বিপর্যয়ের মুখে আমদানি-রফতানি

|| প্রকাশ: ২০১৬-০১-২২ ১০:১৫:৫৭ || আপডেট: ২০১৬-০১-২২ ১০:১৮:৫৮

Ctg portআগামী ২৬ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এরই মধ্যে চার দিন ধরে প্রায় বিকল হয়ে আছে কাস্টমস সার্ভার। চট্টগ্রাম, বেনাপোল, হিলিসহ দেশের প্রায় সব বন্দরে আমদানিকৃত পণ্য খালাস করা সম্ভব হচ্ছে না। রফতানিও প্রায় বন্ধ রয়েছে। এতে বিপুল পরিমাণ ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি সরকার হারাচ্ছে বিশাল অংকের রাজস্ব আয়। একদিকে সময়মতো রফতানি করতে না পারায় ব্যবসায়ীরা এক্সপোর্ট অর্ডার বাতিল হওয়ার শঙ্কায় পড়েছেন। অন্যদিকে আমদানি পণ্য খালাস না হওয়ায় বন্দরে সৃষ্টি হচ্ছে পণ্যজট। পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। সর্বোপরি গোটা ব্যবসা-বাণিজ্যে চরম বিপর্যয় নেমে আসার শঙ্কায় পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে সার্ভার ঠিক করতে আঙ্কটাড থেকে বিশেষজ্ঞ দল গতকাল বিকেলে ঢাকায় এসেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়া ব্যবসায়ীদের সেবা দিতে আজ শুক্রবার ও কাল শনিবার দেশের সব কাস্টম হাউস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। পাশাপাশি কাস্টমস স্টেশনগুলোতে সব ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
জানা গেছে, অনলাইনে আমদানি-রফতানি পণ্যের দ্রুত শুল্কায়ন ও রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন শুল্ক বন্দরে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড চালু করে এনবিআর। কিন্তু বর্তমানে ঘন ঘন সার্ভার বিকলের কারণে সময়মতো পণ্য ডেলিভারি নিতে না পারায় লোকসানের হুমকিতে রয়েছেন আমদানিকারকরা। একই সঙ্গে বিঘিœত হচ্ছে বন্দরগুলোর রাজস্ব আহরণ। সর্বশেষ চার দিন আগে ত্রুটির মুখে পড়ে সার্ভার। এরপর অধিকাংশ বন্দরে প্রায় বিকল হয়ে যায় এটি। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এর আগেও কয়েক দফা সমস্যা হয়েছে। এ অবস্থায় দ্রুত সমাধান ও বিকল্প সার্ভারের ব্যবস্থা না করলে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিপর্যয় দেখা দেবে। পাশাপাশি পণ্যদ্রব্যের দাম বেড়ে যাবে।
এ অবস্থা থেকে দ্রুত উত্তরণের জন্য গতকাল বিকেলে ইউনাইটেড ন্যাশনস কনফারেন্স অন ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আঙ্কটাড) থেকে বিশেষজ্ঞ দল ঢাকায় এসেছেন বলে জানিয়েছেন এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান। তিনি বলেন, সার্ভারে যে সমস্যা হয়েছে তা দ্রুত ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা করছি। এছাড়া সার্ভার ঠিক করতে এবং ব্যবসায়ীদের সেবা দিতে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার ও শনিবার দেশের সব কাস্টম হাউস খোলা রাখা হবে।
আজ শুক্র ও আগামীকাল শনিবার বন্ধের দিনে কাস্টমস স্টেশনগুলোতে অবস্থিত সব ব্যাংক শাখা খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিপার্টমেন্ট অব সাইট সুপারভিশন বিভাগ এক প্রজ্ঞাপন জারি করে এ নির্দেশনা দেয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনুরোধে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ২২ ও ২৩ জানুয়ারি শুক্র ও শনিবার দেশের সব কাস্টম হাউজ খোলা রাখার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে কাস্টমস স্টেশনগুলোতে সংশ্লিষ্ট তফসিলি ব্যাংক শাখাগুলো খোলা রাখার নির্দেশনা দেয়া হলো। ওই দিন অফিসে যোগ দেয়া কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মানজনক ও যুক্তিসংগত ভাতা দেয়ারও নির্দেশনা দেয়া হয় প্রজ্ঞাপনে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের সহ-সভাপতি এএম মাহবুব চৌধুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে এখন পণ্য খালাসের হার ২০ শতাংশে নেমে এসেছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামী এক সপ্তাহে সারাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্যে বিপর্যয় দেখা দেবে। ইতিমধ্যেই পণ্যের পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ট্রাক কাভার্ডভ্যান আগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পণ্য আনা-নেয়া করত। কিন্তু এখন শুধু ঢাকা থেকে পণ্য চট্টগ্রামে যাচ্ছে। এতে পরিবহন খরচ ইতিমধ্যেই দেড়গুণ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্যজট দেখা দিয়েছে। এতে রফতানি কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তিনি বলেন, শুধু বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ এনে সার্ভার ঠিক করলে হবে না, বিকল্প সার্ভারের ব্যবস্থা করতে হবে। এতে একটি বিকল হলে আরেকটি দিয়ে কাজ চালানো যাবে।
বিজিএমইএর সহ-সভাপতি ফারুক হাসান বলেন, ভয়ঙ্কর সমস্যায় পড়েছি আমরা। কোনো পণ্য ডেলিভারি দিতে পারছি না আমরা। এমনিতেই আমাদের ওয়্যারহাউসগুলো ছোট। পণ্য জমা করে রাখা কষ্টকর হয়ে যাচ্ছে আমাদের। এছাড়া সময়মতো রফতানি করতে না পারার ক্ষতি তো হিসাব করে বোঝানো যাবে না। তিনি বলেন, যদিও শুক্রবার ও শনিবার কাস্টম হাউস খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে কিন্তু সার্ভারই যদি ঠিক না হয় তাহলে কাস্টম হাউস খোলা রাখার কোনো অর্থ থাকবে না। তিনি বলেন, কাল যদি সার্ভার ঠিক না হয় তাহলে এনবিআর চেয়ারম্যান যেন ম্যানুয়ালি শুল্কায়নের নির্দেশ দেন এই দাবি আমরা জানাচ্ছি।
এদিকে বেনাপোল কাস্টম হাউসে অনলাইনের মাধ্যমে আমদানি-রফতানি পণ্যের দ্রুত শুল্কায়ন ও রাজস্ব আদায়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সার্ভার ৪ দিন ধরে কার্যত বিকল থাকায় বেনাপোল কাস্টম হাউসের কর্মকর্তাসহ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও বন্দর ব্যবহারকারীরা। সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সার্ভার বিকল রয়েছে। তবে মাঝেমধ্যে সচল হলেও কোনো কাজ করা যাচ্ছে না। রফতানির কিছু কাজ হয়েছে বলে কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে। ২ শতাধিক বিল অব এন্ট্রি এখনো এন্ট্রি করা যায়নি। এর ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে গোটা বেনাপোল কাস্টম ও বন্দরের কার্যক্রম।

সূত্র: মানবকণ্ঠ