খুলনায় কোরবানির পশু জবাইয়ে ১৪০টি স্থান নির্ধারণ
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২১-০৭-১৬ ২০:৫৬:০৩
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় বাড়ির সামনে কিংবা রাস্তার ওপরসহ যেখানে সেখানে পশু কোরবানি বন্ধে এবারও উদ্যোগ নিয়েছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। পশু কোরবানির জন্য নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডের ১৪০টি পয়েন্ট নির্ধারণ করে দিয়েছে সংস্থাটি।
পরিবেশ দূষণ রোধে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে করোনা পরিস্থিতিতে এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতি বছর ঈদুল আজহার দিন খুলনা মহানগরীতে বাড়ির সামনে এবং রাস্তার ওপর গরু-ছাগল কোরবানি দেওয়া হয়। এর ফলে পরিবেশ দূষিত হয়। এ ছাড়া পশু জবাই দেখে অনেক শিশু ভয় পায়। এ অবস্থা নিরসনে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তৎপর হয়েছে কেসিসি।
কেসিসির সিনিয়র ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. রেজাউল করিম জানান, গত বছর নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি হয়েছিল প্রায় ৪৫ শতাংশ। কোরবানিদাতাদের বাড়িতে পর্যাপ্ত জায়গা থাকলে তারা এসব স্থানে পশু নিয়ে আসে না। তাই কিছু স্থান ফাঁকা পড়ে থাকে। তিনি জানান, এবার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে আগেভাগেই তারা প্রস্তুতি শুরু করেছেন। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানির আহ্বান জানিয়ে নগরীতে লিফলেট বিলি ও মাইকিং করা হবে। সিনিয়র ভেটেরিনারি সার্জন জানান, পশু জবাই ও মাংস কাটার জন্য এসব স্থানে থাকবেন জবাইকারী ও কসাই। এ ছাড়া মাংস ধোয়ার জন্য থাকবে পানি ও বসার জন্য চেয়ার। কেসিসি কর্তৃপক্ষের ধারণা, নগরীতে এ বছর পশু কোরবানি হবে প্রায় ১০ হাজার।
কেসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা আবদুল আজিজ জানান, প্রতি বছর কোরবানির পর কিছু মানুষ রাস্তার ওপর কিংবা ড্রেনে গবাদি পশুর উচ্ছিষ্টাংশ ফেলে। এতে দুর্গন্ধ ছড়ায় এবং ড্রেনের পানি চলাচল বিঘ্নিত হয়। বর্জ্য অপসারণে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের বেগ পেতে হয়। নির্ধারিত স্থানে পশু কোরবানি হলে দ্রুত ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা সম্ভব হবে।
কেসিসির এই উদ্যোগকে নগরীর অধিকাংশ মানুষ স্বাগত জানালেও কারও কারও ভিন্ন মতও রয়েছে। নগরীর মিয়াপাড়ার বাসিন্দা ইয়াছিন শেখ ও দোলখোলা এলাকার কামরুল ইসলাম বলেন, বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে নির্দিষ্ট স্থানে পশু নেওয়া এবং সেখান থেকে মাংস বাড়ি নিয়ে আসার ক্ষেত্রে কিছুটা বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। তার চেয়ে নিজেদের বাড়ির আঙিনায় পশু কোরবানি করা হলে ঝামেলা কম হয়।
এ ব্যাপারে কেসিসির সিনিয়র ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মো. রেজাউল করিম বলেন, কারও বাড়ির আঙিনায় বা গাড়ির গ্যারেজে পশু কোরবানির মতো জায়গা থাকলে তারা সেখানে করতে পারেন। তবে তারা যেন ময়লা রাস্তায় কিংবা ড্রেনে না ফেলেন। তাদের বাড়ির পার্শ্ববর্তী এলাকায় ময়লা ফেলার নির্ধারিত স্থানে পশুর বর্জ্য ফেলার জন্য আহ্বান জানান তিনি।
সানবিডি/এএ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













