স্বর্ণের কাঁচামাল আমদানির অনুমোদন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২১-০৭-০২ ১৭:৪৫:৩০


স্বর্ণ আমদানি অনুমোদনের পর এবার কাঁচামাল আমদানির অনুমোদন দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে কাঁচামাল আমদানি করতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। এজন্য আবেদনের সাথে অফেরতযোগ্য ৩০ লাখ টাকা জামানত জমা দিতে হবে। আর প্রতি পাঁচ বছর পর লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে। এজন্য প্রয়োজন হবে পাঁচ লাখ টাকা।

স্বর্ণের কাঁচামাল আমদানির অনুমোদন দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার ব্যাংকগুলোর জন্য নতুন এক নির্দেশনা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুই দিন আগে দেশের বড় একটি ব্যবসায়ী গ্রুপের এমডি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সাথে সাক্ষাৎ করেন। ওই গ্রুপের অনুরোধেই দুই দিনের মাথায় স্বর্ণের কাঁচামাল আমদানির অনুমোদন দিলো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে জারি করা সার্কুলারে বলা হয়, স্বর্ণ নীতিমালা ২০১৮ অনুযায়ী পরিশোধিত স্বর্ণ আমদানির পাশাপাশি অপরিশোধিত স্বর্ণ আমদানির জন্য নতুন করে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, অপরিশোধিত স্বর্ণ যেমন আকরিক এবং আংশিক পরিশোধিত স্বর্ণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী আমদানি করা যাবে। তবে এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বেঁধে দেয়া শর্তাবলি পরিপালন করতে হবে। আগে পরিশোধিত স্বর্ণ আমদানির জন্য অফেরতযোগ্য জামানত দিতে হতো পাঁচ লাখ টাকা, এবার অপরিশোধিত স্বর্ণ আমদানির জন্য অফেরতযোগ্য জামানত জমা দিতে হবে ৩০ লাখ টাকা। পাঁচ বছর পর পর স্বর্ণ আমদানির লাইসেন্স নবায়ন করতে প্রয়োজন হয় দুই লাখ টাকা, এখন অপরিশোধিত স্বর্ণ আমদানির লাইসেন্স নবায়ন করতে প্রয়োজন হবে পাঁচ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, স্বর্ণের কাঁচামাল আমদানি করে দেশে পরিশোধিত স্বর্ণ তৈরি করা হবে। এজন্য লোকবলের পাশাপাশি বড় পরিসরের বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। এজন্য জামানতের পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে।

জানা গেছে, এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে স্বর্ণ আমদানির অনুমোদন দেয়া হয় ২০১৯ সালে। তার আগে বৈধভাবে কেউ স্বর্ণ আমদানি করতেন না। চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে স্বর্ণ আসত। মাঝে মধ্যে শুল্ক গোয়েন্দাদের হাতে ধরা পড়ার পর জানা যেত চোরাচালানিদের কারবার। স্বর্ণের চোরাচালান ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নানা উদ্যোগ নিলেও চোরাচালান থেমে ছিল না। এর আগে আপন জুয়েলার্সের ঘটনার পর সারা দেশে স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছিল জুয়েলারি মালিক সমিতি। বৈধ পথে দেশে স্বর্ণ না আসায় এক দিকে যেমন সরকার রাজস্ব হারায়, অপর দিকে পাচার হয়ে যায় দেশের কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রা। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার ওই বছর সোনা আমদানি উন্মুক্ত করার জন্য স্বর্ণ নীতিমালার ওপর একটি গেজেট প্রকাশ করে। নীতিমালা জারি করার পর কিভাবে সোনা আমদানি করা হবে, কারা আমদানি করবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর দেয়া হয়। গত বছর সোনা আমদানির জন্য একটি নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

প্রসঙ্গত গত বছর বাংলাদেশ ব্যাংক একটি ব্যাংকসহ ১৯টি প্রতিষ্ঠানকে স্বর্ণ আমদানির লাইসেন্স প্রদান করে। ব্যাংকটি হচ্ছে নতুন প্রজন্মের বেসরকারি মধুমতি ব্যাংক। বাকি ১৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড, জুয়েলারি হাউজ, রতনা গোল্ড, অরোসা গোল্ড করপোরেশন, আমিন জুয়েলার্স, শ্রীজা গোল্ড প্যালেস লিমিটেড, জরোয়া হাউস লিমিটেড, মিলন বাজার, এসকিউ ট্রেডিং, এম কে ইন্টারন্যাশনাল, বোরাক কমোডিটিস এক্সচেঞ্জ, গোল্ডেন ওয়ার্ল্ড জুয়েলার্স, রিয়া জুয়েলার্স, লক্ষ্মী জুয়েলার্স, বিডেক্স গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ড এবং ডি ডামাস দ্য আর্ট অব গ্যালারি।

সানবিডি/এএ