চামড়া কিনতে ৫৮৩ কোটি টাকা ঋণ দেবে ৯ ব্যাংক
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২১-০৭-১১ ২১:৪২:১৩
প্রতি বছরই ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কাঁচা চামড়া কিনতে ব্যবসায়ীদের ঋণ দিয়ে থাকে ব্যাংকগুলো। তবে ব্যবসায়ীদের তহবিলের জোগান দেয়ার বরাদ্দ রাখা হলেও ঋণ নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। গত বছর ঈদুল আজহার আগে ৫ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকসহ ৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক এ খাতে বরাদ্দ রেখেছিল ৬৪৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কিন্তু এর বিপরীতে ব্যবসায়ীরা ঋণ নিয়েছিল মাত্র ৬৫ কোটি টাকা।
এবারও চামড়া কিনতে ব্যবসায়ীদের ৫৮৩ কোটি টাকার তহবিলের জোগান দেয়ার জন্য বরাদ্দ রেখেছে চার রাষ্ট্রায়ত্তসহ ৯ বাণিজ্যিক ব্যাংক। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রেখেছে রূপালী ব্যাংক ২২৭ কোটি টাকা। এরপর জনতা ব্যাংক ১৪০ কোটি টাকা, অগ্রণী ব্যাংক ১২০ কোটি টাকা এবং সোনালী ব্যাংক ২৫ কোটি টাকা।
ব্যাংকগুলোতে পৃথক পৃথক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
আর বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংক ৬৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রেখেছে। এছাড়াও বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক আড়াই কোটি টাকা, এনসিসি ব্যাংক ৫০ লাখ টাকা এবং দি সিটি ব্যাংক ২০ লাখ টাকা ব্যবসায়ীদের চামড়া কিনতে বরাদ্দ রেখেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান মতে, গত বছর ঈদুল আজহায় কাঁচা চামড়া কিনতে অগ্রণী ব্যাংক বরাদ্দ রেখেছিল ১৮০ কোটি টাকা, রূপালী ব্যাংক ১৫৫ কোটি, জনতা ব্যাংক ১০০ কোটি, সোনালী ব্যাংক ৭১ কোটি, বেসিক ব্যাংক তিন কোটি। বাণিজ্যিক ব্যাংকের মধ্যে ইসলামী ব্যাংক গত বছর বরাদ্দ রেখেছিল ৫০ কোটি টাকা, ঢাকা ব্যাংক ৫০ কোটি, প্রাইম ব্যাংক ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ রেখেছিল।
অন্যদিকে সরকার প্রথমবারের মতো পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে ২০ লাখ বর্গফুট করে মোট এক কোটি বর্গফুট ওয়েট-ব্লু চামড়া রফতানির অনুমতি দিয়েছে। শনিবার (১০ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের (রফতানি-১ অধিশাখা) আমদানি ও রফতানি নিয়ন্ত্রক দফতরের প্রধান নিয়ন্ত্রককে দেয়া চিঠিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে ওয়েট-ব্লু চামড়া রফতানির অনুমতি দেয়া হয়। এএসকে ইনভেস্টমেন্ট, মেসার্স কাদের লেদার কমপ্লেক্স, আমিন ট্যানারি লিমিটেড, লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ অব বাংলাদেশ লিমিটেড (ইউনিট-২) এবং কালাম ব্রাদারসকে এই ২০ লাখ বর্গফুট করে মোট এক কোটি বর্গফুট ওয়েট-ব্লু চামড়া রফতানির অনুমতি দেয়া হয়েছে।
যেসব শর্তে ওয়েট-ব্লু চামড়া রফতানির অনুমতি
ওয়েট-ব্লু চামড়া রফতানির জন্য রফতানি নীতি ২০১৮-২১ অনুসরণ করতে হবে; এই অনুমতি শুধুমাত্র রফতানির অনুমতিপ্রাপ্ত ওয়েট ব্লু চামড়ার নির্ধারিত পরিমাণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং পরবর্তী রফতানিগুলোর জন্য পুনরায় আবেদন করতে হবে; মানসম্মত ওয়েট চামড়া রফতানি করতে হবে; রফতানি অনুমতির মেয়াদ ২০২২ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে; জাহাজীকরণ শেষে রফতানি সংশ্লিষ্ট সকল কাগজ-পত্রাদি এ শাখায় দাখিল করতে হবে; যে দেশে রফতানির জন্য অনুমতি প্রদান করা হবে সে দেশেই রফতানি করতে হবে এবং সরকার প্রয়োজনে যেকোনো সময় ওয়েট-ব্লু চামড়া রফতানি নিষিদ্ধ করতে পারবে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনার প্রভাবে ইউরোপের চামড়ার বাজার ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়নি। ইউরোপের বাজার স্বাভাবিক না হলেও নন-ট্যারিফ বাধা কমানো গেলে চীনের বাজারে চামড়া রফতানির সম্ভাবনা আছে।
এ বিষয়ে ট্যানারি মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএ) সভাপতি শাহিন আহমেদ জানান, ট্যানারিগুলো হাজারিবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তর করা এবং বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসায়ীরা অনেকেই ঋণ পরিশোধ করতে পারেননি। এর ফলে তাদের অনেকেই খেলাপি হয়েছেন। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমরা (ব্যবসায়ী) বিশেষ বিবেচনায় ঋণ নবায়নের সুযোগ চাই। তাছাড়া ঋণ বিতরণের তথ্য যেগুলো ব্যাংক থেকে দেয়া হচ্ছে, তার চেয়ে বেশি পরিমাণ ঋণ ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে।
সানবিডি/এএ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














