কেহ তাকায় না আমাদের দিকে

জেলা প্রতিনিধি আপডেট: ২০২১-০৭-০২ ১৭:১৯:৫১


দিনাজপুরে শহরের চাউলিয়াপট্রি এলাকায় থাকেন দুলাল, দিনমুজুরের কাজ করেন তিনি। গত বছর থেকে লকডেউনেও কাজ করেছেন। বর্তমান সময়ের মত বেকাদায় আগে কখনো পড়েননি। সংসারের খাওয়া, দুই ছেলে ও দুই মেয়ের পড়া লেখার খরচ সবই জোটে তার হাতের আয় দিয়ে।

তবে লকডাউন ঘোষণার পর থেকে তার সংসার চালাতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। দিনাজপুররে সব নিন্ম আয়ের মানুষের এমন অবস্থা। বড় দুর্দিন এখন তাদের।

দুলাল বৃহস্পতিবার সকাল দশটায় বানিজ্য প্রতিদিনকে বলেন, বাসায় আমি সহ ছয় জন সদস্য। সকালে বাহির হয়েছি চা বিস্কিট খায়। ছেলে মেয়েরা পড়া লেখা করে। স্কুল তো বন্ধ কিন্তু তাদের প্রাইভেট চলতেছে। তাদের পড়ালেখার খরচ ও সংসার খরচ সবই চলে আমার হাতের উপর দিয়ে। লকডাউনের জন্য কোন কাজ পাওয়া যায়না ১৫ দিন পড়ে একদিন কাজ মিলে, আনেক সময় তাও মিলেনা। ধার দেনা করে সংসার চলে। না খেয়ে থাকতে হয়। ঈদের আগে কিছুটা সহযোগিতা দিলেও এখন কেহ তাকায় না আমাদের দিকে।

একই অবস্থা দিনমুজিুর আব্দুল রশিদের । দিনাজপুর শহরের ষষ্টিতলায় কাজের সন্ধানে বসে সময় কাটছে তার। আগে প্রায় প্রতিদিনেই ৪০০ কিংবা ৫০০ টাকা মজুরী হয়তো। গত মাস থেকে লকডাউনের জন্য কাজ পাচ্ছেনা। দুই একদিন কাজ পাওয়া গেলেও আধিকাংশ দিনেই ফের যেতে হয় বাড়ি।

আব্দুল রশিদ বলেন, বাসায় খাবার নেই বলেই লকডাউনে কাজে এসেছি। আমার বাসায় ৮ জন সদস্য। বড় ছেলে চায়ের দোকান করতো লকডাউনে তাঁর দোকানেও বন্ধ। আরেক ছেলে ট্রেইলাসের দোকানে কাজ করতো তারো কাজ বন্ধ গত একমাস থেকে। কোন দিন খাবার হয় আর না হলে মুড়ি খায় থাকে সবাই । তাদের কষ্ট দেখতেপারি না বলে এইলকডাউনেও কাজে এসেছি, যদি একটা কাজ হয়।

শহরের কলেজ মোড়ে ভ্যান নিয়ে বসে আছে লুলু মিঞা । তিনি জানান, বাসায় তোমার চাচি অসুস্থ্য যদি কিছু টাকা ভাড়া হয় তরকারি ও ঔষুধ নিয়ে যাবো বাসায় । কিন্তু লকডাউনের জন্য পুলিশ তো গাড়ি চালাতে দেয় না আজ রাস্তায়ও মানুষ কম। এখন পর্যন্ত ৭০ টাকা ভাড়া হয়েছে। তরকারি ও ঔষুধের টাকা হয়েগেলে বাসায় চলে যাবো।

ষষ্টিতলায় কাজের জন্য বসে আছে দিনমুজুর দিলদার হোসেন। তিনি বলেন, কাজ হয়না এখন । দশটা বেজে গেছে, আগে তো ৮টার আগে কাজ পাওয়া যায়তো । লকডাউনের জন্য পরিবার নিয়ে খুব সমস্যায় আছি। আজকে কাজ হলে তরকারি হবে না হলে বাসায় যাওয়ার সময় রাস্তা থেকে কচু শাক নিয়ে যাবো । কিছু একটা তো ছেলে মেয়েদের মুখে দিতে হবে।

দুলাল,আব্দুর রশিদ, দিলদার হোসেনের মতোই দূরবস্থা দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল অন্যান্য মানুষেরাও। লকডাউনে নিন্ম আয়ের মানুষদের আয় কমেছে। কারও কারও আয় বন্ধ হয়ে গেছে। আনেককেই খাবারের জন্য ঋণ করতে হচ্ছে আথবা আত্মীয়-স্বজনের সহায়তা নিতে হচ্ছে। আনেকে সামাজিক সহয়াতার জন্য হাত বাড়াচ্ছেন। ঈদের আগে বিত্তবান ব্যক্তি, বিবিন্ন এনজিও, সহায়াতা নিয়ে এগিয়ে এলেও এবার তেমন দেখো যাচ্ছে না।

করোনার প্রথম ঢেউয়ের প্রবাব কাটতে না কাটতে দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব ছড়িয়ে গেছে সবক্ষানে। করোনরা ভাইরাসের সংক্রামন ঠেকাতে কঠোর হয়েছে সরকার । সারা দেশ জুরে ৭ দিনের জন্য কঠোর লকডাউন। বাস্ত্যবায়ন করছে দিনাজপুর জেলা প্রশাসনও । এমন অবস্থায় সব থেকে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে দিনমুজুরেরা। এর আগে দিনাজপুরে জেলা প্রসাশক জুন মাসে ৩ সপ্তাহ লকডউন দিয়েছিন করোনা সংক্রামন ঠেকাতে। সেটা শেষ হয়েছে জুন মাসের ২৮ তারিখ। নিন্ম আয়ের মানুষ যখন সেই ধাক্কা সামলে উঠে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, তখনি আবার ৭ দিনের কঠোর লকডাউন ঘোষনা করেছে সরকার। এতে করে দৈনিক আয়ের মানষের টিকে থাকার সংগ্রাম আরো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

দিনাজপুর জেলা সিপিবির সাধারন সম্পাদক বদিউজ্জামান বাদল বলেন, সরকারের কর্মসূচি দ্রুত বাস্তাবায়ন করতে হবে। সরকারের সহযোগিতা পাচ্ছে কিছু মানুষ । যারা আগে থেকেই বিভিন্ন ভাবে দরিদ্র ও দুস্থ হিসাবে নিবন্ধিত। তাদের তথ্য প্রসাশনের কাছে নেই, তাদের সহায়তা পাওয়ার কোন ব্যবস্থ্যা নেই।

দিনাজপুর ঝেলা প্রশাসক খালেদ মোহাম্দ জাকী বলেন, লকডাইনের জন্য যদি করো সহায়তার প্রয়োজন হয় তাহলে আমাদের জানালে। আমরা চেষ্ঠা করবো তাদেরকে সহয়োগিতা করার জন্য।