শঙ্কা থাকলেও ১ ফেব্রুয়ারি বইমেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলা একাডেমি
নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-০১-১০ ১৬:৩৩:২২
দেশে হঠাৎ করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় কিছুটা শঙ্কা দেখা দিলেও নির্ধারিত সময়ে বইমেলার আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলা একাডেমি। আয়োজক প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ওমিক্রন নিয়ে কিছুটা শঙ্কা থাকলেও ভাষার মাস ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই অমর একুশে বইমেলা শুরু হবে।
এখন পর্যন্ত ফেব্রুয়ারিকে সামনে রেখে মেলার সব প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সেই অনুযায়ী মেলার নকশা, স্টল, প্যাভিলিয়ন তৈরির প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে প্রকাশকরাও মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ফেব্রুয়ারি মাস মেলার আয়োজনের উপযুক্ত সময়। কারণ দেশে ওমিক্রনের সংখ্যা বাড়লেও সেটা নিয়ন্ত্রণের পর্যায়ে রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে মেলা না হলে পরে ওমিক্রন আরও বাড়লে মেলার আয়োজন সম্ভব না।
ভাষা শহীদদের স্মৃতিতে নিবেদিত বইমেলায় এবারের প্রতিপাদ্য করা হয়েছে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষকে। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও মেলার নকশা করবেন স্থপতি এনামুল করিম নির্ঝর। যদিও গত বছর মেলায় প্যাভিলিয়ন ও স্টল বিন্যাস নিয়ে প্রকাশকদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। তাই এবারের মেলায় প্যাভিলিয়ন ও স্টল বিন্যাসে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলা একাডেমি। এছাড়া মেলায় অতিরিক্ত ফুড স্টল যেন না হয় সেদিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।
মেলার সার্বিক বিষয়ে বাংলা একাডেমির পরিচালক বইমেলার সদস্য সচিব জালাল আহমেদ বলেন, ১ তারিখ মেলা হবে, আমরা সেই প্রস্তুতি নিয়েছি। আশা করছি, এই সময়ের মধ্যে মেলার সব কাজ শেষ হয়ে যাবে।
মেলার তারিখ পরিবর্তনের কোনো সম্ভাবনা আছে কিনা- জানতে চাইলে জালাল আহমেদ বলেন, এই রকম কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অর্থাৎ এ বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
আগামী প্রকাশনীর প্রকাশক ওসমান গণি বলেন, এখন সময়টা ঠিক আছে। কিন্তু যেভাবে ওমিক্রন বাড়ছে, এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকার কী সিদ্ধান্ত নেয়, যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে ওমিক্রন আরও বাড়লে মেলা স্থগিতের রাখবে, তখন তো কিছু করার থাকবে না। তবে, এখন যে রকম আছে, সেটা থাকলে আমরা মনে করি মেলা করে ফেলা যায়। আসলে এটা আমাদের ইচ্ছা না, সরকারের সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করে।
তিনি আরও বলেন, যারা প্রকাশক তারা সারা বছরই বই প্রকাশ করে। এটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। শুধু মেলা এলেই বই প্রকাশ হয়, অন্য সময় বই কী প্রকাশ হয় না? মেলার সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।
করোনায় ক্ষতির কারণে গত বছর বইমেলায় প্যাভিলিয়ন ও স্টল ভাড়া অর্ধেক কমিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু এবার প্রকাশকদের পুরো ভাড়া দিয়ে মেলায় অংশ নিতে হচ্ছে।
প্রকাশকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, করোনা মহামারির ঊর্ধ্বমুখী পরিস্থিতিতে ২০২১ সালের মার্চে মেলা হওয়ায় প্রকাশকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। পরবর্তীতে মেলার সময়সূচি কমিয়ে আনায় সেই ক্ষতি আরও দীর্ঘ হয়। এছাড়া ১৮ মার্চ থেকে শুরু হওয়া মেলা নির্ধারিত সময় ১৪ এপ্রিলের দুদিন আগেই ১২ এপ্রিল সমাপ্তি হয়। তাই প্রকাশকদের ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ে। তাই সার্বিক অবস্থার বিবেচনায় এবারও সেই হ্রাসকৃত মূল্যে স্টল বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন প্রকাশকরা। কিন্তু স্টল ভাড়া কমায়নি বাংলা একাডেমি। এই নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে প্রকাশদের মধ্যে। যদিও তাদের আশা শেষ পর্যন্ত সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমি স্টলের ভাড়া কমিয়ে প্রকাশকদের জন্য প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।
বইমেলার সদস্য সচিব জালাল আহমেদ বলেন, আপাতত স্টলের ভাড়া কমানোর সুযোগ নেই। তবে এ বিষয়ে সরকার পর্যায়ে চেষ্টা করছি, প্রকাশকরাও চেষ্টা করছেন। তাদের জন্য প্রণোদনার মধ্যে কিছু সরকারি সহায়তা পাওয়া যায় কিনা, তার জন্য। সেটা পাওয়া গেলে তখন তারা অর্থ ফেরত পাবেন।
জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদ বলেন, করোনার সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী পরিস্থিতির কারণে গত বইমেলায় প্রকাশকরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। গত মেলায় অর্ধেক মূল্যে স্টল ভাড়া দিয়েও প্রকাশকদের লোকসান গুণতে হয়েছে। এ কারণে এবারের মেলাতেও এই প্রণোদনা চলমান রাখার দাবি জানিয়েছি। কিন্তু সেটা কার্যকর হয়নি, ভাড়ার পুরোটাই দিতে হচ্ছে।
আগামী প্রকাশনীর প্রকাশক ওসমান গণি বলন, ১৩ তারিখে স্টল ভাড়ার টাকা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ। এরপর বাংলা একাডেমির সঙ্গে ভাড়া কমানোর বিষয়টি নিয়ে আবার বসব। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও বসব, দেখি কী হয়।
সানবিডি/ এন/আই






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন














