সিপরাসেই আস্থা দেখালো গ্রিসের জনগণ

|| প্রকাশ: ২০১৫-০৯-২১ ০৮:১৪:৩২ || আপডেট: ২০১৫-০৯-২১ ১৬:০১:০১

Electionআগাম নির্বাচনেও আলেক্সিস সিপরাসের ওপর আস্থা দেখালো গ্রিসের জনগণ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনে জয় পেয়েছে তার দল বামপন্থি সিরিজা পার্টি। এর ফলে আবারও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে দেখা যাবে সিরিজার প্রেসিডেন্ট সিপরাসকে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় বছরের তৃতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিরতিহীনভাবে তা বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলে। এরপর শুরু হয় গণনা।

নির্বাচন কমিশন সূত্রের বরাত দিয়ে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানায়, ভোট গণনায় দেখা গেছে, গণনা হওয়া ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ ভোটের মধ্যে ৩৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে সিরিজা পার্টি। আর ২৮ শতাংশের মতো ভোট পেয়েছে তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী রক্ষণশীল নিউ ডেমোক্রেসি। ৭ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ডানপন্থি গোল্ডেন ডন।

৩৫ দশমিক ৪৭ শতাংশ ভোট পাওয়ায় নির্বাচনী বিধান অনুযায়ী, ৩০০ আসনের গ্রিক সংসদে ১৪৫ আসন নিশ্চিত হয়ে গেছে সিরিজার। তবে, এ আসন সংখ্যা এককভাবে সংসদ গঠনের জন্য পর্যাপ্ত না হওয়ায় গতবারের মতো এবারও জোট সরকার গঠন করতে অংশীদার খুঁজতে হবে সিপরাসের দলকে। সেক্ষেত্রে ৭ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পাওয়া গোল্ডেন ডনকে সহজেই পাশে পাবে সিরিজা। নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফল পেয়েই জোট গঠনে আগ্রহের কথা জানিয়ে দেন গোল্ডেন ডনের নেতা পানোস কামেনোস।

বেসরকারিভাবে ফলাফল পাওয়ার পরপরই টুইটারে সিপরাস সমর্থক ও দেশবাসীর উদ্দেশে বলেন, আমাদের সামনে সংগ্রাম ও কঠোর পরিশ্রমের পথ। এই পথ পাড়ি দিতে হবে।

ফল ঘোষণার পর রাজধানী এথেন্সে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ গ্রিসের রাস্তায় সিরিজা পার্টির সমর্থকদের উল্লাস করতে দেখা যায়।

এদিকে, নির্বাচনে পরাজয় স্বীকার করেছে নিউ ডেমোক্রেসি। দলটির নেতা ভেঞ্জেলিস মেইমারাকিস সমর্থকদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে বলেন, আমরা পারিনি। তবে তিনি বিজয়ী সিপরাস ও তার দলকে উষ্ণ অভিনন্দন জানান।

রোববারের নির্বাচন নিয়ে গত পাঁচ বছরে মোট ছয়টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো গ্রিসে। চলতি বছর জানুয়ারিতে নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে সিরিজা পার্টি। এরপর অর্থনীতির গতি ফেরাতে বিরোধীদের সমালোচনা উপেক্ষা করে আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের সঙ্গে কঠিন শর্তে বেইলআউট চুক্তি সই করে সিপরাসের সরকার। কিন্তু চুক্তি সই করার পরপরই সংসদে নিজ দলেরই কট্টরপন্থিদের বিরোধিতার মুখে পড়েন প্রধানমন্ত্রী সিপরাস। শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করে আগাম র্নিবাচনের ঘোষণা দেন।

সিপরাসের সমর্থকরা মনে করেন, এই আগাম নির্বাচনের ফল দেশ গঠনে তাদের নেতাকে আরও উদ্বুদ্ধ করবে। দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বেইলআউট চুক্তি করে যে সমালোচনা তিনি সয়েছেন, এই ফলাফল সেসব সমালোচনার জবাব।