বিধিনিষেধের মধ্যে রাজধানী এখন রিকশার দখলে
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২১-০৭-২৬ ১২:১৭:৩৩
মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ২৩ জুলাই থেকে ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ শুরু হয়েছে। ৫ আগস্ট পর্যন্ত নির্ধারণ করা এই বিধিনিষেধের মধ্যে ব্যাংক, বীমা ও শেয়ারবাজার খোলা রয়েছে।
এর সঙ্গে কোরবানির পশুর চামড়া সংশ্লিষ্ট খাত, খাদ্যপণ্য এবং কোভিড-১৯ প্রতিরোধে পণ্য ও ওষুধ উৎপাদনকারী শিল্প বিধিনিষেধের বাইরে রয়েছে।
সরকারঘোষিত কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশা বন্ধ থাকায় প্যাডেল চালিত রিকশাই এখন একমাত্র ভরসা।
ফলে ঢাকার ফাঁকা রাস্তার সর্বত্রই দেখা যাচ্ছে রিকশার দাপট। মূলত এখন ঢাকার রাস্তা রিকশার দখলে চলে গেছে। আর গণপরিবহ না চলায় যাত্রীদের কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন রিকশা চালকরা।
কঠোর বিধিনিষেধের চতুর্থদিন সোমবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর মালিবাগ, মৌচাক, শান্তিনগর, কাকরাইল, পল্টন, ফকিরাপুল ও মতিঝিল অঞ্চল ঘুরে এবং যাত্রী ও রিকশা চালকদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রিকশাচালকরা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখন দ্বিগুণ বা তারও বেশি ভাড়া আদায় করছেন। কর্মক্ষেত্রে যেতে যাত্রীরা রিকশাচালকদের বাড়তি ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
অপরদিকে রিকশা চালকরা বলছেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখন যাত্রী অনেক কম পাওয়া যাচ্ছে। আগে যে সময়ের মধ্যে ৮-১০টি ভাড়া পাওয়া যেত, এখন সেখানে ৩ থেকে ৪টি ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে। এ কারণে যাত্রীদের কাছ থেকে একটু বেশি ভাড়া নেয়া হচ্ছে।
সরকারি-বেসরকির অফিস, গার্মেন্টস-কলকারখানা ও রফতানিমুখী সবকিছু বন্ধ থাকায় এবার অন্যান্য বারের বিধিনিষেধের তুলনায় রাস্তায় মানুষের চলাচল তুলনামূলক কম। ফলে গাড়ি চলাচলও কম। কিছু ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল চলাচল করলেও রাস্তায় সব থেকে বেশি চলছে রিকশা।
মালিবাগ আবুল হোটেল এলাকায় কথা হয় রিকশাচালক বাদলের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘দুদিন ধরে রাস্তায় রিকশা চলাচল বেড়েছে। যাত্রীও কিছু পাওয়া যাচ্ছে। তবে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যাত্রী অনেক কম। অফিস সময়ে কিছু যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে।’
মালিবাগ রেলগেইট এলাকা থেকে মতিঝিলের উদ্দেশে রওনা করা আব্দুর রহমান নামের একজন বলেন, ‘ আমি মতিঝিলের একটি বিমা কোম্পানিতে কাজ করি। আমাদের অফিস খোলা রয়েছে। নিয়মিত অফিস যেতে হয়। বাস চলছে না, তাই বাধ্য হয়ে রিকশায় যেতে হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘অন্যান্য সময় রিকশা ভাড়া নিতো ৮০ থেকে ১০০ টাকা। গতকাল ১৫০ টাকা ভাড়া দিয়ে গেছি। আজ ১৪০ টাকার নিচে কোনো রিকশা পাইনি। ফলে বাধ্য হয়েই এই বাড়তি ভাড়া দেয়া লাগছে। বাস চললে অল্প টাকা খরচেই অফিস যাওয়া যায়। অফিস খোলা রেখে বাস বন্ধ রাখায় আমাদের ভুগতে হচ্ছে বেশি।’
তিনি বলেন, স্বাভাবিক সময়ে দিনে ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা ভাড়া হয়। গতকাল ৪০০ টাকা ভাড়া পেয়েছিলাম। আজও তেমন হবে বলে মনে হচ্ছে। অন্য সময়ের তুলনায় এখন রিকশা ভাড়া একটু বেশি। কারণ আমরা ভাড়া খুব কম পাচ্ছি।’
পল্টন মোড়ে সেন্ট্রাল পুলিশ হাসপাতালের সামনে কথা হয় রিকশাচালক আব্বাস আলীর সাথে। তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে যতুটুকুর মধ্যে ৮ থেকে ১০টা ভাড়া পাওয়া যায়, এখন সেই সময়ের মধ্যে ৩ থেকে ৪টা ভাড়াও পাওয়া যায় না। মানুষ খুব কম চলাচল করছে। এ কারণে ভাড়া একটু বেশি। ভাড়া বেশি নিলেও আমাদের আয় অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। আমরা যে কী কষ্টে আছি বলে বোঝাতে পারবো না। পেটের দায়ে রাস্তায় রিকশা নিয়ে নেমেছি।’
সানবিডি/ এন/আই






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














