‘এখনো নিভেনি আগুন’ ৫০ মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ আরও অর্ধশত
জেলা প্রতিনিধি আপডেট: ২০২১-০৭-০৯ ১৫:০০:৩১
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে খাদ্যপণ্যের কারখানায় আগুনে অন্তত ৫০ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৪৯টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় অর্ধশতাধিক শ্রমিক।
শুক্রবার (৯ জুলাই) দুপুর ২টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট। ডেমরা, কাঞ্চন, আড়াইহাজার ও নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে কাজ করছেন।
এদিকে ৫০ শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনায় কারখানার সামনে হতাহত ও নিখোঁজদের স্বজনদের আহাজারিতে পুরো চিত্র বদলে গেছে। রূপগঞ্জের বাতাসে যেন পাওয়া যাচ্ছে পোড়া লাশের গন্ধ। অনেক শ্রমিক এখনও ওই ভবনের ভেতরে আটকা রয়েছেন বলে জানিয়েছেন শ্রমিক ও নিখোঁজের স্বজনরা।
কাঞ্চন ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ শাহ-আলম বলেন, মধ্যরাতে আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসলেও সকাল ৬টার দিকে কারখানার চারতলায় আবারও আগুন বাড়তে থাকে। আগুন নিয়ন্ত্রণের আগ পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না। আগুন নিয়ন্ত্রণে এখনো কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট।
নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ৬ তলা ভবনটির চতুর্থ তলার শ্রমিকরা কেউ বের হতে পারেনি। সিকিউরিটি ইনচার্জ ৪ তলার কেচি গেটটি বন্ধ করে রাখায় কোনো শ্রমিকই বের হতে পারেননি। চারতলায় ৭০-৮০ জন শ্রমিক কাজ করতেন। চতুর্থ তলার শ্রমিকদের ইনচার্জ মাহবুব, সুফিয়া, তাকিয়া, আমেনা, রাহিমা, রিপন, চম্পা রানী, নাজমুল, মাহমুদ, ওমরিতা, মহিউদ্দিন, তাছলিমাসহ প্রায় ৭০-৮০ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ শ্রমিকদের স্বজনরা ফ্যাক্টরির সামনে এসে ভিড় জমান প্রিয়জনের সন্ধানে।
নিখোঁজদের স্বজনরা অভিযোগ করে জানান, কর্তৃপক্ষের অবহেলায় কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। কারখানায় আগুন লাগার পরও কর্তৃপক্ষ কেচি গেটের তালা না খোলায় শ্রমিকরা বের হতে পারেননি।
এদিকে, আগুন লাগার পর অনেকেই ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে বাঁচার চেষ্টা করে গুরুত্বর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের অনেককেই স্থানীয় হাসপাতালের পাশাপাশি ঢাকা মেডিকেলসহ রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল আরেফীন বলেন, আগুন প্রায় নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল ভোরের দিকে, সকালে আবারো বেড়ে যায় আগুন। আমরা কাজ করছি।
শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কর্ণগোপ এলাকায় সেজান জুস কারখানায় প্রায় সাত হাজার শ্রমিক কাজ করেন। সাততলা ভবনে থাকা কারখানাটির নিচ তলার একটি ফ্লোরে কার্টন থেকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কালো ধোঁয়ায় কারখানাটি অন্ধকার হয়ে যায়।
একপর্যায়ে ছোটাছুটি শুরু করেন শ্রমিকরা। কেউ কেউ ভবনের ছাদে অবস্থান নেন। আবার কেউ কেউ ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়তে শুরু করেন। এ সময় ঘটনাস্থলেই স্বপ্না ও মিনা নামে দুই নারী নিহত হন। পরে মোরসালিন লাফ দিয়ে আহত হলে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সানবিডি/এন/আই






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













