রেমিট্যান্সে প্রণোদনা বাড়ছে না: অর্থমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২১-০৮-০৪ ১৯:৩১:১৮


বৈধ পথে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর সরকারের দেয়া প্রণোদনার হার এ মুহূর্তে বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বুধবার (৪ আগস্ট) অর্থনৈতিক ক্রয় কমিটির সভা শেষে অনলাইন ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান মন্ত্রী।

রেমিট্যান্সের যারা ৫০০ ডলারের কম পাঠান তাদের প্রণোদনা ১ শতাংশ বাড়ানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সুপারিশ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ মুহূর্তে বাড়াচ্ছি না। আমার মনে হয় ২ শতাংশ ইনসেনটিভ (প্রণোদনা) ঠিক আছে। ইনসেনটিভের ক্ষেত্রে রেভিনিউ এলাকায় নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি করতে পারি কি-না সেটা আমরা দেখব। এর পরিসর যতটা বাড়ানো যায় ততোটা চেষ্টা করব। এখন আমরা ইনসেনটিভ বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা করছি না। রেমিট্যান্সে ইনসেনটিভের হার একই দেয়া হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন যাদের আয় কম তাদের ইনসেনটিভ বাড়াতে, তবে আমাদের সেরকম চিন্তা-ভাবনা নেই। যে যে পরিমাণ আয় করবে তা বৈধপথে পাঠালে প্রণোদনা পেয়ে যাবে।’

অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, গত বছর অস্বাভাবিকভাবে রেমিট্যান্স বেশি ছিল। এ বছর তুলনামূলকভাবে এই পরিমাণ কিছুটা কমেছে। তবে এই সমস্যা কেটে যাবে।

এদিকে করোনা মহামারির মধ্যেও অত্যাধিক রেমিট্যান্স প্রবাহ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে, উঠেছে বিভিন্ন প্রশ্ন। মহামারির মধ্যে এত বেশি রেমিট্যান্স কোথা থেকে আসছে, কীভাবে আসছে এবং ভবিষ্যতে আরও কতদিন এভাবে আসবে এসব প্রশ্ন তারমধ্যে অন্যতম বলে মনে করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি)। এজন্য রেমিট্যান্সে ২ শতাংশ প্রণোদনা নিয়ে ভাবতে বলেছে সংস্থাটি।

এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, ‘সিপিডি তো বলেছে আসবেই না। বেশি আসছে বেশি গেছে। আমরা যেভাবে চাচ্ছি, আমাদের রেমিট্যান্স যেগুলো বিদেশে উপার্জিত হয় তা দেশে আসুক, বৈধপথে আসুক। আগে বৈধপথে আসত, অন্যান্য পথেও আসত। এখন বৈধপথে আসাটায় এদের কোথায় আপত্তি আছে আমি জানি না। তারা কি দেখতে চাচ্ছে। যার কাছে টাকা আছে যে বিদেশে ব্যবসা বা চাকরি করেন তিনি তার টাকা দেশে পাঠাবেন। এতে সিপিডির বলার কি আছে, কার কি বলার আছে। আমরা যদি কোনো নিয়মনীতির মধ্য দিয়ে রেমিট্যান্স নিয়ে আসি সেটা তো দেশের জন্য ভালো বলে মনে করি।’

রোহিঙ্গা নিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের বিবৃতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এই বিষয়ে আমি অবগত নই। বিশ্ব ব্যাংক মাঝে মধ্যে আমাদের পরামর্শ দেয়। বিশ্ব ব্যাংক কোনো পরামর্শ দিয়ে থাকলে সবকিছু বিবেচনা নেওয়া হয় না।

আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেন, লকডাউনের কারণে রফতানি কমেছে। সে পরিমাণে উৎপাদনও আমরা করতে পারছি না। সামনের দিনগুলোতে আমরা গ্যাপগুলো পূরণ করব। বর্তমানে করোনার বিষয়টি একমাত্র মুখ্য বিষয়। টিকাদান পুরোপুরি কাভার করাই এখন অন্যতম কাজ। এরপর সম্ভাবনার জায়গাগুলো পূরণ করতে পারব।

এএ