যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বমানের পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি করতে চায় বাংলাদেশ
নিজস্ব প্রতিবেদক আপডেট: ২০২১-০৮-১২ ১৬:৩২:০৫
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সফররত বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, এমপি বলেছেন, বিশ্বমানের তৈরী পোশাক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধি করতে চায় বাংলাদেশ। বিশ্বের মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম তৈরী পোশাক রপ্তানি কারক বাংলাদেশ। বাংলাদেশের তৈরী পোশাকের মান, মূল্য এবং ডিজাইন বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় হচ্ছে, এর কারনে রপ্তানি রাড়ছে।
বুধবার (১১ আগষ্ট) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কেলিফোরনিয়ার লাস ভেগাস কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্টিত “মেনস এ্যাপারেল গিল্ড ইন কেলিফোরনিয়া” শীর্ষক বাণিজ্য মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানের সময় বাণিজ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান রপ্তানি আয়ের ৮৩.৫ ভাগ আসে তৈরী পোশাক রপ্তানি থেকে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার রপ্তনি বৃদ্ধি করতে এবং মেড ইন বাংলাদেশকে বিশ্বের কাছে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য সবধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ সরকার চলমান কোভিড-১৯ (করোনা) পরিস্থিতিতে তৈরী পোশাক সেক্টরকে প্রনোদনা প্যাকেজের আওতায় আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেছে এবং এ সেক্টরকে স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের তৈরী পোশাক সেক্টরে প্রায় ৪৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছে, এর বেশির ভাগই নারী। নারীর কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক খাত বিশেষ অবদান রাখছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে, আমরা এ সুযোগকে কাজে লাগাতে চাই। এজন্য উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের এগিয়ে আসতে হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশ তৈরী পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি করতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এজন্য উন্নত মান, নতুন ডিজাইন, গ্রহকের পছন্দ ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের চাহিদা মোতাবেক সব ধরনের ডাটা, প্রয়োজনী তথ্য করা হবে। ২০১২ সালে অপ্রত্যাশিত রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর বাংলাদেশের তৈরী পোশাক খাতে যুগান্তকারী পরিবর্তন এসেছে এবং টেকসই উন্নয়ন ঘটেছে। বিশে^র তৈরী পোশাক খাতের বেশিরভাগ গ্রীণ ফ্যাক্টরি এখন বাংলাদেশে। নিরাপদ ও কর্মবান্ধব পরিবেশে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক খাতের শ্রমিকরা কাজ করছে। আমি আহবান জানাচ্ছি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তৈরী পোশাক খাতের ব্যবসায়ীগণ বাংলাদেশ সফর করে তৈরী পোশাক খাতের ফ্যাক্টরি ও শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ দেখুন। বাংলাদেশ এখন বিশ্মমান বজায় রেখে নিরাপদ পরিবেশে তৈরী পোশাক কারখানাগুলো চালাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীগণ বাংলাদেশের তৈরী পোশাক সেক্টরের কাজের মান, উৎপাদন খরচ, শ্রমিকদের কমপ্লায়েন্স, কাজের পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসেবা এবং টেকসই উন্নয়নে এগিয়ে যাবার বিষয়ে জানার ব্যাপক আগ্রহ প্রকাশ করেন। বাংলাদেশেল সাথে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির আগ্রহ প্রকাশ করেন। তারা বাংলাদেশের তৈরী পোশাকের বিষয়ে ডাটা, প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত, তৈরী পোশাক শিল্পের ইতিহাস আরও জানার আগ্রহ প্রকাশ করেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের তৈরী পোশাক বাজারজাত করণের বিষয়ে তারা সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় উপস্থিত ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস এনজেলস এ বাংলাদেশ কনসাল জেনারেল অফিসের কনসাল জেনারেল এবং কমার্শিয়াল কাউন্সিলর, সফররত বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. হাফিজুর রহমান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক সোহেলী সাবরীন, এফবিসিসিআই এর প্রেসিডেন্ট মো. জসিম উদ্দিন, বিজিএমই-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট খন্দকার রফিকুল ইসলাম, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী বব বার্গ, ইনফর্মা এর কমার্সিয়াল প্রেসিন্টে মিস কেলি হেল্পম্যান, মেলার ইভেন্ড ডিরেক্টর আনড্রেও ডেভিড, এবং ব্যবসায়ী ড. সিনদে জে.লিন।
এএ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














