হঠাৎ শীতে কদর বেড়েছে শীতবস্ত্রের

|| প্রকাশ: ২০১৬-০১-২৩ ২১:২১:৪৯ || আপডেট: ২০১৬-০১-২৩ ২১:২১:৪৯

04গ্রাম বাংলায় প্রবাদ আছে‘ মাঘের শীত বাঘের গায়ে’ মাঘ মাসে শীতের তীব্রতা এত বেশী থাকে যে বাঘও কাবু হয়ে যায়। মাঘের শুরুতে জেঁকে বসেছে শীত। শীতের প্রকোপ আরো বাড়িয়ে দিয়েছে গত বৃহস্পতিবারের গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। হঠাৎ করেই হাড় কাঁপানো শীতে জবুথবু দরিদ্র মানুষ। শীত বাড়ার সাথে সাথে বেড়েছে শীত কাপড়ের চাহিদাও। তাই দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের কাছে ফুটপাতের শীত বস্ত্রের দোকান গুলোর কদর এখন তুঙ্গে।

গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টির পর পরই শৈতপ্রবাহ, সাথে হালকা বাতাস কাবু করছে দরিদ্র ছিন্নমূল মানুষদের। মাঘের কনকনে ঠান্ডায় খুলনার পাইকগাছাসহ সারাদেশের জন জীবন বিপর্যস্থ হয়ে পড়েছে। গত কয়েক দিন সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে কুয়াশা শুরু হচ্ছে। দিনে অধিকাংশ সময় থাকছে কুয়শায় আচ্ছন্ন। দুপুর ১২টার পর সুর্যের একটু দেখা মিললেও উত্তাপ থাকছে কম। রাতে টুপ টাপ বৃষ্টির ন্যায় কুয়শা ঝরে পড়ছে।

পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে অধিক বেলা না হলে ব্যবসায়ীরা দোকান খুলছে না। অন্যদিকে সন্ধ্যার পর পর দোকান বন্ধ করে দিচ্ছে। খুলনার অন্যতম বাণিজ্যিক উপশহর কপিলমুনি বাজারে ব্যবসায়ী শেখর সাহা, পিযুষ সাধু, নিলকমল অধিকারী জানান, অতিরিক্ত শীতে সন্ধ্যার পর ক্রেতারা থাকছে না, তাই অধিক রাত না করে দোকান বন্ধ করে দিচ্ছি। শীতে শ্রমজীবি মানুষের ভোগান্তি বেড়ে গেছে। কনকনে শীতের তারা ঠিকমত কাজ করতে পারছে না। মৎস্যজীবিরা পড়েছে মহাবিপদে। বিশেষ করে যারা পানিতে কাজ করেন। ঠান্ডায় মাছ ধরতে দূর্ভোগে পড়ছে।

কয়েক দিন আগে শীতের তীব্রতা কম থাকায় অনেকে শীত বস্ত্র ব্যবহার প্রায় ছেড়ে দিয়েছিল। তীব্র শীতে ভবঘুরে ও বস্তির হত দরিদ্রদের দূর্ভোগ বেড়েছে। গরম কাপড়ের খোঁজে পুরানো কাপড়ের দোকানে ভীড় জমাচ্ছে। উপজেলা চিকিৎসা কেন্দ্র ঘুরে দেখা যায় চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে অধিকাংশ শিশু এবং বৃদ্ধ।

চলছে বোরো চাষ। তীব্র শীতে রোপনকৃত বোরো ধানের পাতা চারা হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এএইচএম জাহাঙ্গীর আলম জানান, শীতে সূর্যের আলো না থাকায় এবং চারার শিকড় ঠিকমত বের না হওয়ায় রোপনকৃত চারা খাদ্য তৈরী করতে পারছে না। সে জন্য বোরো চারা কিছুটা হলুদ হচ্ছে। কৃষি অফিস থেকে তীব্র শীতের মধ্যে বোরো চারা রোপন না করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও প.প কর্মকর্তা ডাঃ প্রভাত কুমার দাশ জানান, শীতে শিশু এবং বৃদ্ধদের বাড়তি যত্ন নিতে হবে।

সানবিডি/ঢাকা/রাআ