বিদেশিদের নিরাপত্তা দিতে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ

|| প্রকাশ: ২০১৫-১০-০৪ ১৪:০১:১২ || আপডেট: ২০১৫-১০-০৪ ১৪:০১:১২

asaduzzaman-khan-kamalবিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে দেশের সব জেলার পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

রোববার (০৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের সব জেলায় যেখানে যেখানে ইউরোপীয় নাগরিকসহ বিভিন্ন দেশের নাগরিকরা কাজ করছেন সেসব স্থানে বাড়তি নজর রাখতে পুলিশ প্রশাসনকে বলা হয়েছে।

বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ড দেশীয় ষড়যন্ত্রের নতুন কায়দা বলেও মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে বিদেশি নাগরিক হত্যা করে এ প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গুলশানের কূটনৈতিক পাড়ায় ইতালিয়ান নাগরিক তাবেলা সিজারকে গুলি করে হত্যা করে মোটরসাইকেল আরোহী হয়ে আসা দুর্বৃত্তরা। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা আসিসিও কো-অপারেশনের একটি প্রকল্পের ব্যবস্থাপক হিসেবে ঢাকায় কর্মরত ছিলেন তাবেলা।

এর পাঁচ দিনের মাথায় গত শনিবার (০৩ অক্টোবর) সকালে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার আলুটারি মহিষওয়ালা মোড়ে হোসে কোনিও (৪৮) নামে এক জাপানি নাগরিককে গুলি করে হত্যা করা হয়।

বিদেশি হত্যাকাণ্ডের এ দুই ঘটনায় জঙ্গি সংগঠন আইএস জড়িত কি-না জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রশ্নই ওঠে না। বাংলাদেশে আইএস নেই। তারা কেনো বিদেশি নাগরিককে হত্যা করবে?

তিনি বলেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে, উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করতে এসব হত্যাকাণ্ড চালানো হচ্ছে। দেশে সন্ত্রাসের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ভিন্ন প্রক্রিয়ায় অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

বিদেশি নাগরিক হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতি জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের যতরকম সন্দেহ রয়েছে সব দিকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিদেশি হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে? জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের সব জেলায় বিদেশিরা যেখানে কাজ করেন সেখানে বিশেষ নজরদারির কথা বলে দিয়েছি।

বিদেশি নাগরিক হত্যার দু’টি ঘটনায় তিন ব্যক্তি ছিলেন। একইভাবে মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে হত্যাকাণ্ড চালিয়ে পালিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

মোটরসাইকেলে আরোহী চলাচলে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একজনের বেশি থাকলে প্রত্যেককেই চেক করা হবে। দুই আরোহীসহ তিনজন যেতে দেওয়া হবে না।

স্ত্রী-সন্তানসহ মোটরসাইকেল চালানোর বিষয়ে শিথিল অবস্থার ইঙ্গিত দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের প্রশ্ন রেখে বলেন, স্ত্রী-সন্তানহ চারজনও যায়, সেখানে কী বলবো বলেন?