আওলাদ ভাইয়ের জানাজার সময় এফডিসিতেই ছিলাম না

প্রকাশ: ২০১৫-১০-০৪ ১৯:১৭:১০

sakibচলচ্চিত্র সাংবাদিকতার কিংবদন্তি মোহাম্মদ আওলাদ হোসেনের জানাজায় অনুপস্থিত থাকায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন  ঢালিউডের শীর্ষ নায়ক ও বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি শাকিব খান। এ অঙ্গনের মানুষের মুখে এখন একটাই কানাঘুষা কেনো তিনি আওলাদ হোসেনের জানাজায় অনুউপস্থিত ছিলেন? আবার অনেকেই দাবী করছেন, শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর দ্বিতীয় জানাযার জন্য যখন আওলাদ হোসেনের মরদেহ এফডিসি চত্বরে নিয়ে আসা হয় তখন শোবিজ সংশ্লিষ্ট সর্বস্তরের অভিনেতা, অভিনেত্রী, নির্মাতা, প্রযোজক, সাংবাদিকসহ সকলেই উপস্থিত থাকলেও শাকিব খান অনুপস্থিত ছিলেন এবং তিনি ওই সময়ই এফডিসিরই ২ নম্বর ফ্লোরের মেকআপ রুমে বসে অলস সময় পার করছিলেন। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়াতে একপ্রকার টাইফুন বইছে!

সত্যিই কি শাকিব জানাজার সময় এফডিসিতে উপস্থিত ছিলেন? এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শাকিবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজে জানান, আওলাদ ভাইয়ের জানাজার সময় আমি সত্যিই এফডিসিতে ছিলাম না। মানুষের মৃত্যু নিয়ে তো আর মিথ্যা বলতে পারিনা! আর মিথ্যা কেনোই বা বলবো? এছাড়া বিভিন্ন মাধ্যম দিয়ে জানতে পেরেছি আমি নাকি জানাজার সময় এফডিসির ২ নম্বর ফ্লোরেই ছিলাম। আমি বলবো-এমন কথা যারা ছড়াচ্ছে তারা প্রকৃত বিষয় না জেনেই বলছেন। এটা তাদের জানার ভুল। আবার সেসব সাংবাদিক ভাইয়েরা এই খবর প্রকাশ করেছেন- জানাজার সময় আমি এফডিসিতে ছিলাম, এটাও জানার ভুল। আমি বলতে চাই তারা যে মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছেন সেই তথ্যটি ভুল ছিলো। কেউ প্রমাণ করতে পারবে ? যদি পারে তবে আমি সকলের কাছে নত স্বীকার করবো।

আলাপকালে শাকিব বলেন, আওলাদ ভাই যে আমার কতো কাছের মানুষ ছিলেন সেটা আমি খুব ভালোভাবে জানি। বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যুর কিছুক্ষণ পরেই আমি খবর পেয়েছিলাম। মৃত্যুর সংবাদটা শুনেই আমার বুকের মধ্যে মোচড় দিয়ে ওঠে। ঐ রাতেই আমি তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করি এবং পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাই।
শাকিব এও বলেন, গেলো ঈদের দিন আমার আওলাদ ভাইয়ের বাসায় যাওয়ার কথা ছিলো কিন্তু সাময়িক কারণে যেতে পারিনি যার দরুন আমার এক কাজিন মারফাত তার বাসায় কোরবানির মাংস পাঠিয়ে দেই। কতোটা ঘনিষ্ঠতা থাকলে একজন মানুষের বাসায় মাংস পাঠাই বলুনতো? আর সেই মানুষটা অকালে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন আর আমি তার জানাজায় আসবো না! এটাতোটা নির্বোধ আমি নই।

তাহলে আওলাদ হোসেনের জানাজার সময় আপনি কোথায় ছিলেন আর কেনোই বা অনুপস্থিত ছিলেন? এমন প্রশ্নের জবাবে শাকিব বললেন, যখন জানতে পারি আওলাদ ভাইয়ের জানাজা এফডিসি চত্বরে হবে তখনই আমি আমার শিল্পী সমিতির সদস্যদেরকে জানিয়ে দেই তার মরদেহে পুষ্পস্তবক অর্পনের জন্য। তারা সবকিছু তৈরিও করে রাখে। আমার ধারণা ছিলো আওলাদ ভাইয়ের জানাজা হবে কয়েক দফায়। সেজন্য এফডিসিতে জানাজা অনুষ্ঠিত হতে হয়তো একটু দেরিতে। তাই আমি ঐ দিন গুলশান থেকে জুম্মার নামাজ আদায় করে বাসায় দুপুরের খাবার খাচ্ছিলাম। সেসময় ফোন আসে জানাজা শুরু হবে এখনই। আমি খাওয়া ফেলে তড়িঘড়ি করে এসে দেখি জানাজা শেষে মরদেহ বহনকারী গাড়ীবহর এফডিসি থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। পরে চ্যানেল আই-তে জানাজা হওয়ার কথা ছিলো সেখানে জানাজায় শামিল হতে চেয়েছিলাম কিন্তু জানতে পারি লাশের অবস্থা ভালো ছিলো না তাই তাড়াতাড়ি দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

শাকিবের কথার সত্যতা নিশ্চিত করতে অভিনেতা ও শিল্পী সমিতি সাধারণ সম্পাদক অমিত হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আওলাদ ভাইয়ের জানাজায় শাকিবের অনুপস্থিতি নিয়ে একটা ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছ। না বুঝেই অনেকে অনেক রকম কথা বলছেন, যেটা ঠিক না। জানাজার জন্য আমি শাকিবকে ফোন দেই তিনি আসতে আসতে জানাজা শেষ হয়ে যায়। পরে শাকিব এটা নিয়ে অনেক দুঃখ প্রকাশ করে।

এদিকে, শুক্রবার এফডিসির ২ নাম্বার ফ্লোরে শফিক হাসান পরিচালিত ‘ধূমকেতু’ ছবির শুটিং চলছিল। অনেক খবরে বলা হয়েছে শাকিব সে সময় ধূমকেতু ছবির শুটিং করে মেকআপ রুমে ছিলেন। ধূমকেতু’র ছবির নায়িকা তানহা তাসনিয়া জানান, যখন আওলাদ ভাইয়ের জানাজা হয় তার পূর্বে আমি নিজেও তার লাশে শেষ শ্রদ্ধা জানাই। সে সময়ও শাকিব ভাই এফডিসিতেই ছিলেন না। জানাজা শেষ হয়ে যখন তার মরদেহ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হয় তার মিনিট পাঁচেকের পর শাকিব ভাই এফডিসিতে প্রবেশ করে। আমি নিজে এটা দেখেছি।

তবে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট বোদ্ধাদের দাবি ভালোবাসা আর অশ্রুজলে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যেখানে আওলাদ হোসেনের জানাজায় স্বয়ং তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব এ কে এম জাহাঙ্গীর খান, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, কে এম আর মঞ্জুর, আব্দুল লতিফ বাচ্চু, কাজী হায়াত, বাচসাস সভাপতি আবদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল করিম নিশান, পরিচালক সমিতির সভাপতি সোহানুর রহমান সোহান, মহাসচিব মুশফিকুর রহমান গুলজার, মতিন রহমান, শাহ আলম কিরণ, মাসুম বাবুল, এম এন ইস্পাহানী আরিফ জাহান, এস এ হক অলিক, সুদীপ দে, দেবাশীষ বিশ্বাস, জয়নাল আবেদীন, মোস্তাফিজুর রহমান মানিক, শাহীন কবির টুটুল, মোহাম্মদ মোস্তাফা কামাল রাজসহ চিত্র তারকাদের মধ্যে উজ্জল, নূতন, রুবেল, আমিন খান, মৌসুমী, ওমর সানি, মিশা সওদাগর, পপি, কাজী মারুফ, কেয়া, জায়েদ খান, নিপুণ, সাইমন, আরজু, আসিফ ইমরোজ, শাহ রিয়াজ উপস্থিত ছিলেন সেখানে শাকিব তার অনুপস্থিতির দ্বায় কোনোভাবেই এড়াতে পারেন না।

Print Print