পাহাড় ধসের আশঙ্কায় চট্টগ্রামে ৩৭০ স্থাপনা উচ্ছেদ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২১-০৬-১৪ ১৮:৪৯:৪১


চট্টগ্রামে পাহাড় ধসের আশঙ্কায় ছয় ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পাহাড়ে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা প্রশাসন। সোমবার (১৪ জুন) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নগরের বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোডের অবৈধ বসতি ও স্থাপনা উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করা হয়। এ দিন অবৈধভাবে গড়ে উঠা ৩৭০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। অভিযানে পুলিশ, র‌্যাব ও ফায়ার সার্ভিস সদস্য এবং পানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস অফিসের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

জেলা প্রশাসনের ছয়জন ম্যাজিস্ট্রেট তিনটি অংশে ভাগ হয়ে সকাল থেকে বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোডের কাট্টলী, হাটহাজারি ও সীতাকুণ্ড অংশে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা শুরু করেন। অভিযানে নেতৃত্ব দেন চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মামনুন আহমেদ অনীক, কাট্টলী সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ ইনামুল হাসান, হাটহাজারি সার্কেলের সহকারী কমিশনার শরীফ উল্যাহ, পতেঙ্গা সার্কেলের সহকারী কমিশনার এহসান মুরাদ, সীতাকুণ্ড সার্কেলের সহকারী কমিশনার মো. রাশেদুল ইসলাম এবং চট্টগ্রাম সদর সার্কেলের সহকারী কমিশনার মাসুমা জান্নাত। পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক নুরুল্লাহ নূরী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিটি দলের সঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা এবং সার্ভেয়াররা অংশ নেন। অভিযানে তিন শতাধিক লোক ও তিনটি এক্সকাভেটরের সহায়তায় হাটহাজারী অংশে ১৯০টি, বায়েজিদ লিংক রোডের মহানগর অংশে ১১০টি এবং সীতাকুণ্ড অংশে ৭০টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। এসব স্থাপনার বেশিরভাগই টিনের তৈরি ঘর। কিছু ঘর রয়েছে সেমিপাকা ও পাকা সীমানা দেয়াল দ্বারা তৈরি।

এ প্রসঙ্গে চান্দগাঁও সার্কেলের সহকারী কমিশনার মামনুন আহমেদ অনীক বলেন, পাহাড় ধসের আশঙ্কা থাকায় বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোডের বিভিন্ন জায়গায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এতে অবৈধভাবে নির্মাণ করা ছোট-বড় ৩৭০টি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফৌজদারহাট অংশ থেকে নগরীর বায়েজিদ পর্যন্ত প্রায় ছয় কিলোমিটার এই সড়কটি নির্মাণে ১৮টি পাহাড় কাটা হয়। পাহাড়গুলো খাড়াভাবে কাটায় সেগুলো ধসে বড় বিপর্যয়ের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, অভিযানে অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনায় সংযোগ দেওয়া গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ে অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সানবিডি/এএ