প্লাস্টিক-হালকা প্রকৌশল খাতে ব্যাপক সম্ভাবনা: বাণিজ্যসচিব

নিজস্ব প্রতিবেদক || প্রকাশ: ২০২২-০১-১৮ ২০:৪৪:৫৩ || আপডেট: ২০২২-০১-১৮ ২০:৪৮:০৯

বাংলাদেশে প্লাস্টিক ও হালকা প্রকৌশল খাতের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ। মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ট (বিল্ড) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান তিনি।

রপ্তানি আয় বাড়াতে পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করে সচিব বলেন, ‘পোশাক খাতের নির্ভরশীলতা কমাতে আমাদেরকে নতুন নতুন পণ্য তৈরির দিকে নজর দিতে হবে।’

প্লাস্টিক খাত ও হালকা প্রকৌশল খাতের রপ্তানি উন্নয়নে দুটি খসড়া রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। এ রূপরেখাগুলো চূড়ান্তকরণে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস’ প্রকল্প কার্যালয়ে এই আলোচনা সভা হয়। বাণিজ্যসচিব এতে সভাপতিত্ব করেন।

বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, ‘দেশে প্লাস্টিক শিল্পের বিশেষ করে খেলনা রপ্তানির ওপর জোর দিতে হবে।

‘এ ক্ষেত্রে স্বত্বাধিকারসংক্রান্ত সমস্যা এড়াতে আমাদের নিজস্ব ডিজাইনের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য দরকার ডিজাইন সেন্টার। বিশ্বের উন্নত দেশে মিউনিসিপ্যাল বিন ও মোবাইল টয়লেট তৈরি হয় প্লাস্টিক দিয়ে। আমরা এ বাজার ধরার চেষ্টা করতে পারি।’

হালকা প্রকৌশল খাতের রপ্তানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কম্বোডিয়ার মতো বাংলাদেশের হালকা প্রকৌশল খাতেও প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। এ খাতে ব্যাপক বিদেশি বিনিয়োগ আসার সুযোগ রয়েছে। এ সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।’

বিল্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌস আরা বেগম বলেন, ‘অটোমোবাইল কম্পোনেন্ট ও প্লাস্টিকের খেলনা বর্তমানে খুবই গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি পণ্য হিসেবে বিবেচিত। এ পণ্যগুলোর রপ্তানি সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধাসহ যথাযথ নীতিসহায়তা দিতে হবে।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাফিজুর রহমান বলেন, ‘২০২৪ সাল নাগাদ আমাদের ৮০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। খাতভিত্তিক রপ্তানির যেসব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে সেগুলো রপ্তানি নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।’

বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফেকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) প্রেসিডেন্ট শামীম আহমেদ বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে প্লাস্টিক অটোমোবাইল কম্পোনেন্ট তৈরিতে পিছিয়ে আছে । এ বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া জরুরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘খেলনা রপ্তানির বড় সমস্যা স্বত্বাধিকার। এটি যথাযথভাবে মেনে না চললে নকল পণ্য উৎপাদন করলে রপ্তানি করা যায় না। এ সমস্যা নিরসনে সরকারি–বেসরকারি পর্যায়ে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

এক্সপোর্ট কম্পিটিটিভনেস ফর জবস-এর প্রকল্প পরিচালক মো. মনসুরুল আলম বলেন, ‘বর্তমানে সারা দেশে ৩০০ প্লাস্টিক রিসাইক্লিং কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় স্ক্র্যাপ থেকে প্লাস্টিক ফ্লেক উৎপাদন এবং ইয়ার্ন তৈরির জন্য বছরে প্রায় ৪০ হাজার টন ফ্লেক রপ্তানি করা হয়। পরিবেশ ক্ষতিকারক ফ্লেক এখনই বন্ধ করতে হবে এবং বাংলাদেশে কীভাবে ফ্লেক থেকে ইয়ার্ন তৈরি করা যায় সে বিষয়ে ভাবতে হবে।’

বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মো. আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘বর্তমানে বৈশ্বিক হালকা প্রকৌশলের ৭ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার রয়েছে। বাংলাদেশ যথাযথভাবে এগিয়ে চললে এ বাজারের সুযোগ গ্রহণ করতে পারবে।

‘হালকা প্রকৌশল শিল্পের উন্নয়নে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে হবে। এ ছাড়া ভূমি নীতিতে পরিবর্তন আনতে হবে। এ খাতের জন্য শিগগির টেকনোলজি সেন্টার গড়ে তোলা প্রয়োজন।’

এএ