গৃহবধূকে হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

উপজেলা প্রতিনিধি আপডেট: ২০২১-০৭-৩১ ১৫:৪৪:২২


বিয়ের মাত্র ৭ মাসের মাথায় এক গৃহবধূকে হাত-পা-মুখ বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (৩০ জুলাই) সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে উপজেলার বাদাঘাট উত্তর ইউনিয়নের বাদালার পাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারায় তাকে হত্যাচেষ্টা করা হয় বলে জানায় পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি প্রতিবেশীরা দেখে ফেলায় প্রাণে বেঁচে যান মাইফুল নেছা (২৩) নামের ওই গৃহবধূ। পরে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

গৃহবধূর স্বজনরা জানান, বিয়ের পর থেকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন মাইফুল নেছার কাছে যৌতুকের দাবিতে অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। যৌতুকের ৫০ হাজার টাকার দাবি মেটানোর পরও নির্যাতন বন্ধ করেনি। গত ৩০ জুলাই রাত ৯টার দিকে যৌতুকের দাবি না মেটানোর কারণে হাত-পা ও মুখ বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যা চেষ্টা করেন স্বামী, শ্বশুর ও দুই দেবর। ঘটনাটি প্রতিবেশীরা দেখে ফেলায় ওই গৃহবধূকে নদীতে ফেলা সম্ভব হয়নি। পরে নদীর পাড় থেকে হাত-পা ও মুখ বাধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

জানা গেছে, গৃহবধূ নির্যাতনের ঘটনা জানতে পেরে প্রতিবেশী মো. সুমন আহমেদ জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। এরপর পুলিশ এসে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ তরফদার বলেন, ঘটনা যেভাবে বলা হচ্ছে, তেমন নয়। ওই গৃহবধূর বাবার বাড়ি ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। আমরা এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। পেলে ব্যবস্থা নেব।

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সুমন চন্দ্র বর্মণ বলেন, মাইফুল নেছাকে শনিবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বজনরা ভর্তি করেছেন। তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন, আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

সানবিডি/আরএইচ