দেশে ভারতীয় টিকা কোভ্যাক্সিন ট্রায়ালের অনুমতি

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২১-০৮-০৩ ১৫:২৮:০৬


বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড রিসার্চ কাউন্সিল ( বিএমআরসি) ভারত বায়োটেক উদ্ভাবিত করোনার টিকা ‘কোভ্যাক্সিন’ বাংলাদেশে পরীক্ষামূলক প্রয়োগের অনুমোদন দিয়েছে। বিএমআরসি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এই টিকার সিআরও প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবি বেশ কিছুদিন আগেই টিকার ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য অনুমোদন চেয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে অনুমোদন দিতে কিছুটা দেরি হয়েছে।

তিনি বলেন, তারা যেসব ডকুমেন্টস উপস্থাপন করেছে তার সবই বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক ছিল। গত ১৮ জুলাই ন্যাশনাল ইথিক্যাল কমিটি ক্লিয়ারেন্স দিয়েছে। অর্থাৎ তারা (কোভ্যাক্সিন) মানুষের ওপর এই টিকা প্রয়োগ করতে পারবে বলে জানান তিনি।

ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের বলেন, এই অনুমোদন পাওয়ার পরও আরও কিছু কাজ বাকি রয়েছে। তাদের ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর থেকে ভ্যাকসিন আনার একটা অনুমোদন নিতে হবে।

“ওষুধ আনার পর তারা ট্রায়াল শুরুর আগে আমাদের অবশ্যই জানাবে কোথায় কি দিচ্ছে। আমরা নিয়মিত এটা পর্যবেক্ষণ করবো।”

জানা যায়, ভারতীয় কোম্পানি ভারত বায়োটেক তাদের করোনাভাইরাসের টিকা ‘কোভ্যাক্সিনের’ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল বাংলাদেশে করার জন্য গত জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় সরকারের কাছে আবেদন করে।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজস্ব উৎপাদিত টিকার খ্যাতি বাড়াতে বাংলাদেশে ‘কোভ্যাক্সিন’ ট্রায়ালের জন্য তৎপর ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে এর জন্য প্রয়োজনীয় তহবিলের অনুমোদনও দিয়েছে নরেন্দ্র মোদির সরকার। সোমবার (২ আগস্ট) ভারত সরকারের একটি অভ্যন্তরীণ নথির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রভাবশালী দৈনিক হিন্দুস্তান টাইমস।

ওই নথিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ‘কোভ্যাক্সিন’র ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য প্রয়োজনীয় তহবিল নিশ্চিত করেছে ভারত সরকার। ভারত বিভিন্ন দেশে তাদের মিশনগুলোর সাহায্যে স্থানীয় নীতিনির্ধারণী কর্তৃপক্ষগুলোর দ্বারস্থ হয়ে কোভ্যাক্সিন ব্যবহারের অনুমোদনের জন্য জোরপ্রচেষ্টা চালাচ্ছে।

এতে বলা হয়েছে, বিদেশে- বিশেষ করে প্রতিবেশী অঞ্চলে ‘কোভ্যাক্সিন’র সম্মান বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশে এর ট্রায়াল পরিচালনার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। এর জন্য বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে ভারতের জৈবপ্রযুক্তি বিভাগ এবং ভারত বায়োটেকের কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত একটি দলের ঢাকা সফরের ব্যবস্থা করেছে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এর আগে গত ২৪ জুন চীনের ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল বায়োলজি অব দ্য চাইনিজ একাডেমি অব মেডিকেল সায়েন্স। সংক্ষেপে আইএমবি ক্যাম্পসকে পরীক্ষামূলক টিকা প্রয়োগের অনুমোদন দেয় বিএমআরসি।

আর পরীক্ষামূলক প্রয়োগের ধাপ পেরিয়ে স্বীকৃতি পাওয়া অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ড, রাশিয়ার টিকা স্পুৎনিক ভি, চীনের সিনোফার্ম ও সিনোভ্যাকের টিকা, যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকা, জনসনের টিকা এবং যুক্তরাষ্ট্রের মডার্নার টিকা ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ব্যবহারের অনুমোদন পেয়েছে।

২৯ জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান মডার্নার টিকা জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন পায়।

সানবিডি/আরএইচ