হঠাৎ জামালদের বেতন দিতে চাইছেন সালাউদ্দিন

সান বিডি ডেস্ক || প্রকাশ: ২০২১-০৬-১০ ১৮:৩৪:০১ || আপডেট: ২০২১-০৬-১০ ১৮:৩৪:০১

জাতীয় ফুটবলারদের বেতন কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা করছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (সভাপতি) সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (১০ জুন) দুপুরে বাফুফে ভবনে কাতার যেতে না পারা পাঁচ ফুটবলারের সঙ্গে আলোচনায় নতুন এই পরিকল্পনার কথা জানান বাফুফে সভাপতি।

জাতীয় ফুটবলাররা এত দিন ম্যাচ প্রতি ও ক্যাম্প চলাকালীন সময়ে ন্যূনতম পকেট মানি পেয়ে আসছিলেন। এবার সেটাকে বড় অঙ্কে ও মাসিক ভিত্তিতে রুপ দিতে চান বাফুফে সভাপতি।

জাতীয় দলে ফুটবলারদের সেই অর্থে পারিশ্রমিক থাকে না। সামান্য সম্মানী পেয়ে থাকেন মাত্র। শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্বে জাতীয় দল এভাবেই চলে।

বিশ্ব ফুটবল নিয়ে প্রতিনিয়ত উদাহরণ দেয়া কাজী সালাউদ্দিন হঠাৎ হাটছেন উল্টো পথে। জাতীয় দলে ফুটবলারদের ভালো বেতন কাঠামোর দিকে আনার কারণ সম্পর্কে তার যুক্তি, ‘একটি বেতন কাঠামোর মধ্যে থাকলে সবাই জাতীয় দলে খেলার প্রতি আকৃষ্ট হবে, প্রতিদ্বন্দ্বীতা বাড়বে। ইউরোপে ফুটবলাররা ক্লাবে অনেক অর্থ পায় ফলে জাতীয় দলে সেই অর্থে সম্মানীর প্রয়োজন হয় না। আমাদের তো সেটা নেই।’

বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটে অন্য পেশার তুলনায় ফুটবলারদের আয় অনেক বেশি। এমনকি অনেক ফুটবলার অতিমূল্যায়িত। গত মৌসুমে অনেক ফুটবলার অর্ধ কোটির বেশি পারিশ্রমিক পেয়েছেন। এরপরও জাতীয় দলে কেন বড় সম্মানী বা বেতন প্রয়োজন? এই প্রশ্নের প্রেক্ষিতে সালাউদ্দিনের উত্তর, ‘সবার আয় সমান নয়। জাতীয় ফুটবলারদের সামাজিক কর্মকান্ড, পারিবারিক অনেক ব্যয়ও রয়েছে। একটা মিনিমাম স্ট্যান্ডার্ডের জন্য অবশ্যই অর্থ প্রয়োজন।’

গত ১২ বছর কাজী সালাউদ্দিন বাফুফে সভাপতি। জাতীয় দল নিয়ে অনেক পরীক্ষার নিরীক্ষার পর তার এই বোধদয়। ফুটবল বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, বর্তমান জাতীয় দলের সামর্থ্য খুবই সীমিত। এদের বিদ্যমান মান দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সফল হওয়া সম্ভব নয়। এদের পেছনে আবার কাড়ি কাড়ি অর্থ ঢালার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

জাতীয় দল নিয়ে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি পরিকল্পনার কথা ভাগাভাগি করলেন পাঁচ ফুটবলারের সঙ্গে। সেই সভায় ছিলেন জাতীয় দল কমিটির চেয়ারম্যান। আজকের এই আলোচনা মাত্র প্রস্তাবনা বলে জানিয়েছেন ফেডারেশন সভাপতি, ‘আমরা এক রকম পরিকল্পনা করছি। কাতার থেকে ফেরার পর সবার সাথে বসব।’

সভাপতির সঙ্গে সভা শেষে সিনিয়র ফুটবলার আশরাফুল ইসলাম রানা বলেন, ‘আমাদের বেতন কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনাটা খুবই ভালো। এতে আমরা আরও উৎসাহিত হবো।’

প্রাথমিক পরিকল্পনায় ৩০ জন ফুটবলার এই বেতন কাঠামোর মধ্যে থাকবে। প্রথম পনের জন এ ক্যাটাগরি, পরের দশ জন বি ক্যাটাগরি শেষ পাঁচ জন সি ক্যাটাগরি। পারফরম্যান্সের উপর ভিত্তি করে ক্যাটাগরি পরিবর্তন হবে আবার অনেকে বাদ পড়বেন। ট্যাকনিক্যাল কমিটি পর্যালোচনা করে বিষয়টি চূড়ান্ত করবে।

জাতীয় দলের কাতার সফরের পারফরম্যান্স ও কোচ ইস্যুতে কোনো মন্তব্য করেননি সালাউদ্দিন, ‘এখন জাতীয় দল নিয়ে কোনো মন্তব্য করলে সেটা দলে প্রভাব পড়বে। জাতীয় দল নিয়ে পর্যালোচনা ১৫ জুন ম্যাচের পর করব।’ জাতীয় দল নিয়ে এত গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনায় সভাপতি একাই করেছেন কয়েকজন ফুটবলারের সাথে। জাতীয় দল কমিটির চেয়ারম্যানকে রাখেননি।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •