৪৪ বছর পর পদ্মায় সন্ধান মিলল হার্ডিঞ্জ ব্রিজের স্প্যান

|| প্রকাশ: ২০১৬-০১-২১ ১৮:২৮:০৫ || আপডেট: ২০১৬-০১-২১ ১৮:২৮:০৫

Pabna1453374236মুক্তিযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনীর বোমায় ভেঙে পড়া ঐতিহ্যবাহী পাবনার পাকশী হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ১২ নাম্বার স্প্যানের অংশবিশেষ ৪৪ বছর পর পদ্মায় পাওয়া গেছে। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলে রেল কর্তৃপক্ষ ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংরক্ষণের জন্য ইতিমধ্যে প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

জানা গেছে, কয়েকদিন আগে স্থানীয় ডুবুরি আশরাফ আলী খান (রাষ্ট্রীয় স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত মৎস্যজীবী) পদ্মার পানিতে মাছ ধরতে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধে বিধ্বস্ত সেই গার্ডারটির অস্তিত্ব টের পান। তার মুখে এ খবর শুনে লোকজন পদ্মায় ভিড় জমান সেটি দেখতে। পাকশীর জোড়াসেতু এলাকায় ভ্রমণপিপাসু লোকজনও দূর-দূরান্ত থেকে এখানে এসে দেখে যাচ্ছেন সেই অংশটুকু। এভাবে লোকমুখে শুনে রেলওয়ের হার্ডিঞ্জ ব্রিজ কর্তৃপক্ষের নজরে আসে বিষয়টি।

বৃহস্পতিবার সরেজমিন গিয়ে পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজের নিচে স্বল্পপানিতে সেই গার্ডারের অংশ দেখা যায়। এ সময় উৎসুক লোকজনও একনজর সেই ঐতিহাসিক অংশটি দেখতে ভিড় করে। রেলওয়ের সেতু প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বে নিয়োজিত পাকশীর বিভাগীয় ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ার আরিফুল ইসলাম জানান, যুদ্ধের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হার্ডিঞ্জ ব্রিজের ভেঙে পড়া স্প্যানের কিছু অংশ ১৯৭২ সালে একবার পদ্মায় ভেসে উঠেছিল। সে সময় পানির গভীরতা বেশি থাকায় কিছু অংশ উদ্ধার করা গেলেও বেশিরভাগ অংশই নদীতে রয়ে যায়। তিনি বলেন, ২-৩ দিন আগে আবারো সেই স্প্যানের বাকি অংশ ভেসে ওঠার খবর শুনে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ সরেজমিন ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেছে বলে জানান তিনি।

হার্ডিঞ্জ ব্রিজের শতবর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও মুক্তিযুদ্ধের সময় সেই বোমা নিক্ষেপের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যাতে হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ব্যবহার করে নদীর এপারে এসে হামলা করতে না পারে সেজন্য ভারতীয় মিত্রবাহিনী বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার দুদিন আগে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর ওই ব্রিজে বোমা নিক্ষেপ করে। এতে ব্রিজের ১২ নাম্বার স্প্যানটি ভেঙে পদ্মায় বিলীন হয়ে যায়।

বাংলাদেশ স্বাধীনের পর ভারত এই ব্রিজ সংস্কারের জন্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সহায়তাও করে। তবে সে সময় ভেঙে পড়া ব্রিজের ১২ নাম্বার গার্ডারটির কোনো খোঁজ না পেয়ে নতুন করে ওই গার্ডারটি ১৯৭৫ সালে প্রতিস্থাপন করা হয়। ওই বছরই ৫ আগস্ট হার্ডিঞ্জ ব্রিজ দিয়ে আবার ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

রেল সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য রেলওয়ের রাজশাহী বিভাগীয় কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ার অফিস সূত্র জানায়, বিভাগীয় অফিসের আদেশ পেলেই পদ্মা নদী থেকে ব্রিজের ভেঙে পড়া ওই অংশ উদ্ধারের কাজ শুরু করা হবে।

সানবিডি/ঢাকা/আহো