পাংশায় সফলতার সাথে কাজ করেছেন ওসি সাহাদাত

জেলা প্রতিনিধি প্রকাশ: ২০২১-০৬-১৭ ২০:৫২:৩৩


সহকর্মী পুলিশ সদস্যদের মাঝে “নিবেদিত প্রাণ” কর্মকর্তা হিসেবে খ্যাতি পেয়েছেন রাজবাড়ীর পাংশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাহাদাত হোসেন। গত বছরের ২১ জুলাই যোগদানের পর থেকে থানার আইন-শৃঙ্খলা পরিবেশ দেখভালের পাশাপাশি সহকর্মী পুলিশ সদস্যদের জন্য তিনি কাজ করেছেন নিরলসভাবে।

দায়িত্ব নিয়েই থানার সব পুলিশ সদস্যদের সমানভাবে দায়িত্ববণ্টন করে দিয়েছেন তিনি। সংস্কার করেছেন- থানার অফিসিয়াল ভবন, অফিসার ইনচার্জ কক্ষ, ডিউটি অফিসারের কক্ষ, পুননির্মাণ ও আকর্ষণীয় করেছেন থানার প্রধান ফটক।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক থানার একাধিক পুলিশ সদস্য জানিয়েছেন, এর আগে পাংশা থানার কোনো ওসি ফোর্সদের উল্লেখযোগ্য কোনো কাজ করেননি। দীর্ঘদিন ধরে থানার পরিবেশ ছিল খারাপ। কিন্তু সাহাদাত স্যার আসার পর থেকে পুলিশ সদস্যদের বিভিন্ন দুর্ভোগ লাঘবের জন্য পদক্ষেপ নিয়েছেন। ব্যবস্থা করেছেন খেলাধুলারও। শীত মৌসুমের রাতে ব্যাডমিন্টন খেলার জন্য থানা কমপ্লেক্সে পাকা ব্যাডমিন্টন ইয়ার্ড তৈরি করে দিয়েছেন।

ব্যক্তি হিসেবেও পাংশায় ওসি মোহাম্মদ সাহাদাতের পরিচিতি সদালাপী ও মিষ্টভাষী হিসেবে। কখনোই নিম্নপদস্থ কাউকে গালিগালাজ করেন না। তার আচরণ ও কাজকর্মে আধুনিক পুলিশের ছোঁয়া পরিলক্ষিত হয়। সহকর্মীরা তার আচরণে সন্তুষ্ট এবং কৃতজ্ঞ।

তবে এসব মানবিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ওসি সাহাদাত ভুলে যাননি পেশাগত দায়িত্বের কথা। এলাকার বিভিন্ন বেআইনি কর্মকাণ্ড বন্ধে তিনি সজাগ।

অস্ত্র সহ গ্রেফতার করেন মিজানুর রহমানকে। গত ২৭ এপ্রিল অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৮ মামলার আসামি মনোয়ার হোসেন মনোকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে। এছাড়াও, মাদক ও অস্ত্রসহ আরও বেশ কয়েকজন স্থানীয় আসামিকে গ্রেফতারে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

গত ১৩ জানুয়ারি ২০২১ তারিখে পাংশার হাবাসপুরের কাচারি পাড়ায় সংঘটিত মেধাবী ছাত্র সিফাত হত্যার সাথে জড়িত প্রধান আসামীদের খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে গ্রেফতার করে পাংশার মানুষের কাছে আস্থাভাজন ব্যক্তি হিসেবে খ্যাতি পান ওসি সাহাদাত। ১৯ মে পাংশার কলিমহর ইউনিয়নের সাঁজুরিয়ায় ৬ বছর বয়সী শিশু মুরছালিন হত্যার সাথে জড়িত আসামীদের ৪৮ ঘন্টার মধ্যে গ্রেফতার করেন।

তার নেতৃত্বে গত ১১ মাসে মাদক সহ একাধিক আসামি গ্রেফতার হয়েছে। যাতে মোট ১২১টি মাদক মামলা দায়ের হয় থানায়। এছাড়াও একাধিক দেশীয় অস্ত্র ও নাইন এমএমসহ ওয়ান শুটার গান গোলাবারুদ জব্দ করে আসামি গ্রেফতার করা হয়।

তিনি ২০২০ সালের ২১ জুলাই পাংশা মডেল থানায় যোগদান করে দীর্ঘ ১১ মাস কর্মরত থেকে গত ১৬ জুন বদলি হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় যোগদান করেন।

ওসি মোহাম্মদ সাহাদাত হোসেন বলেন, কোনো চাওয়া-পাওয়ার জন্য নয়, পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ভালোলাগার জায়গা থেকে কাজগুলো করেছি। পুলিশ সদস্যরা সারারাত ডিউটি করে ভাল পরিবেশে থাকতে না পেরে মনোকষ্টে ভোগেন। তাই পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাদের দিকটিও বিবেচনায় রাখতে হয়।

তিনি বলেন, আমি পরিচ্ছন্নতা ও শৃঙ্খলাকে ভালোবাসি। নিজেও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে পছন্দ করি। আমি চাই সাধারণ মানুষ যেন শান্তিতে ও নির্ভয়ে রাস্তায় চলতে পারে, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা যেন মাদক কিংবা অন্য কোনো খারাপ কাজে লিপ্ত হয়ে না পড়ে।

সানবিডি/এএ