পুরস্কার পাচ্ছেন মির্জা ফখরুল
আপডেট: ২০১৬-০১-২৭ ১২:৪৯:২১
রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ‘পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ’ এবং দলের মধ্যে ‘বিশ্বস্ত এবং নিবেদিত প্রাণ’ নেতা হিসেবে পরিচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিএনপির ষষ্ঠ কাউন্সিলে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের তকমা মুছে দলের পুর্ণাঙ্গ মহাসচিব হচ্ছেন। প্রায় পাঁচ বছর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালনকারী এই নেতা এবার তার যোগ্যতার পরীক্ষার পুরস্কার পাচ্ছেন। এমনটিই জানাচ্ছে দলের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র।
বিএনপির পঞ্চম কাউন্সিলের পর দলের মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন প্রয়াত নেতা খন্দকার দেলোয়ার হোসেন। ২০১১ সালের ১৬ মার্চ তিনি মারা যান। এরপর দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করা হয়। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত তাকে ভারমুক্ত করা হয়নি।
বেশ কয়েকবার ষষ্ঠ কাউন্সিলের উদ্যোগ নিলেও নানা কারণে বিএনপির সেই কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে আসে। তবে এবার আগামী মার্চেই কাউন্সিল করার চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। গত ২৩ জানুয়ারি শনিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সভাপতিত্বে দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নীতিগতভাবে এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এখনো তারিখ নির্দিষ্ট না হলেও মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। যদিও বিষয়টি নির্ভর করছে ভেন্যু পাওয়া নিয়ে।
এর আগে ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলের জন্য ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে প্রধান করে সমন্বয় কমিটি গঠন ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য, ভাইস চেয়ারম্যান, উপদেষ্টা ও যুগ্ম মহাসচিব পর্যায়ের নেতাদের প্রধান করে ১২টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে ড্রাফটিং সাব-কমিটির একটি বৈঠকও হয়। তারপর থেমে যায় সে প্রক্রিয়া। বিগত দুই বছর ধরে কয়েকবার কাউন্সিলের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয় বিএনপি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব নেওয়ার পর এ পর্যন্ত সাতবার জেল খেটেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে রয়েছে ৮৪ মামলা। ৩৫টি মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিটও গ্রহণ করা হয়েছে। কারাগারে যাওয়া-আসার মধ্যে থাকা এই নেতা রোগাক্রান্তও। চিকিৎসার জন্য প্রায়ই তাকে দেশের বাইরে যেতে হয়। এরপরও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
দলের দায়িত্বশীল দু’জন নেতা জানান, মির্জা ফখরুল ইসলামের মহাসচিব পদ পাওয়া অনেকটাই অনুমিত। কারণ সঙ্কটের সময়ে তিনি দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। তাছাড়া প্রতিকূল পরিবেশেও তিনি আপোষ করেননি। তাছাড়া দলের ব্যাপারে তিনি বেশ নিবেদিত প্রাণ এবং হাইকমান্ডের প্রতি আনুগত। সেজন্য তিনি মহাসচিব হচ্ছেন তা এ্রক প্রকার নিশ্চিত বলা যায়।
সূত্র জানায়, মহাসচিব পদ পাওয়ার দৌড়ে ফখরুল ইসলামের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বেশ কয়েকজন নেতা। তবে শেষ পর্যন্ত সবাই ছিটকে পড়েছেন। দলের আপদ কালে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পুরস্কার হিসেবে তাকে মহাসচিব করা হচ্ছে। লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানেরও এ বিষয়ে গ্রিন সিগনাল রয়েছে।
দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়ে মির্জা আলমগীর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের কমিটির বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করেন এবং প্রত্যাশার চেয়েও বেশি সফল হন। ঢাকা-চট্টগ্রামের নেতাদের বিরোধ যাতে প্রকাশ্যে না আসে, সেই উদ্যোগ নিয়েও সফল হয়েছেন। জোটের সমন্বয়কের দায়িত্বও বেশ ভালোভাবে পালন করেছেন তিনি। দলের সাংগঠনিক কর্মকা- দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনার পাশাপাশি সরকারবিরোধী আন্দোলন কর্মসূচি সংঘাতপূর্ণ না করে শান্তিপূর্ণ করার চেষ্টা চালিয়ে দলের বাইরেও প্রশংসিত হন। দলের নেতা-কর্মীদের বাইরেও দেশি-বিদেশি কূটনীতিক, গণমাধ্যম, সুশীল সমাজ, অন্যান্য রাজনৈতিক দলসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছেও মির্জা ফখরুলের গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সামগ্রিক বিবেচনায় দলের ভেতরে-বাইরের দক্ষতার বিচারে মহাসচিব পদের জন্য মির্জা ফখরুলই এগিয়ে।
জানতে চাইলে দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব দিয়ে চলছে। দল যাকে মহাসচিব হিসেবে চাইবে তিনিই এই দায়িত্বে আসবেন। তবে পাঁচ বছর ধরে তিনি (মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর) হাল ধরে আছেন। সুতরাং তিনি মহাসচিব পদ পেতে পারেন, সেটাও তো এক প্রকার স্বাভাবিক।’
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর প্রথম কাউন্সিল হয়। দ্বিতীয় কাউন্সিল হয় ১৯৮২ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এরপর ১৯৮৯ সালের ৮ ও ৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় দলটির তৃতীয় কাউন্সিল। ১৯৯৩ সালের ১, ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর বিএনপি চতুর্থ কাউন্সিল করে। সর্বশেষ ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর হয় পঞ্চম কাউন্সিল। সূত্র: রাইজিংবিডি
সানবিডি/ঢাকা/এসএস






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














