স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোটেল-রেস্তোরাঁ খোলা রাখতে চান মালিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক আপডেট: ২০২১-০৮-০২ ১৪:০৭:০২


৫ আগস্টের পর থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোটেল রেস্তোরাঁ খোলা রাখার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ হোটেল রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি। সোমবার (২ আগস্ট) বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরেন বাংলাদেশ হোটেল রেস্তোরা মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, চলমান লকডাউনে প্রায় ৮০ ভাগ রেস্তোরা বন্ধ রয়েছে তাই এ খাতে সংশিষ্ট কর্মকর্তা কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছে। সারাদেশে সমিতির তালিকাভুক্ত ৬০ হাজার রেস্তোরাঁয় ৩০ হাজার কর্মীসহ প্রায় ২ কোটি মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দাবি করে তাদের প্রতি সুনজর দেয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। যদিও বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে সারাদেশে হোটেল রেস্তোরার সংখ্যা ৪ লক্ষ ৩৬ হাজারের বেশি।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে টেকওয়ে, পার্সেল ও অনলাইন ডেলিভারি করছে এমন প্রতিষ্টানের সংখ্যা ২-৩ শতাংশ। তাই শুধু অনলাইন ডেলিভারির সুযোগ দিয়ে রেস্তোরাঁ বন্ধ রাখার ঘোষণা দূরভীসন্ধিমূলক। এতে দেশী-বিদেশী স্বার্থান্বেষী মহলের হাত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন । ই.এফ.ডি মেশিন স্থাপন এবং তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে ভ্যাট আদায়ের নামে হয়রানি চলছে বলে জানান তিনি।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে পচণশীল পণ্য বিক্রি করার ক্ষেত্রে লোন না দেওয়ার নির্দেশনা থাকায় রেস্তোরাঁ খাতে ব্যাংকগুলো লোন দেয় না ফলে ব্যবসায়ীরা ঘুরে দাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেনা।

এক প্রশ্নের জবাবে ইমরান হাসান বলেন, প্রথম লকডাউনে ৩০ শতাংশ রেস্তোরা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে এবং ৬০ হাজার কোটি টাকা লোকসানে পরেছে রেস্তোরা মালিকরা। চলমান লকডাউনে ৮০ শতাংশ রেস্তোরা বন্ধ আছে এর ফলে ৮০-৯০ হাজার কোটি টাকা লোকসানের ঝুঁকিতে আছেন ব্যবসায়ীরা।

চলমান সংকট থেকে উত্তরণের জন্য মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সরকারের কাছে ৬ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়-

১. স্বাস্থ্যবিধি মেনে হোটেল রেস্তোরা স্বাভাবিক নিয়মে খোলা রাখা অথবা ৫০ শতাংশ আসনে বসিয়ে হলেও রেস্তোরাঁ খুলে দেওয়া।
২. সহজ শর্তে স্বল্প সুদে জামানতবিহীন এবং দীর্ঘ মেয়াদে এস এম ই খাত থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ বরাদ্ধ দেওয়া।
৩. মালিক-শ্রমিকদের দ্রুত করোনা টিকা প্রদানের ব্যবস্থা করা।
৪. শ্রমিকদের মোবাইলে অথবা কার্ড প্রদানের মাধ্যমে মাসিক হারে নগদ প্রনোদনা দেওয়া।
৫. হোটেল-রেস্তোরাঁ খাতকে একাধিক মন্ত্রণালয়ের অধীনে না রেখে একটি নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অধীনে নিয়ে শিল্পের মর্যাদা দিয়ে মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা।
৬. চালুকৃত ই-কমার্স টেকওয়ে. পার্সেল ও অনলাইন ডেলিভারীর ক্ষেত্রে বহির্বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে সর্বেচ্চ ১০ শতাংশ কমিশনের নিয়ম চালু ও সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়ন করে তাদের নিয়ন্ত্রন করা।

এসময় ইকমার্স প্রতিষ্টানগুলো স্বেচ্ছাচারী কায়দায় ব্যবসার মাধ্যমে রেস্টুরেন্ট ব্যবসাকে হুমকির মুখে ফেলেছে এবং তাদের এমন কর্মকান্ডে দেশের সার্বভৌম ভূলন্ঠিত হচ্ছে দাবি করে তাদেরকে নীল চাষীদের সাথে তুলনা করেন বক্তারা।

সানবিডি/আরএইচ