মধ্যরাতে ২ সাংবাদিককে গ্রেপ্তারের ঘটনায় বিএফইউজে’র উদ্বেগ-নিন্দা

সান বিডি ডেস্ক আপডেট: ২০২১-০৭-১৮ ২২:৫১:২২


বগুড়া এবং ফরিদপুরে দুই জন সাংবাদিককে মধ্যরাতে তাদের বাড়ি থেকে পুলিশ কর্তৃক তুলে নেয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন- বিএফইউজে নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে আটকের প্রায় ২০ ঘন্ট পর বগুড়ার পরিবার পরিকল্পনা দফতরের অফিস সহকারি শামীমা আক্তার বাদি হয়ে সাংবাদিক আক্তারুজ্জমানের বিরুদ্ধে ডিজিটাল আইনে মামলা দায়েরের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে সাংবাদিকদ্বয়ের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন তারা।

বিএফইউজে সভাপতি এম আবদুল্লাহ এবং মহাসচিব নুরুল আমিন রোকন এক বিবৃতিতে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বগুড়ায় পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সামীর হোসেন মিশু ও তার অফিস সহকারী শামিমাকে সঙ্গে নিয়ে শনিবার দিবাগত রাত ৩টায় জাতীয় দৈনিক বাণিজ্য প্রতিদিনের জেলা প্রতিনিধি আখতারুজ্জামানকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় ডিবি পুলিশ। পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের একটি প্রকল্পে কর্মরতদের ভাতা বিতরণে দুর্নীতি নিয়ে লেখার কারণে মামলা ও ওয়ারেন্ট ছাড়াই তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযানের সময় সম্পূর্ণ বেআইনীভাবে ডা. মিশু এবং তার নারী অফিস সহকারী পুলিশের সঙ্গে ছিলেন। ওই নারী আটককৃত সাংবাদিকের ওপর চড়াও হওয়ার চেষ্টা চালান বলেও জানা গেছে। দিনভর বগুড়ার সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিক আক্তারের মুক্তির চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। প্রায় ২০ ঘন্টা পর সন্ধ্যায় বগুড়া সদর থানায় তার বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা নথিভুক্ত করা হয়।

বিএফইউজে নেতারা বলেন, আমরা আগেই বলেছিলাম ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দুর্নীতিবাজরা তাদের রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করবে। বগুড়ার ঘটনায় তা আবারও প্রমাণিত হলো।

এদিকে একই রাতের (শনিবার) দেড়টার দিকে ফরিদপুরের সালথায় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ঢাকাটাইমস২৪ ডটকমের প্রতিনিধি নুরুল ইসলাম নাহিদকে তার গ্রামের বাড়ি থেকে পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তাকে থানায় রেখে একটি সহিংসতার মামলা জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। নাহিদ দীর্ঘদিন দৈনিক ইত্তেফাকের প্রতিনিধি হিসেবেও কাজ করেছেন।

নেতৃবৃন্দ এভাবে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে সাংবাদিককে তুলে নেয়ার ঘটনাকে সভ্যতাবিবর্জিত উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা আইনের শাসনের পরিপন্থী এবং স্বৈরাচারী আচরণের বহিঃপ্রকাশ। তারা অবিলম্বে দুই সাংবাদিকের নিঃশর্ত মুক্তি এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন।

এদিকে দিনভর বগুড়ার সাংবাদিক নেতা, রাজনৈতিক নেতা ও পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন মহলের প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়ে গেলো। তরুণ সাংবাদিক আক্তারকে মুক্ত করা গেল না। তাঁকে বুধবারের ঈদ কাটাতে হবে কারা প্রকোষ্ঠে। পরিবারের ঈদ হবে আনন্দহীন। শনিবার রাত ৩টায় আটকের প্রায় ২০ ঘন্টা পর আজ সন্ধ্যায় ডিজিটাল নিরাপত্তা নামক কালো আইনে তার বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে জানালেন সাংবাদিক বন্ধুরা। বাদী বগুড়া সদর পরিবার পরিকল্পনা অফিসের সহকারী ও হিসাবরক্ষক শামীমা আক্তার। সারা দিনের প্রচেষ্টায় পুলিশ সুপার, ওসি থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সবাই সাংবাদিক আক্তারের মুক্তির ব্যাপারে সহানুভূতিশীল মনোভাব প্রকাশ করলেও মন গলানো যায়নি আলোচিত এ নারীর। সবার অনুরোধ উপেক্ষা করে তিনি ও তাঁর বস ডা. মিশু মামলার ব্যাপারে অনমনীয় থাকেন। অভিযোগ হচ্ছে- পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের প্রকল্পে নিয়োজিত কর্মীদের ভাতা বিতরণে দুর্নীতির বিষয়ে ফেসবুকে লিখেছেন সাংবাদিক আক্তার।

সকাল ১০টায় বগুড়ার পুলিশ সুপারের সঙ্গে আমার বিস্তারিত কথা হয়। তিনি সাংবাদিকের ফেসবুক স্ট্যাটাসে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও ঈদের প্রাক্কালে বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে দেখার আশ্বাস দেন। বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় দেন সমঝোতার জন্য। সাংবাদিক ইউনিয়নের দুই অংশের নেতারা সারাদিন থানায় উপস্থিত থেকে চেষ্টা চালান। আক্তারের বাবা হাতে- পায়ে ধরে সন্তানের পক্ষে ক্ষমা চান। কিন্তু বিতর্কিত ও আলোচিত নারী শামীমা আক্তারের খুঁটির জোর এতই শক্ত যে তিনি সাংবাদিক আক্তারকে ‘উচিত শিক্ষা’ দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল থাকেন। আক্রোশ এমন পর্যায়ে গেছে যে, রাত ৩টায় আটকের সময় পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মিশু ও তাঁর সহকারী শামীমা আক্তার পুলিশের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বলে আক্তারের পরিবার জানিয়েছে।

সানবিডি/এএ