্থী সংকটও দেখা দিয়েছে। অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও টিউশন ফিয়ের ওপর ছাড় দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে।’

করারোপ না করে প্রণোদনা দেয়ার দাবি জানিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে আগামী দিনের মানবসম্পদ উন্নয়নে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অবদান রাখছে। এছাড়া বিপুল সংখ্যক কর্মচারী-কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অস্তিত্ব রক্ষার বিবেচনায় বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির পক্ষ থেকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর কোনও প্রকার করারোপ না করার জোর সুপারিশ করছি। করোনা দুর্যোগের এই সংকটাপন্ন সময়ে আর্থিকভাবে অসচ্ছল বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে সরকারিভাবে অনুদান-প্রণোদনা প্রদানের জন্য জোর দাবি জানাচ্ছি।’

সানবিডি/এএ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •