শপথ নিল নতুন নির্বাচন কমিশন

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-০২-২৭ ১৬:৫৬:৩৬


শপথ নিল কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে একে একে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ অন্য নির্বাচন কমিশনারদের শপথবাক্য পাঠ করান প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

গতকাল শনিবার বিকেলে সাবেক সিনিয়র সচিব কাজী হাবিবুল আউয়ালকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) করে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশন নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ। কাজী হাবিবুল আউয়ালের নেতৃত্বাধীন অপর চার নির্বাচন কমিশনার হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ বেগম রাশিদা সুলতানা, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আহসান হাবীব খান, অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর ও আনিছুর রহমান।

নির্বাচন কমিশন শপথ নেয়ার পর যেদিন প্রথম চেয়ারে বসেন, সেদিন থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর তাদের দায়িত্বকাল। কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বাধীন সাবেক নির্বাচন কমিশনের মেয়াদ শেষ হয় গত ১৪ ফেব্রুয়ারি। তারপর থেকে এ পর্যন্ত কমিশন কার্যত শূন্য ছিল। স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম আইন অনুযায়ী ইসি গঠন হয়েছে। গত ২৭ জানুয়ারি প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ বিল-২০২২ জাতীয় সংসদে পাস হয়।

নতুন ইসি গঠনের লক্ষ্যে ৫ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে সার্চ কমিটি গঠিত হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি এস এম কুদ্দুস জামান, মহাহিসাব নিরীক্ষক মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) চেয়ারম্যান মো. সোহরাব হোসাইন, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ছহুল হোসাইন ও কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক।

এর আগের দুটি নির্বাচন কমিশন সার্চ কমিটির মাধ্যমে গঠন করা হয়েছিল। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে ২০১২ সালে কাজী রকিবউদ্দিন আহমেদ ও ২০১৭ সালে কেএম নুরুল হুদার নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়।

ইসি গঠনে রাষ্ট্রপতির কাছে নাম প্রস্তাব করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের কাছে নাম চেয়েছিল সার্চ কমিটি। পরবর্তী সময়ে ২৪টি রাজনৈতিক দল ও ছয়টি সংগঠন নামের তালিকা জমা দেয়। ব্যক্তিগতভাবেও অনেকে নামের তালিকা জমা দিয়েছিলেন। তবে বিএনপি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টিসহ (সিপিবি) বেশ কয়েকটি দল নাম দেয়া থেকে বিরত ছিল। সব মিলিয়ে মোট ৩২২ জনের নাম পেয়েছিল সার্চ কমিটি। ওই তালিকায় অধিকাংশই ছিলেন অধ্যাপক, বিচারপতি, সাবেক সচিব ও সাবেক সামরিক কর্মকর্তা। সেখান থেকে প্রাথমিকভাবে ২০ জনের নামের তালিকা করা হয়। পরে সেটি আরো ছোট করে ১২-১৩ জনের একটি তালিকা করা হয়। সেখান থেকে ১০ জনের নাম বাছাই করে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়।

এএ