চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন কাল

|| প্রকাশ: ২০১৬-০১-২৬ ২১:৩১:২৯ || আপডেট: ২০১৬-০১-২৬ ২১:৩১:২৯

chadpur mapদীর্ঘ ১১ বছর পর চাঁদপুর জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হতে যাচ্ছে আগামীকাল বুধবার। সম্মেলনকে ঘিরে জেলার সর্বত্র ভিন্ন আমেজ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীদের ব্যানার, ফ্যাস্টুন, বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে রাস্তাঘাট।কাউন্সিল উপলক্ষে চাঁদপুর স্টেডিয়ামে তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ।

দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ কেন্দ্রীয় কমিটির বেশ কয়েকজন নেতা উপস্থিত থাকবেন বলে জেলা আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে।

২০০৫ সালের ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সম্মেলনে একমাত্র সাধারণ সম্পাদক পদে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল। পর্যবেক্ষক মহলের মতে, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুঃশাসনের শিকার হয়ে চাঁদপুর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা যখন নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে, সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে থাকে তখন সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্বের অর্থাৎ জেলা আওয়ামী লীগের অভিভাবকের দায়িত্ব পান সভাপতি হিসেবে ড. মোহাম্মদ শামছুল হক ভূইয়া ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল।

এঁদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ঘুরে দাঁড়ায়। বিএনপির দুর্গে আঘাত হানতে শুরু করে আওয়ামী লীগ। জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় বিএনপির রোষানলে পড়ে তালাবদ্ধ করে দেয়া হয়। আইনী লড়াই করে জেলা আওয়ামী লীগ বর্তমান নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয় ফিরে পায় এবং কার্যালয়টি স্থায়ীভাবে ক্রয় করে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আবু নঈম পাটওয়ারী দুলালের পিতা চাঁদপুরের সর্বজনশ্রদ্ধেয় সাবেক পৌর চেয়ারম্যান মরহুম আঃ করিম পাটওয়ারী।

জিয়া-এরশাদ-খালেদা জিয়া সরকারের নানা হয়রানি ও রোষানলের শিকার হয়েছে এই পরিবারটি। দলের সচেতন নেতা-কর্মী-সমর্থকদের মতে, এই পরিবারের সন্তান দুলাল পাটওয়ারীর নেতৃত্বে বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জেলা শহরে আওয়ামী লীগ হানা দিয়ে আজকে একটি শক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা এমনকি জাতীয় সংসদে এখানে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিরা নির্বাচিত হয়েছেন।

পুরো জেলায় তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কমিটি রয়েছে। জেলা যুবলীগের সাবেক সেক্রেটারী বেলায়েত হোসেন বিল্লাল বলেন, প্রতিদিন বিকেলে দলীয় কার্যালয়ে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে জেলা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী আবু নঈম দুলাল পাটওয়ারী যেভাবে দলীয় কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মীরা এসে তার সাথে যোগাযোগ রাখতে পারছেন এটা অনেক জেলায় নেই। এটা আওয়ামী লীগকে একটি শক্ত অবস্থানে নিতে সহায়তা করছে বলে তিনি মনে করেন।

হাজীগঞ্জের আঃ ছালাম নামে একজন তৃণমূলের আওয়ামী লীগ সমর্থক মনে করেন, গত বছর বিএনপি-জামায়াতের রাজনৈতিক সহিংসতা অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে মোকাবেলায় সফল হয়েছে বর্তমান নেতৃত্ব।

তৃণমূলের রাজনীতিতে জেলা সাধারণ সম্পাদকের ভূমিকা প্রশংসনীয়। নিজেদের সফলতা-ব্যর্থতার মাঝেও দলকে আরো সুসংগঠিত করার অভিপ্রায়ে আবারও জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত বলে জানান বর্তমান সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ড. শামছুল হক ভূইয়া ও আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল। ইতোমধ্যে সভাপতি পদে ড. শামছুল হক ভূইয়া, পৌর মেয়র ও সজ্জন রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচিত শহর আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহামেদ এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বড় ভাই ডাঃ জে আর ওয়াদুদ টিপু তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন।

১১ বছর আগের সম্মেলনে সভাপতি প্রার্থী ইউসুফ গাজীর নাম এবার শোনা গেলেও তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ও প্রচার-প্রচারণায় সভাপতি প্রার্থী হিসেবে নিজের জোরালো অবস্থান জানান দেননি। অপরদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে আবু নঈম পাটওয়ারী দুলাল, বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি আলহাজ্ব ওছমান গণি পাটওয়ারী, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডঃ জহিরুল ইসলাম, আহসান উল্লাহ আখন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক শামছুল হক মন্টু পাটওয়ারী ও তাফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারী তাদের প্রার্থিতা জোরালোভাবে ঘোষণা করেছেন। তবে এই পদে বিএমএ সভাপতি ডাঃ হারুনুর রশিদ সাগর, জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডঃ মজিবুর রহমান ভূঁইয়া ও সাবেক ছাত্রনেতা জিল্লুর রহমান জুয়েলের নামও কারো কারো মুখে উচ্চারিত হচ্ছে।

বলিষ্ঠ প্রার্থীদের পক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যানার, ফ্যাস্টুন, বিলবোর্ড স্থাপন করে প্রচারণা চালাচ্ছেন বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক
দলের বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরের সাথে কথা বললে তারা জানান, তারা ভোট দিয়ে আগামী নেতৃত্ব নির্বাচন করতে চান। তারা মনে করেন, কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে প্রকৃত নেতা খুঁজে পাওয়া যায়। এ দিকে শান্তিপূর্ণভাবে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করছেন এখানকার নেতা-কর্মীরা। তবে কাউন্সিলররা শেষ পর্যন্ত ভোটের মাধ্যমে আগামীদিনের নেতা নির্বাচন করতে পারবেন কিনা এ নিয়ে আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। এক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে কেউ কেউ প্রভাব বিস্তার করতে পারেন বলে অনেকের ধারণা।

সানবিডি/ঢাকা/রাআ