চরম ক্ষুধায় জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন আফগানরা
সান বিডি ডেস্ক প্রকাশ: ২০২১-১০-২৬ ১৭:০০:০৭
সম্প্রতি আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে তালেবান বাহিনী। তারা প্রতি্শ্রুতি দিয়েছে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেখানে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে। তবে পরিস্থিতি বলছে অন্য কিছুই। প্রায় ২ কোটি ৩০ লক্ষ আফগান চরম ক্ষুধার মুখোমুখি। একটি যৌথ সমীক্ষায় দি ফুড এন্ড এগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশন এবং বিশ্ব খাদ্য কার্যক্রম এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছে।
এই সমীক্ষায় জানানো হয়, ঝুঁকিতে থাকা ৫ বছরের চাইতে কম বয়সী ৩২ লক্ষ শিশু এ বছরের শেষ নাগাদ চরম অপুষ্টিতে ভোগার সম্ভাবনা রয়েছে। খরা, সংঘাত এবং অর্থনৈতিক দৈন্য’র মিলিত প্রভাব ব্যাপকভাবে আফগান জনগণের জীবিকা ও খাদ্যের ওপর প্রভাব বিস্তার করেছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির নির্বাহী পরিচালক, ডেভিড বিসলেই দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, “সবচাইতে খারাপ না হলেও, আফগানিস্তান এখন বিশ্বে ঘোরতর মানবিক সঙ্কটে আবর্তিত হওয়া দেশগুলির মধ্যে অন্যতম এবং সেখানে খাদ্য নিরাপত্তা পরিস্থিতি বলতে গেলে একেবারেই ধ্বংসপ্রাপ্ত”।
এ বিষয়ে জাতিসংঘের কর্মকর্তারা এএফপিকে জানান, আফগানিস্তানে চলমান সংকটের মাত্রা এরই মধ্যে ইয়েমেন বা সিরিয়ার চেয়ে বেশি। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে খাদ্যসংকটের পরিস্থিতি ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো ছাড়া জরুরি অবস্থার মধ্য দিয়ে যাওয়া অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে খারাপ। লক্ষ লক্ষ ক্ষুধার্থ – কৃষক, মহিলা, ছোট শিশু এবং বয়স্কদের কাছে যাতে শীতের আগেই পর্যাপ্ত খাবার পৌঁছে দেয়া যায় তা নিয়ে কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন FAO’র মহাপরিচালক কিউ ইউ ডংয়ু। তালেবান এখন পর্যন্ত কোনো দেশের স্বীকৃতি অর্জন করতে পারেনি। গোষ্ঠীটির ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞাও বলবত রয়েছে।
আফগানিস্তানে মানবিক সংকিটের বিষয়ে তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ বলেন, ‘আমরা দেশের মানুষকে চলমান পরিস্থিতি থেকে বের করার চেষ্টা করছি। বৈশ্বিক মানবিক সহায়তাও আমরা পেতে শুরু করেছি। মুজাহিদ অঙ্গীকার করে বলেন, ‘জনগণকে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য, কাপড়সহ অন্যান্য সহায়তা দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। সব উদ্বেগ দূর করা হবে।’ কিন্তু আফগান নাগরিকরা কবে সেই সুখের দিন দেখতে পাবেন তা নিয়ে উদ্বেগ এবং উৎকণ্ঠা তৈরী হয়েছে।
এদিকে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, আফগানিস্তানে তাদের মানবিক সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় কেবল এক-তৃতীয়াংশ।এই পরিস্থিতিতে কিভাবে সমস্যার সমাধান সম্ভব তা নিয়ে অবিলম্বে চিন্তাভাবনা করার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
সূত্র: news.un.org
সানবিডি/এনজে






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














