রাবিতে গভর্নর ড. আতিউর রহমান

|| প্রকাশ: ২০১৬-০১-২৩ ২০:০০:১৩ || আপডেট: ২০১৬-০১-২৩ ২০:০১:৩৯

RU BD bank governor atiur rahman News pic 1 22.01.16বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি, যুদ্ধ চলছে, চলবে। বর্তমানে র্অথনৈতিক মুক্তিযুদ্ধ চলছে, সে যুদ্ধে সবাইকে অংশ নিতে হবে। বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশের গ্লানি ঘুচিয়ে, লাভ করেছে নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশের মর্যাদা। ২০২১ সালে স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে আমরা মধ্যম আয়ের দেশের গৌরব অর্জনে বদ্ধ-পরিকর।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) পাঠক ফোরাম আয়োজিত ‘জীবনের কথা, অর্থনীতির কথা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শনিবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র চত্বরে আয়োজিত গণবক্তৃতার অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, প্রচলিত ব্যাংকিংয়ের ধারা অক্ষুন্ন রেখেই আমরা উন্নয়নমুখী ব্যাংকিং, দরিদ্রের ক্ষমতায়ন ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক নয়া ধারা চালু করেছি। বহির্বিশ্বে আমাদের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এসব নীতিকে এখন দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হয়। আর্থিক খাতে আমাদের অর্জিত স্থিতিশীলতাও এখন অনেক উন্নয়নশীল দেশের কাছেই মডেল। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পুরস্কৃত হচ্ছে। আমরা আনন্দিত যে, নতুন পথে হেঁটেও আমরা সাধারণ মানুষের কল্যাণে বাংলাদেশ ব্যাংককে কাজে লাগাতে পেরেছি। অর্থনীতি এর সুফল পেতে শুরু করেছে। বতর্মান সময়ে আমাদের সব সূচকেই স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। আমদানি, রেমিট্যান্স, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও মাথাপিছু আয় বাড়ছে। সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, দারিদ্র্যের হার, গড় আয়ুসহ অনেক সূচকেই ইতিবাচক পরিবর্তন এখন লক্ষ্যণীয়। সেই সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে কমেছে মূল্যস্ফীতির হারও। তা ছাড়া দারিদ্র্য প্রায় ৬০ ভাগ থেকে ২২ ভাগে নেমে এসেছে। টাকার মূল্যমান স্থিতিশীল ও জোরালো অবস্থায় রয়েছে।

বহির্বিশ্বের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, তারা জানতে চায় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কি এমন ঘটেছে যার ফলে বিশ্বমন্দার মধ্যেও দেশটি গত কয়েক দশক ধরে গড়ে ছয় শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করে চলেছে। জিডিপির ভিত্তিতে দেশটির স্থান এখন বিশ্বে ৪৫তম এবং ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে ৩৩তম। সামাজিক উন্নয়নের ফলে এদেশের মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে। এক্ষেত্রে আমরা ভারত ও পাকিস্তানকে চার-পাঁচ বছর পেছনে ফেলে দিয়েছি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাঠক ফোরামের সভাপতি নাসির উদ্দিন শুভ। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন রাবি উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজান উদ্দিন, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক চৌধুরী সারওয়ার জাহান, প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হাসান আজিজুল হক ও পাঠক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আরিফ হাসনাত। এর আগে বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পাঠক ফোরামের ভবন নিমার্ণ কাজের উদ্বোধন করেন অতিথিবৃন্দ।

RU BD bank governor atiur rahman News pic 22.01.16গভর্নর ড. আতিউর রহমান বেলা ১টায় রাজশাহী নগরীর নামোভদ্রা এলাকায় অবস্থিত প্রাকৃতিক শস্য সংরক্ষণাগার পরিদর্শন করেন। ২০১৪ সালের ৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থায়নে বিদ্যুৎবিহীন এই প্রাকৃতিক হিমাগারটি নির্মাণ করেন রাবির উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের শিক্ষক ও গবেষক অধ্যাপক ড. মনজুর হোসেন। সিমেন্ট, বালি, বাঁশ ও খড় দিয়ে প্রাকৃতিকভাবে নির্মিত এ হিমাগারটিতে আলু, পেঁয়াজ, আদা, রসুন ও মৌসুমী ফলসহ বিভিন্ন পঁচনশীল কৃষি পণ্য সংরক্ষণ করা হয়।

পরিদর্শন শেষে সংরক্ষণাগার চত্বরে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে ড. আতিউর রহমান বলেন, প্রাকৃতিক সংরক্ষণাগার নির্মাণে আমাদের যে সীমিত লক্ষ্য ছিলো তা অর্জিত হয়েছে। তবে পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সংরক্ষণাগারটি আধুনিকায়নে নতুন নতুন ধারণা যুক্ত করা হচ্ছে। আমরা চাই প্রযুক্তি এবং প্রকৃতির সমন্বয়ে বাণিজ্যিকভাবে এরকম শস্য সংরক্ষণাগার কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে।

তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞান এবং বিজ্ঞানীদের সহযোগিতা ছাড়া কৃষক একা নিজেদের ভাগ্য উন্নয়ন করতে পারে না। অধ্যাপক ড. মনজুর কৃষকের সহযোগিতায় গবেষণা করে যাচ্ছেন এবং কৃষিতে নতুন নতুন ধারণা নিয়ে আসছেন এটা আমাদের জন্য একটি বড় পাওয়া।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড. মনজুর হোসেন বলেন, কৃষি গবেষক হিসেবে আমাকে বিভিন্ন সময়ে নানা বিড়ম্বনার মুখে পড়তে হয়েছে। অনেকে আমাকে পাগলও বলেছেন। তবে আমি আমার স্বপ্ন থেকে সরে আসিনি। কৃষকের বাড়ি বাড়ি তিন টন অথবা পাঁচ টনের ছোট ছোট স্টোর (হিমাগার) পৌঁছে দেয়াটাই হবে আমার গবেষণা জীবনের সার্থকতা।

এ সময় বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাংকের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও এলাকার কৃষকেরা উপস্থিত ছিলেন।

সানবিডি/ঢাকা/রাআ