ঝুঁকিতে রাশিয়ার ৬০০ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক প্রকাশ: ২০২২-০৩-০১ ১৭:৪৭:১৬


ইউক্রেনে রাশিয়ার চলমান ভয়াবহ সামরিক আগ্রাসনের জন্য রাশিয়াকে শাস্তি দিতে দেশটির উপরে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে পশ্চিমা দেশগুলো। এমন প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার উপরে দেয়া নিষেধাজ্ঞার নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন উদ্যোক্তারা। তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক লেনদেনের মাধ্যম সুইফট থেকে রুশ ক্রেতাদের বহিস্কার করা হলে বাংলাদেশ তার পোশাক রপ্তানির অন্যতম প্রধান একটি গন্তব্য হারাবে।

এ ব্যাপারে ডেইলি স্টারের এক রিপোর্টে জানানো হয়েছে, ইউক্রেনে হামলা করায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠিনতম নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। এরমধ্যে আছে দেশটির কয়েকটি ব্যাংককে সুইফট সিস্টেম থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া। এই ব্যবস্থাটি দ্রুত আন্তর্জাতিক অর্থ লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের রুশ আমদানিকারকদের থেকে পেমেন্ট পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে যাবে।

রাশিয়ায় বাংলাদেশি পোশাকের বাজার ক্রমশ বড় হচ্ছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর হিসাবে, এই অর্থ বছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি মাসের মধ্যে রাশিয়ায় ৪১৫.৪৭ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে বাংলাদেশ।

এর আগের বছরের তুলনায় যা ৩৬.৪৭ শতাংশ বেশি। গত অর্থ বছরে বাংলাদেশ ৫৯৩.৫৫ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে রাশিয়ায়। এরমধ্যে নিটওয়্যার পণ্য ছিল ৩৭৩.২৫ মিলিয়ন ডলারের এবং ওভেন পণ্য। কিন্তু সুইফট সিস্টেম থেকে রাশিয়াকে বিচ্ছিন্ন করে দিলে বাংলাদেশের এই বাজার ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

ইয়ংফরেভার টেক্সটাইলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাজিব চৌধুরি জানান, তিনি রাশিয়ার এক ক্রেতার কাছে হুডি জ্যাকেট বিক্রি করেছেন। রাশিয়া একটি সম্ভাবনাময় বাজার। তুরস্কভিত্তিক ওই রুশ ক্রেতার কাছে তিনি প্রথম চালান পাঠিয়েছেন। ৪ লাখ ডলারের পণ্য পাঠিয়ে তিনি ২ লাখ ডলার পেমেন্ট পেয়েছেন। রাজিব চৌধুরি বলেন, আমাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, ওই রুশ ক্রেতার তুরস্কে অফিস থাকায় তিনি সেখান থেকেই আমাকে বাকি পেমেন্ট করে দেবেন। তাই আমি হয়ত এই দফায় কোনো চ্যালেঞ্জ ছাড়াই রুশ ক্রেতার থেকে পেমেন্ট পেয়ে যাব। তবে তিনি নতুন করে রাশিয়ায় কোনো পণ্য পাঠাবেন না বলেও জানান। সুইফট নিয়ে যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে তা শেষ হওয়ার পর আবার রাশিয়ায় পণ্য পাঠাবেন তিনি। নইলে পেমেন্ট পেতে জটিলতায় পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা এই উদ্যোক্তার।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) প্রেসিডেন্ট ফারুক হাসান বলেন, যুদ্ধ এবং সম্ভাব্য সুইফট নিষেধাজ্ঞার কারণে আমাদের সদস্যদের রাশিয়ায় পণ্য না পাঠানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আমরা রাশিয়া ও ইউক্রেনের বাজার নিয়ে উদ্বিগ্ন। এই যুদ্ধের কারণে চালান পাঠানো ও পেমেন্ট পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। বিজিএমইএ সকল সদস্যদের নির্দেশনা দিয়ে জানিয়েছে যাতে নতুন করে রাশিয়া থেকে কোনো অর্ডার গ্রহণ করা না হয়।

২০০৯-১০ অর্থবছর থেকেই রাশিয়ায় বাংলাদেশের বাজার বড় হচ্ছে। এই বাজার অনিশ্চয়তায় পড়লেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজার স্থিতিশীল আছে বলে জানান ফারুক হাসান। তিনি বলেন, ইউরোপীয় বাজার কোনো ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে নেই, এখন পর্যন্ত সেখানে ব্যবসা আগের মতোই চলছে। বাংলাদেশ থেকে ২২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ইউরোপীয় দেশগুলোতে, যা বার্ষিক পোশাক রপ্তানির ৬৪ শতাংশ।

সানবিডি/এনজে