ফেমাস গ্রুপের ২টি প্রতিষ্ঠানের ‍বিরুদ্ধে ১৩.৩৪ কোটির ভ্যাট ফাঁকির মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশ: ২০২২-০৩-০২ ১৬:১২:২৪


এনবিআরের ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তর ফেমাস গ্রুপের দুইটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ৮০.২৮ কোটি টাকার গোপনকৃত বিক্রয় হিসাব আটক করেছে। এতে সরকারের প্রায় ১৩.৩৪ কোটি টাকার ভ্যাট ফাঁকি সংঘটিত হয়েছে মর্মে তদন্তে উদ্ঘাটিত হয়েছে।

ব্যবসায়িক গ্রুপটির ফেমাস প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ প্রতিষ্ঠানটি ৯৩, টঙ্গি শি/এ, টঙ্গি, গাজীপুর-১৭১০ এ অবস্থিত।এর মুসক নিবন্ধন নং- ০০০০০২২১১-০১০। অন্যটি ফেমাস আইবারকেম ফ্লেভারস এন্ড ফ্র্যাগনেন্সেস লি., ২০৮৯, কুনিয়া তারগাছ, গাজীপুর সদর, গাজীপুর এ অবস্থিত।এর মূসক নিবন্ধন নম্বর -০০০১৩১৫৭৭-০১০৩। প্রতিষ্ঠান দুটোর কর্পোরেট অফিস- ইসলাম লডস (২য় তলা), হাইজ-১৪, রোড-১৬/এ, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২।

প্রতিষ্ঠান দুটো মূলত খাদ্য সামগ্রীতে ব্যবহৃত কেমিকেল (ফ্লেভার) এবং বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোড়কের প্যাকেজিং সামগ্রী উৎপাদন ও সরবরাহ করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃত সেবা বিক্রির তথ্য গোপন করে চালান ব্যতিত সেবা সরবরাহ করে দীর্ঘ দিন যাবৎ সরকারের বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ফাঁকি দিয়ে আসছে মর্মে ভ্যাট গোয়েন্দা অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন।

এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংস্থার উপ-পরিচালক জনাব মোহাম্মদ সাজেদুল হক এবং জনাব মুনাওয়ার মুরসালীন, উপ-পরিচালক এর নেতৃত্বে গত ২৩/১১/২০২১ তারিখে প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্পোরেট অফিস- ইসলাম লডস (২য় তলা), হাইজ-১৪, রোড-১৬/এ, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২ এ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে গোয়েন্দার দল দেখতে পান, প্রতিষ্ঠানটি প্রকৃত ঘোষিত বিক্রয় তথ্য গোপন করে মাসিক দাখিলপত্রে প্রকৃত বিক্রয় তথ্য গোপন করে ভ্যাট ফাঁকি দিয়েছে।

অভিযানের শুরুতে কর্মকর্তাগণ প্রতিষ্ঠানের ভ্যাট সংক্রান্ত ও বাণিজ্যিক দলিলাদি প্রদর্শনের জন্য অনুরোধ করা হয়। এরপর প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে এবং প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটারে ধারণকৃত তথ্যাদি যাচাই করে সেবা বিক্রি সংক্রান্ত বাণিজ্যিক দলিলাদি লুকায়িত অবস্থায় আটক করা হয়।এসব তথ্য ভ্যাট দলিলাদির সাথে ব্যাপক অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়।

তদন্ত অনুসারে, ফেমাস প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং লিঃ প্রতিষ্ঠানটি জুলাই/২০১৬ হতে জুন/২০২১ পর্যন্ত সময়ে ব্যাংকিং তথ্য অনুসারে ৮৬৯,১০,৮১,৭২২ টাকার পণ্য বিক্রি করেছে।তবে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় গাজীপুর ভ্যাট সার্কেল-৫ এ মাসিক রিটার্নে ৮২৭,৯০,৭১,২৪৫ টাকা বিক্রিয় হিসাব প্রদর্শন করেছে।রিটার্ন ও প্রকৃত বিক্রয়ের পার্থক্য পাওয়া যায় ৫৩,৪৮,০৩,৫১২ টাকা।প্রকৃত বিক্রয় তথ্য গোপন করায় এক্ষেত্রে ৬,৯৭,৫৬,৯৮০ টাকা ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে।

এই ফাঁকির উপর ভ্যাট আইন অনুসারে মাস ভিত্তিক ২% হারে ২,৪১,৫৬,৮৩৫ টাকা সুদ প্রযোজ্য।

এছাড়া, ফেমাস আইবারকেম ফ্লেভারস এন্ড ফ্র্যাগনেন্সেস লি. প্রতিষ্ঠানটি জানুয়ারি/২০২০ হতে নভেম্বর/২০২১ পর্যন্ত সময়ে ৪৭,৩৮,৯২,৬৫১ টাকার পণ্য বিক্রি করেছে।

তবে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় ভ্যাট টঙ্গী সার্কেল-৪ এ মাসিক রিটার্নে ২০,৫৯,৩৭,২৩০ টাকা বিক্রিয় হিসাব প্রদর্শন করেছে।

রিটার্ন ও প্রকৃত বিক্রয়ের পার্থক্য পাওয়া যায় ২৬,৭৯,৫৫,৪২১ টাকা।প্রকৃত বিক্রয় তথ্য গোপন করায় এক্ষেত্রে ৩,৪৯,৫০,৭০৭ টাকা ভ্যাট ফাঁকি হয়েছে।

এই ফাঁকির উপর ভ্যাট আইন অনুসারে মাস ভিত্তিক ২% হারে ৪৫,৭৮,৮১৬ টাকা সুদ প্রযোজ্য।

বর্ণিত তদন্ত মেয়াদে প্রতিষ্ঠান দুইটির সর্বমোট অপরিশোধিত ভ্যাটের পরিমাণ ১০,৪৭,০৭,৬৮৭ টাকা এবং সুদ বাবদ ২,৮৭,৩৫,৬৫১ টাকাসহ সর্বমোট ১৩,৩৪,৪৩,৩৩৮ টাকা রাজস্ব পরিহারের তথ্য উদঘাটিত হয়।

আজ ফেমাস গ্রুপের দুইটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্যাট আইনে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তদন্তে পরিহারকৃত ভ্যাট আদায়ের আইনানুগ পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের জন্য প্রতিবেদন ঢাকা উত্তর ভ্যাট কমিশনারেটে প্রেরণ করা হয়েছে।

এসএ/এনজে