কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাবিভাগের সচিবের বক্তব্যের প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২১-০৮-৩০ ১৮:১৬:০৫


সম্প্রতি একটি দৈনিকে প্রকাশিত শিক্ষামন্ত্রণালয়ে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাবিভাগের সচিব মো. আমিনুলইসলাম খান এর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ ক্যাডার বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তারা। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতির সদস্য সচিব মো. শাহেদুল খবির চৌধুরীর সাক্ষরিত এক প্রতিবাদ লিপি বিভিন্ন গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।

এতে, উল্লেখ করা হয় শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অধিন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাবি ভাগের উচ্চ পদে আসীন হয়ে এ জাতীয় মন্তব্য দুর্ভাগ্যজনক। পত্রিকায় তিনি মন্তব্য করেছেন, ‘শিক্ষকদের ক্যাডার করে তাদের উচ্চাভিলাষী করা হয়েছে। সবাই অফিসার হতে আসেন। শিক্ষকতা করতে চাননা।’ প্রায়১৬,০০০বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তার মেধা, মর্যাদা এবং অধিকারকে অসম্মান করে এজাতীয় বক্তব্য প্রদান অনভিপ্রেত ও বিদ্বেষ প্রসূত যা ক্যাডারের স্থিতিশীলতার জন্য হানিকর।

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস কম্পোজিশন অ্যান্ড ক্যাডার রুলস ১৯৮০ ও বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস রিক্রুটমেন্ট রুলস ১৯৮১ অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাগণ দেশের প্রাথমিক থেকে টার্শিয়ারি স্তরের সাধারণ শিক্ষা ধারার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট সকল প্রশাসনিক পদে নিয়োগ পেয়ে থাকেন। ক্যাডারের আকার অনুযায়ী প্রশাসনিক পদের সংখ্যা একেবারেই সীমিত। ফলে এ সকল সীমিত সংখ্যক পদে এ বৃহৎ ক্যাডারের স্বল্প সংখ্যক শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাকেই সরকার পদায়ন করে থাকে। বেশিরভাগ ক্যাডার কর্মকর্তাই শিক্ষাদানে নিয়োজিত থাকেন।

তিনি আরও বলেছেন, ‘অথচ পাশের দেশ ভারতেও শিক্ষকদের ক্যাডার করা হয়নি। আসলে এরা শিক্ষক হতেই আসেন না।’ বাংলাদেশ একটা স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র। অন্য কোন দেশের কোন রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত আমাদের অনুসরণ করতেই হবে এটা তাঁর কেমন যুক্তি? আর শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাগণ শিক্ষার বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়েই শিক্ষা প্রশাসনে কাজ করেন।

তাঁর এ বক্তব্য শিক্ষা ক্যাডারের প্রশাসনিক পদসমূহ গ্রাস করার সর্বাত্মক অপচেষ্টা বলে উল্লেখ করা হয় প্রতিবাদটিতে। এতে, উল্লেখ করা হয় বিএনপি আমলে প্রাথমিক শিক্ষার প্রশাসনিক পদ দখল, শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রকল্পে শিক্ষা ক্যাডার বহির্ভূতদের পদায়ন, নায়েম থেকে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের বিতাড়নের অপচেষ্টা এ সবই ঘটেছিলো। তারই ধারাবাহিকতায় এখনও মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদে আসীন কেহ কেহ এরূপ অভিপ্রায় নিয়ে কাজ করছেন। মনে রাখতে হবে শিক্ষা প্রশাসন থেকে শিক্ষা ক্যাডার কর্মকর্তাদের সরিয়ে ঐ সকল পদ শিক্ষা সম্পর্কিত ধারণা ও জ্ঞানহীন অন্যদের দখল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উন্নয়ন দর্শনের পরিপন্থী। জাতির পিতার উন্নয়ন দর্শনের মূলে ছিলো স্ব স্ব পেশায় দক্ষ পেশাজীবীদের কাজে লাগানো।

সে জন্য তিনি প্রশাসনিক বিন্যাসে বিশেষায়ন নীতি গ্রহণ করেছিলেন। রাষ্ট্রের সামষ্টিক সমৃদ্ধি ও অভীষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে এটি নিঃসন্দেহে অপরিহার্য ও অবিকল্প কৌশলের অংশ। জাতির পিতা মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে ড. এআরমল্লিক ও অধ্যাপক কবীর চৌধুরীকে শিক্ষা সচিব পদে নিয়োগ দিয়ে ছিলেন। এছাড়া স্বাস্থ্য, প্রকৌশলসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে স্ব স্ব পেশায় দক্ষদের সচিব পদে পদায়ন করেছিলেন। পরবর্তীতে সিভিল সার্ভিসের জন্য বিভিন্ন পেশার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়েই বিভিন্ন ক্যাডার গঠন করা হয়েছে।

প্রতিবালিপিতে উল্লেখ করা হয় কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব জনাব আমিনুল ইসলাম খানের বিভিন্ন পদক্ষেপ এবং সাম্প্রতিক বক্তব্য বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের স্বার্থবিরোধী এবং বর্তমান সরকারকে বিব্রত করার এক সুপরিকল্পিত অভিপ্রায়ের অংশ।

ঐ বিভাগের সচিব হিসেবে যোগদানের পর থেকে তিনি শিক্ষাক্যাডার পরিপন্থী বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছেন। শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রশাসনিক পদ থেকে শিক্ষা ক্যাডার সদস্যদের সরিয়ে দিচ্ছেন। নিম্ন যোগ্যতা (নন-ক্যাডার) সম্পন্নদের পদায়ন করছেন এবং শিক্ষা ক্যাডার পদ সৃজনের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও নন-ক্যাডার পদ সৃজনের উদ্যোগ নিয়েছেন।

তাই আমরা তাঁর বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করছি এবং এবক্তব্য প্রত্যাহার করার জন্য অনুরোধ করছি। পাশাপাশি শিক্ষা ক্যাডার ও শিক্ষা পরিপন্থী কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার আহবান জানাচ্ছি।

সানবিডি/ এন/আই