শিক্ষক ধর্মঘট স্থগিত, পুরোদমে ক্লাস শুরু কাল থেকে

আপডেট: ২০১৬-০১-১৯ ১৯:৩০:৩০


1410557_99203বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি ফেডারেশন তাদের চলমান ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেছে। আগামীকাল বুধবার থেকে তারা ক্লাসে ফিরে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করে শিক্ষক নেতারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন এবং আমরা প্রধানমন্ত্রীর ওপর বিশ্বাস ও আস্থা রাখতে চাই। ফেডারেশনের নেতাদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক শেষে আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষক নেতারা তাদের কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা জানান।

নেতারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন এবং আমরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা রাখতে চাই। আমরা সরকারকে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দিতে চাই। আশা করি এই সময়ের মধ্যে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।

চলমান আন্দোলনের অংশ হিসাবেই ধর্মঘট কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করার কথা জানিয়ে ফেডারেশনের মহাসচিব মাকসুদ কামাল বলেন, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আন্দোলন কর্মসূচি স্থগিত থাকবে। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি সমিতির ফেডারেশনের পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে আমরা আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করবো।

সংশ্লিষ্ট শিক্ষক সমিতিগুলো তাদের নিজ নিজ সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে ধর্মঘট কর্মসূচি চূড়ান্ত করবে। তবে আমরা আগামীকাল থেকেই ক্লাসে ফিরে যাবো। পুরোদমে ক্লাস শুরু হবে।

তিনি বলেন, ছাত্রছাত্রীদের যে ক্ষতি হয়েছে তা যেকোনো মূল্যে পূরণ করা হবে। কাল থেকেই আমরা সে কাজ শুরু করবো।

গতকাল বিকালে প্রধানমন্ত্রী অন্যান্য শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি শিক্ষক-নেতাদেরও গণভবনে পিঠা উৎসবে দাওয়াত দেন। সেখানেই বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, মহাসচিব এ এস এম মাকসুদ কামালসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকনেতার সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় দেড় ঘণ্টা বৈঠক চলে।

দাবি পূরণের আশ্বাস দিয়ে আন্দোলনরত ৩৭টি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, বৈঠকটি ফলপ্রসূ হয়েছে— প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা যাতে গ্রেড-৩ থেকে গ্রেড-১-এ যেতে পারেন, তার সোপান তৈরি করা হবে। অন্য দাবিগুলো পর্যালোচনা করে পূরণ করা হবে।

নতুন বেতন স্কেলে গ্রেডের সমস্যা নিরসনের দাবিতে ফেডারেশনের ডাকে ১১ জানুয়ারি থেকে লাগাতার কর্মবিরতি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের একদিন আগে গত রবিবার শিক্ষাসচিবের কাছে লিখিত প্রস্তাবও দেন শিক্ষকেরা। এতে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট অধ্যাপকের মধ্য থেকে ৫ শতাংশকে ডিস্টিঙ্গুইশড (বিশিষ্ট বা সম্মানিত) অধ্যাপক করার প্রস্তাব দেন শিক্ষকেরা। এই পদের মূল বেতন হবে জ্যেষ্ঠ সচিবের সমান। একই সঙ্গে আগের মতো মোট অধ্যাপকের মধ্য থেকে ২৫ শতাংশকে গ্রেড-১ করাসহ কিছু বিকল্প প্রস্তাবও দিয়েছেন তারা।

সানবিডি/ঢাকা/রাআ