৪৩ বছর ধরে বিমা খাতে কাজ করছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমী

|| প্রকাশ: ২০১৬-০১-২৩ ২০:১৬:১৬ || আপডেট: ২০১৬-০১-২৩ ২০:৩৬:০৯

আস্থাহারা বিমা শিল্পকে বিমা বিষয়ে শিক্ষত ও দক্ষ করার পাশাপাশি জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বিমা বিষয়ক মাস্টার্স ডিগ্রী এবং এমবিএ প্রোগ্রাম চালুসহ একগুচ্ছ পদক্ষেপ গ্রহন করেছে বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স একাডেমী(বিআইএ)। দক্ষ জনবল তৈরি ও শিক্ষা ও প্রশিক্ষনের মাধ্যমে জনসচেতনতা বাড়াতে ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় বিআইএ।

বর্তমানে শিক্ষা কার্যক্রমের লক্ষ্যে ডিপ্লোমা, অ্যাকচুয়ারি সাইন্স, এসিআইআই কোর্স এবং প্রশিক্ষন কার্যক্রম চালু রয়েছে। প্রতি বছর প্রতিষ্ঠানটিতে ৪০থেকে৪৫টি প্রশিক্ষন কোর্স এবং ৩থেকে৪টি সেমিনার অথবা ওয়াকশ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৪’শ জনের ও বেশি শিক্ষার্থী বিমা বিষয়ে ডিগ্রী অর্জন করে।

বিআই সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠানটিতে ২ হাজার ৮৯৫ জন শিক্ষার্থী বিভিন্ন কোর্সে অংশগ্রহন করে। পাশাপাশি ১৭৫টি প্রশিক্ষন কোর্সে ৫ হাজার ৮৭২জন প্রশিক্ষার্থী অংশগ্রহন করে। এছাড়াও ১৯টি সেমিনারে ১ হাজার ৩৯২জন অংশগ্রহন করনে। আরো বেশি প্রশিক্ষত করতে অর্থমন্ত্রনালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের নিয়ন্ত্রণাধীন বিমা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি স্বল্প ও র্দীঘ মেয়দী ভবিষৎ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে- প্রশিক্ষণ পদ্ধতি উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, বিমা বিষয়ক ডিপ্লোমা কোর্সের মান উন্নয়ন করে পোষ্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লেমা ও মাস্টার্স ডিগ্রী চালুর এবং এমবিএ প্রোগ্রাম চালু করা।

বিমা শিল্পের জন্য উপযুক্ত ও যুগোপযেগী প্রশিক্ষণের চাহিদা নিরুপণ, জ্ঞান অর্জনের জন্য একাডেমীর কর্মকর্তাদের বিদেশে প্রশিক্ষন গ্রহন, আধুনিক ও যুযোপযোগী লাইব্রেরী তৈরি, শিক্ষার্থীদের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে অধিক সংখ্যক শ্রেনী কক্ষ, সেমিনার রুম, ক্যান্টন রুম এবং ওয়াশরুম তৈরি, একাডেমীতে এসিআইআই-এফসিআইআই ডিগ্রীধারী ফ্যাকাল্টি নিয়োগ, ক্রমবর্ধমান চাহিদার সঙ্গে সংগতি রাখার লক্ষ্যে একাডেমীর ভবনের মূল পরিকল্পনা অনুসারে ভবন সম্প্রসারনের পরিকল্পনা।

এছাড়াও ৫৮-৬০জনবল বিশিষ্টি সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি এবং একাডেমী ভবনের অতিরিক্ত আরো একটি লিফট স্থাপন করা হবে।

শিক্ষা কার্যক্রম (ডিপ্লোমা): ১৯৮০ সাল থেকে বিমা বিষয়ক ডিপ্লোমা কোর্স পরিচালনা করে আসছে। এ পর্যন্ত ৪০০ জনেরও অধিক শিক্ষার্থী একাডেমী থেকে বিমা বিষয়ের মালয়েশিয়ান ইন্স্যুরেন্স ইন্সুটিটিউটের (এমআইআই, মালয়েশিয়া) সঙ্গে সংগতি রেখেই তৈরি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে একাডেমী কর্তৃক পরিচালক ডিপ্লোমা কোর্সের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা পর্যায়ক্রমে বাড়ছে। ২০১০ থেকে ২০১৫সাল পর্যন্ত(২০১৫ সালে ৬৩০,২০১৪ সালে ৬৮৪,২০১৩ সালে ৫০৬,২০১২ সালে ৩৮৩,২০১১ সালে ৩৬৩ এবং ২০১০ সালে ৩২৯জন শিক্ষার্থী)  বিআইএ ডিপেলামা  পরীক্ষায় মোট ২৮৯৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করেন।

এ্যাকচুরিয়াল সাইন্স র্কোস:অ্যাকচুয়ারি শিক্ষার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ২০০৪ সালে অ্যাকচুয়ারিয়াল সোসাইটি অব ইন্ডিয়া’র সঙ্গে (এসিআই) বিআইএ’র একটি সমঝোতা স্মারব স্বাক্ষরিত হয়। এরই মধ্যে ৫০জনের বেশি শিক্ষার্থী কোর্সের জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছেন। এর মধ্যে  কয়েকজন ৫ থেকে ৬টি বিষয়ে উত্তীর্ন হয়েছে। আগামী ৩-৪ বছরের মধ্যে ৮-১০ জন শিক্ষার্থী অ্যাকচুরিয়াল সাইন্স কোর্স শেষ করেন।

কতৃপক্ষ জানানো হয়, একাডেমী অ্যাকচুরিয়াল সাইন্স কোর্সে মেধাবী শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করার জন্য দেশের প্রথিতযশা সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদালয় গুলোর গনিত, পরিসংখ্যান ও ব্যবসা প্রশাসন বিভাগের ছাত্রদের নিয়ে ওরিয়েন্টেশন প্রেগ্রামের আয়োজনসহ সেমিনার আয়োজনের পদক্ষেপ নিয়েছে।

এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগ, সিলেট শাহজালার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগসহ বেসরকারি পর্যায়ে ইষ্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাকা) লিডিং বিশ্ববিদ্যালয় সিলেট, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (চট্টগ্রাম), ইষ্ট ডেল্টা বিশ্ববিদ্যালয়ে (খুলনা)তে একাডেমী এ ধরনের ওরিয়েন্টশন প্রোগ্রাম শেষ করেছে।

এসিআইআই কোর্স: লন্ডনের চাটার্ড ইন্স্যুরেন্স ইন্সটিটিউট পরিচালিত অ্যাসোসিয়েট অব চাটার্ট ইন্সুরেন্স ইন্সটিটিউটের (লন্ডন) পরিক্ষা আগে বৃটিশ কাউন্সিলে অনুষ্টিত হতো। একাডেমীর প্রশিক্ষন, ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো বিষয় বিবেচনা ও পর্যালোচনা পূর্বক চাটার্ট ইন্সুরেন্স ইন্সটিটিউট (লন্ডন) তাদের ওভারসিস পরিক্ষা কেন্দ্রটি ব্রিটিশ কাউন্সিলের পরিবর্তে ৪ বছর পূর্বে বিমা একাডেমীতে স্থাপন করেছে।

এর ফলে একাডেমীর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা অতিসহজেই বিমা বিষয়ে সর্বোচ্চ ডিগ্রী(এসিআইআই) অজর্ন করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে ৪২জন শিক্ষার্থী একাডেমীর মাধ্যমে উচ্চতর কোর্সে রেজিষ্ট্রেশন করেছেন। এর মধ্যে ৬জন শিক্ষার্থী এসিআইআই ডিগ্রী অর্জন করেছে।

প্রশিক্ষন কার্যক্রম: ২০১০  থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মোট ১৭৫টি কোর্সের মাধ্যমে মোট ৫ হাজার ৮৪২জন প্রশিক্ষার্থীকে প্রশিক্ষন দেয়া হয়। এর মধ্যে ২০১৫ সালে ৪৪টি কোর্সে ২১৫১জন,২০১৪ সালে ৩৩টিতে ১ হাজার ৮৯জন, ২০১৩ সালে ২৯টিতে ৭৭৭জন ২০১২ সালে ২৬টিতে ৭৮৯জন,২০১১ সালে ২৩টিতে ৬২৮জন এবং ২০১০ সালে ২০টিতে ৪৪৮জন শিক্ষাথীকে এই প্রশিক্ষান দেয়া হয়েছে।

সেমিনারকর্মশালা: গত ৫ বছরে ১৯টি সেমিনার-ওয়ার্কসপ ১৩৯২ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করেন। ২০১৫ সালে ২টিতে ১১৫জন, ২০১৪ সালে ৪টিতে ২৯৯ জন, ২০১৩ সালে ৪টিতে ২৫৪জন, ২০১২ সালে ৩টিতে ২৫০জন,২০১১ সালে ৩টিতে ২৪৬ এবং ২০১০ সালে ৩টিতে ২২৮জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করেন।

টেইলর মেইড কোর্স: একাডেমী শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কোর্সের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের চাহিদা অনুযায়ী টেইলর মেইড কোর্স পরিচালনা করে থাকে। এর মধ্যে একাডেমী আর্মি, নেভি এবং এয়ার কোর্সের কমিশন্ড অফিসারদের জন্য ২টি টেইলর মেড কোর্স শেষ হয়েছে।