বিনিয়োগকারিদের হতাশায় কি পুঁজিবাজারে পতন!
:: আপডেট: ২০২২-০৩-০২ ২১:৪৪:৩৯
সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সূচকের পাশাপাশি কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর ও টাকার পরিমাণে লেনদেন।
দুই কার্যদিবস কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী থাকার পর দেশের শেয়ারবাজারে আবার বড় দরপতন হয়েছে। সেই সঙ্গে আশঙ্কাজনক হারে কমেছে লেনদেন। দেশের প্রধান শেয়ার বাজার ডিএসইতে আড়াই মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন লেনদেন হয়েছে।
পুঁজিবাজার বিশ্লেষক অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, বিনিয়োগকারিদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা কাজ করছে। এর প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজারে।
তিনি বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ এবং দ্রব্য মূল্যের উর্ধ্বগতি সহ বিভিন্ন কারনে বিনিয়োগকারিদেও মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে। এতে এক দিকে শেয়ারের দাম কমছে। একই সাথে লেনদেনও হ্রাস পাচ্ছে। শেয়ারের দাম কমলে লেনদেন হ্রাস পাবে এটি স্বাভাবিক ব্যাপার বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, তবে যেহেতু অব্যাহত ভাবে শেয়ারের দর কমেছে আবার লেনদেনও হ্রাস পাচ্ছে সেহেতু নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত।
তিনি বলেন, ‘পুঁজিবাজারে এখনও ভালো আছে। কারন সূচক এক দিন কমলে অপরদিন আবার বাড়ছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত না হয়ে যেসব কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে সেগুলোতে বিনিয়োগের চিন্তা করা উচিত।
বুধবার (০২ মার্চ) শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হয় প্রায় সবকটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। এতে লেনদেন শুরুর ১০ মিনিটের মধ্যে ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ১৮ পয়েন্ট বেড়ে যায়।
এরপর অবশ্য সূচকের এ ঊর্ধ্বমুখী ধারা ধরে রাখতে পারেনি। সময়ের সাথে দর পতনের পাল্লা ভারী হয়েছে। ফলে সবকটি সূচকের পতন দিয়ে লেনদেন শেষ হয়েছে।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে ৫৮টি প্রতিষ্ঠান দাম বাড়ার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ২৮৮টির এবং ৩৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এতে দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ৫৩ পয়েন্ট কমে ছয় হাজার ৬৯৯ পয়েন্টে উঠে নেমে গেছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ্ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১০ পয়েন্ট কমে এক হাজার ৪৪৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বাছাই করা ভালো কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক ১৯ পয়েন্ট বেড়েছে দুই হাজার ৪৭০ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
দিনভর ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৬৫৬ কোটি ৬ টাকা, যা গত বছরের ২১ ডিসেম্বরের পর সর্বনিম্ন। ২০২১ সালের ২১ ডিসেম্বর ৬৫২ কোটি টাকার লেনদেন হয়। এরপর ডিএসইতে আর এত কম লেনদেনে হয়নি।
লেনদেন কমার দিনে ডিএসইতে টাকার অঙ্কে সব থেকে বেশি লেনদেন হয়েছে বেক্সিমকোর শেয়ার। কোম্পানিটির ১১০ কোটি ২৬ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছ। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ২২ কোটি ৬৬ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। ১৭ কোটি ৮ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ব্রিটিশ আমেরিকা টোব্যাকো।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কমিশনার অধ্যাপক শেখ সামসুদ্দিন আহমেদ বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছে। তবে বিভিন্ন কারণে বাজার এমন হতে পারে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে কারেকশনের ডাইমেনশন। আর দ্বিতীয়টি হলো- কিছু ক্ষেত্রে পলিসির পরিবর্তন। সেগুলো মার্কেটকে ডি-প্রাইভ করছে।
তিনি বলেন, এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন রাজস্ব নীতি, মুদ্রানীতি ও পুঁজিবাজার নীতি। এই তিনটি নীতি সুসংগঠিত করতে পারলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। বিনিয়োগকারীদের অবস্থার পরিবর্তন হবে।
পুঁজিবাজারের সব খবর পেতে জয়েন করুন
Sunbd News–ক্যাপিটাল নিউজ–ক্যাপিটাল ভিউজ–স্টক নিউজ–শেয়ারবাজারের খবরা-খবর






সানবিডি২৪ এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন













