রাবির পোশাক বিক্রেতাদের জীবিকা অর্জনের গল্প
আপডেট: ২০১৬-০১-২৬ ২০:৪৫:১৫
পৌষ মাসের প্রতিটি সকালই কুয়াশার চাদরে মোড়ানো। আর বেলা বাড়ার সাথে সাথে কুয়াশা ভেদ করে সূর্যের দেখা মেলে প্রতিদিনই, এমনই কুয়াশাচ্ছন্ন আর মেঘলা আবহাওয়ার ঠান্ডা হাওয়া বইছে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের অন্যতম জেলা শিক্ষানগরী রাজশাহীতে। কয়েকদিনের তীব্র ঠান্ডায় প্রকৃতিও যেন থমকে গেছে। যদিও দেশে শীতের প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে তারপরও জীবনের তাগিদে নিত্য নৈমিত্তিক কাজে অংশ নিতে সবাই আপন গন্তব্যের লক্ষে দৌড়াচ্ছে। শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন কর্মজীবী মানুষও যথারীতি তাদের কর্মে ব্যস্ত।
দেশের অন্যতম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও উত্তরবঙ্গের শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি)। এখানে প্রায় ২৫০০০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। শীতকালীন ছুটি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের র্কমবিরতিসহ র্দীঘ ২০দিন পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে সকল বিভাগে নিয়মিত ক্লাস পরীক্ষা হচ্ছে। তীব্র শীতকে উপেক্ষা করেই সকালে কেউ ক্লাসে আবার কেউবা পরীক্ষায় অংশ নিতে ছুটছে। এমনই ভাবে সরব হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় অঙ্গন। দৈনন্দিন ক্যাম্পাসে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের উপস্থিতিও লক্ষণীয়।
ক্যাম্পাস খোলার দিনগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন জায়গাটাতে সাধারণত পোশাক বিক্রেতারা নতুন-পুরাতন পোশাক ভ্যানযোগে বিক্রি করে থাকেন। ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে এবং দামে সাশ্রয়ী হওয়ার কারণে এখান থেকেও আমরা পোশাক ক্রয় করে থাকি। বিক্রেতারা বলেন, আমরা সাধারণত ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থী আর কর্মচারীদের কাছেই পোশাক বিক্রি করে থাকি।
কথা হয় পোশাক বিক্রেতা মাসুম এর সাথে। তিনি বলেন “আসলে শীতের মাত্রা এখন তীব্র হলেও শীতের সময় শেষ হওয়ার দিকে, তাই এবার ব্যবসা ভালো হয়নি। আবার এই সময়েও পোশাক তেমন বিক্রি হচ্ছে না।”
রোজগার কেমন হয় এমন প্রশ্নে পোশাক বিক্রেতা ও রাজশাহী কলেজের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মার্স্টাসের শিক্ষার্থী মাসুম বলেন, “ক্যাম্পাস খোলা থাকলে মাসে ৮-১০ হাজার টাকা আয় হয়। আর এতে করেই দুবেলা দুমুঠো ডাল-ভাত জোটে।” একটা সময় তিনি বলেন “মা-বাবাসহ তিন ভাই ও এক বোনের সংসার তাদের । তার ছোট ভাই মো. সোহেল রানা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্দাথ বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সদ্য স্নাতক শেষ করেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিনোদপুরে মেসে থাকেন।”
রাজশাহী কলোনির বাসিন্দা পোশাক বিক্রেতা মো. শাহীন বলেন, গত কয়েকদিনের তীব্র ঠান্ডায় আর বৃষ্টিতে একদম বেচাকেনা হয়নি। আসলে আমি বেল্টের পুরাতন সোয়েটার-জ্যাকেট বিক্রি করি। আর বৃষ্টি বাদলার দিনগুলোতে মালপত্র গুছিয়ে বসে থাকি। তিনি অভিযোগ করে বলেন, এখানকার কিছু কর্মচারী আছেন যারা পোশাক কিনে বলে বেতন হলে টাকা দিবে। অনেকেই মাস শেষে টাকা দেন আবার কেউ আছে দেননা।
পুঠিয়া থেকে আসা আরেক পোশাক বিক্রেতা মুকুল হোসেন বলেন, তিনি ক্যাম্পাসেই নতুন পোশাক যেমন; র্শাট ,প্যান্ট, টি-র্শাট, পাঞ্জাবি ইত্যাদি বিক্রি করে থাকেন। তিনি আরো বলেন এখানে আমি সকাল ৯টায় আসি আবার দুপুর ৩টায় চলে যায়। তবে ক্যাম্পাসে কোন গণ্যমান্য ব্যক্তি আসলে, প্রশাসন নিরাপত্তার স্বার্থে আমাদেরকে ক্যাম্পাসে আসতে দেয় না ।
এখানে আরো পোশাক বিক্রেতা আছেন তারা হলেন, হাদীর মোড়ের জালাল ও সুমন, বুদপাড়ার আতিয়ার, বিনোদপুরের মনিরুল ইসলাম ও স্টেশন কলোনির সুজন। তারা সকলেই আসেন সামান্য আয় রোজগারের জন্য। তাদের সকলের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সর্ম্পকে জানতে চাইলে তারা বলেন, ছাত্ররা কখনোই আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে না।
পোশাক বিক্রেতারা বলেন, বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এই জায়গায় সাধারণত শীতকালে ১০-১২জন পোশাক বিক্রেতা আর গ্রীষ্মকালে ৫-৭জন পোশাক বিক্রেতারা পোশাক বিক্রি করতে আসে। ক্যাম্পাস বন্ধের দিনগুলোতে আমরা পোশাক বিক্রেতারা আয় রোজগার করতে পারিনা। আমাদের জীবিকা অর্জনের জন্য অন্যতম উৎস এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
সানবিডি/ঢাকা/রাআ






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














